বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: সমুদ্রে নতুন খেলা শুরু করল চিন! মূলত দক্ষিণ চিন সাগরে (South China Sea), নিজেদের সামরিক নজরদারি এবং প্রতিরক্ষা ক্ষমতা বাড়াতে চিন প্যারাসেল দ্বীপপুঞ্জের কাছে অ্যান্টিলোপ রিফ ও ইয়াগং দ্বীপের পার্শ্ববর্তী এলাকায় নতুন করে একটি সম্পূর্ণ কৃত্রিম দ্বীপ এবং সামরিক স্থাপনা তৈরি করছে বলেই সূত্রের খবর। ড্রাগনের (China) তরফে এ প্রসঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো না হলেও স্যাটেলাইট চিত্র সরবরাহকারী সংস্থা ভ্যান্টেজের দাবি, ইয়াগং দ্বীপে গত মার্চ মাস থেকেই চিনের নির্মাণকার্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সংস্থাটির তরফে গত 17 আগস্ট তোলা একটি ছবিও প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে সামরিক রাডার এবং আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থার মতো কিছু একটা দেখতে পাওয়া যাচ্ছে।
সমুদ্রে আধিপত্য বিস্তার করতে চাইছে চিন!
স্যাটেলাইট চিত্র সরবরাহকারী সংস্থাটি যে ছবি প্রকাশ করেছে তা থেকে একটা বিষয়ে কিছুটা হলেও স্পষ্ট তা হল, নতুন করে কৃত্রিম দ্বীপ তৈরি করে সেখান থেকে সমুদ্র এবং আকাশে দূরের কোনও জাহাজ বা বিমানের গতিবিধির উপর নজর রাখতে চাইছে ড্রাগন। এখানেই শেষ নয়, ইয়াগং দ্বীপের কাছে যে অংশে নির্মাণকার্যের ছবি ধরা পড়ছে সেই অ্যান্টিলোপ রিফে প্রায় 6 কিলোমিটার লম্বা একটি কৃত্রিম দ্বীপ তৈরি করে ফেলেছে শি জিনপিং-র দেশ।
বিশেষজ্ঞ মহলের অনেকেই মনে করছেন, ওই কৃত্রিম দ্বীপেই ভবিষ্যতে এয়ারস্ট্রিপ বা বিমানের ওঠানামার সুব্যবস্থা করতে পারে ড্রাগন। বলে রাখা প্রয়োজন, ইয়াগং দ্বীপ থেকে মাত্র 14 কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত অ্যান্টিলোপ রিফ। আর এই দুটিই প্যারাসেল দীপ ও ক্রিসেন্ট গ্রুপের অংশ। দক্ষিণ চিন সাগরে চিনের এমন তৎপরতার কারণে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, ইয়াগং দ্বীপের রাডার এবং সামরিক নজরদারি ব্যবস্থা ভবিষ্যতে অ্যান্টিলোপ রিফের সাথে জুড়ে যেতে পারে।
আরও পড়ুন: ভয়ঙ্কর হড়পা বানের কবলে নেপাল, ভেসে গেল বহু গ্রাম! মৃত বহু
কূটনৈতিক মহলের অনেকেই মনে করছেন, দক্ষিণ চিন সাগরে নিজেদের আধিপত্য কায়েম করতে এবং আমেরিকা সহ অন্যান্য পার্শ্ববর্তী দেশগুলির জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করতেই এমন পদক্ষেপ নিচ্ছে ড্রাগন। এ নিয়ে অবশ্য আনুষ্ঠানিকভাবে কিছুই জানা যায়নি। সিঙ্গাপুরের নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ কলিন কোহ জানিয়েছেন, চিনের কৃত্রিম দ্বীপ একটি স্বাধীন পর্যবেক্ষণ চৌকিও হতে পারে। কিন্তু প্রকাশ্যে আসা ছবি থেকে যা বোঝা যাচ্ছে তাতে এটি চিনের রাডার স্টেশন হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।।










