৬৪ বছরের নিয়ম ফেল! সিন্ধু চুক্তি নিয়ে ভারত, পাকিস্তানের মধ্যে নয়া প্যাঁচ

Published:

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: সিন্ধু জল বন্টন চুক্তি (Indus Waters Treaty) নিয়ে বিবাদ অব্যাহত ভারত (India) এবং পাকিস্তানের। গত বছর পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার পরই এই বিশেষ চুক্তি স্থগিত করে দিয়েছিল নয়া দিল্লি। আর তারপর থেকেই নানাভাবে নরমে গরমে ভারতকে এই জলচুক্তি পুনর্বহাল করার আবেদন জানায় পাকিস্তান (Pakistan)। কিন্তু সেই অনুরোধে চিরে ভেজেনি। ভারত সরকার পুরনো অবস্থান থেকে এক চুলও পিছিয়ে আসেনি আজ পর্যন্ত। এমতাবস্থায়, ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সিন্ধু জলচুক্তি নিয়ে বড় মন্তব্য করলেন ইন্ডিয়ান সোসাইটি অফ ইন্টারন্যাশনাল ল-এর আন্তর্জাতিক পরিবেশ আইনের সহকারি অধ্যাপক আনোয়ার সাদাত।

ভারত এবং পাকিস্তানের জলচুক্তির আর কোনও মূল্যই নেই?

1960 সালে বিশ্ব ব্যাঙ্কের মধ্যস্থতায় ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয় সিন্ধু জল বন্টন চুক্তি। এবার সেই চুক্তি নিয়েই দ্য হিন্দুতে আনোয়ার সাদাত লিখেছেন, “এই চুক্তিকে শুধুমাত্র জল ভাগাভাগির চুক্তি হিসেবে না দেখে যৌথ ব্যবস্থাপনা হিসেবে দেখার সময় এসেছে।” ওই অধ্যাপক মনে করেন, ভাগ করা জলসম্পদের জন্য একটি বাধ্যতামূলক নীতি হিসেবে ন্যায্য এবং যুক্তিসংগত ব্যবহার গ্রহণ করার পক্ষে সমর্থনের যথেষ্ট অভাব রয়েছে।

আনোয়ার সাদাত মনে করেন, 1960 সালে সেই সময় কার জলপ্রবাহ এবং জলবায়ুর তথ্যের উপর ভিত্তি করে এই চুক্তি হয়েছিল। তবে বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হিমবাহের গলন, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত এবং খরার মতো পরিস্থিতির কারণে প্রভাবিত হচ্ছে নদীগুলির জলপ্রবাহ এবং জলের গুণমান। ফলে পুরনো চুক্তির কাঠামোকে আর পুরোপুরি কার্যকর হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে না। এমন বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে তিনি একপ্রকার বোঝাতে চেয়েছেন, ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে যে চুক্তি হয়েছিল বর্তমানে তার কোনও মূল্যই নেই!

আরও পড়ুন: মা-বাবাকে অসম্মান করলেই সম্পত্তির অধিকার হারাবে সন্তান, ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত রাজ্য সরকারের

ওই অধ্যাপক আমেরিকা-কানাডা, আমেরিকা-মেক্সিকো এবং নীল নদীর জলচুক্তির উদাহরণ তুলে ধরে বর্তমান জলবায়ু এবং জলপ্রবাহ পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যেকার সিন্ধু জল বন্টন চুক্তিটিও সংশোধন করে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর কথায়, “বর্তমান জলবায়ু এবং দুই দেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতি বা প্রয়োজনের কারণে 1960 সালে স্বাক্ষরিত চুক্তিটিকে নতুন করে সংশোধন বা আপডেট করা প্রয়োজন।