প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ভুয়ো নথি ও শংসাপত্রের (Fake Certificate) মাধ্যমে বিদেশে ৫৫৫ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ উঠল দুই চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টের বিরুদ্ধে। আর এই গোপন তথ্য ফাঁস হতেই ফুলবাগানের দপ্তরে হানা দেয় আয়কর দপ্তর (Income Tax Raid), চিরুনি তল্লাশির মাধ্যমেই উদ্ধার হয় নানা জাল নথি। শুধু তাই নয়, আয়কর দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, এই দুই চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট নাকি আসলে ভাই বোন। তদন্তে নামল পূর্ব কলকাতার ফুলবাগান থানার পুলিশ।
বিদেশে টাকা পাচারের অভিযোগ
প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, গত সপ্তাহেই ফুলবাগানের কাঁকুড়গাছিতে কাদাপাড়া অঞ্চলের একটি সিএ ফার্মে আয়কর দপ্তরের আধিকারিকরা হানা দিয়েছিল। জানা গিয়েছে, ওই সিএ ফার্মটির কর্মকর্তা দুই চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট, সম্পর্কে ভাই-বোন। তাঁরা দিনের পর দিন বিপুল টাকা তছরুপ করে বিদেশে পাচার করে চলেছে, আর সেই খবর গোপন সূত্রে পেতেই আধিকারিকরা ওই অফিসে তল্লাশি চালিয়েছিল। সেখান থেকে প্রচুর নথি উদ্ধার করা হয়েছিল যার মধ্যে ছিল বেশ কিছু শংসাপত্র, যেগুলির মাধ্যমে টাকা পাঠানো হয়েছে বিদেশে।
৫ বছর ধরে চলছিল কারচুপি
তদন্তকারী আধিকারিকদের তরফে ভাই ও বোন, দুই চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টকে একাধিক জেরা করায় তাঁরা স্বীকার করেন যে, কোনও বুক অফ অ্যাকাউন্ট বা প্রেরকের নথি পরীক্ষা না করেই তাঁরা ভুয়ো শংসাপত্র ইস্যু করেছেন। আর তারই ভিত্তিতে ২০২১ সাল থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে ৫৫৫ কোটি ৪৪ লাখ ৫২ হাজার ৯৫১ টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে। তবে এই চক্রে শুধু দুজন যে জড়িত তা নয়, অনুমান করা হচ্ছে আরও অনেকে এই কাণ্ডে জড়িত রয়েছে। তাই তাদেরও গ্রেফতারির প্রয়োজন তুলে এই মর্মেই এক আয়কর কর্তা ফুলবাগান থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।
আরও পড়ুন: ‘দিমাগি নকশালদের ছাড়বে না বিজেপি সরকার’, যাদবপুর নিয়ে বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
আয়কর কর্তাদের মতে, বিদেশে টাকা পাঠানোর ব্যাপারে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক বেশ কয়েকটি গাইডলাইন চালু করেছে। যেখানে বলা হয়েছে সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ককে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টকে শংসাপত্র দিতে হবে। আর সেক্ষেত্রে যিনি টাকা পাঠাচ্ছেন ও যাঁর কাছে টাকা পাঠানো হচ্ছে, তাঁদের চুক্তি, অন্যান্য নথি, বুক অফ অ্যাকাউন্ট, যে টাকা পাঠানো হচ্ছে, তার ভিত্তিতে কত টাকা কর প্রদান করতে হবে, প্রত্যেকটি বিষয় দেখতে হয় চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টকে। কিন্তু ফুলবাগানের ওই সিএ ফার্মে ভুয়ো শংসাপত্র দিয়েই টাকার লেনদেন করা হত বিদেশে। যার ফলে অর্থনৈতিক দিক থেকে দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।










