স্কুলে এবার ‘সংস্কৃত দিবস’ পালন বাধ্যতামূলক? বিজ্ঞপ্তি জারি স্কুল শিক্ষা দফতরের

Published:

Government School

সহেলি মিত্র, কলকাতা: এবার সরকারি স্কুলগুলিতে (Government School) পালন হবে ‘সংস্কৃত দিবস’! এই বিষয়ে স্কুলগুলির উদ্দেশ্যে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে নবান্ন। সেই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ২৫ থেকে ৩১ আগস্ট রাজ্যে ‘সংস্কৃত দিবস’ পালন করা হবে। মূলত স্কুল শিক্ষা দফতরের তরফে এই উদ্যোগটি নেওয়া হয়েছে। যদিও এই বিশেষ দিনটিকে পালন করা নিয়ে সরকারের বিজ্ঞপ্তি ঘিরে জোর তরজা শুরু হয়েছে। প্রশ্ন তুলেছে শিক্ষা মহল।

স্কুলে এবার ‘সংস্কৃত দিবস’ পালনের নির্দেশ নবান্নের

বিজ্ঞপ্তিতে সাফ লেখা রয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত সরকারি, প্রাথমিক বিদ্যালয় সহ সরকার পোষিত বিদ্যালয়ে ২৫- ৩১ আগস্টের মধ্যে যে কোনো একদিন “সংস্কৃত দিবস” পালন করতে হবে। জেলায় জেলায় DI-দের কাছে নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে বলে খবর। এই বিষয়ে এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার তরফে দক্ষিণবঙ্গের সম্পাদক সন্তু দত্ত জানান, ‘বহু দশক আগেই কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে রাখিবন্ধনের দিনটিকে সংস্কৃত দিবস এবং তার আগের ও পরের তিনটি দিন সংস্কৃত সপ্তাহ হিসেবে পালন করার নির্দেশ দেওয়া হয়। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে এই সপ্তাহ পালন হলেও পশ্চিমবঙ্গে হয় না। অথচ, এ রাজ্যেই রয়েছে নবদ্বীপ। সে কারণে সরকারের কাছে আবেদন করা হয়েছিল যে সরকারি, সরকারপোষিত ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলে অন্তত একদিন করে যেন পালন করা হয়। সরকার সেই আবেদন রাখায় খুশি তিনি। তাঁর কথায়, ‘বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিক্ষিপ্ত ভাবে সংস্কৃত দিবস পালন হতই, কিন্তু কখনই সরকারি ভাবে সেটা পালিত হয়নি। স্বাধীনতার পরে এই প্রথম এই রাজ্যের সরকার এ রকম কোনও নির্দেশ দিল।’

প্রশ্ন তুললেন শিক্ষকরা

সরকারের এই নির্দেশ বিষয়ে বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্য, ‘সংস্কৃত চর্চার প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু সরকারি নির্দেশ জারি করে একের পর এক দিন পালনের আদৌ কোনও যৌক্তিকতা রয়েছে কি না জানি না। এ দিকে শিক্ষাদিবস কমছে। পঠনপাঠনের পরিবর্তে শিক্ষকেরা ব্যস্ত জনগণনায়। এ সবের উত্তর কে দেবে?’

সংস্কৃত দিবস কেন পালন করা হয়?

বিশ্বের প্রাচীনতম ভাষা সংস্কৃতের প্রচারের জন্য বিশ্ব সংস্কৃত দিবস উদযাপন করা হয়। এই দিনে মহান সংস্কৃত পণ্ডিত ও ব্যাকরণবিদ পাণিণীর জন্মবার্ষিকীও স্মরণ করা হয়। সংস্কৃত ‘দেব বাণী’ অর্থাৎ দেবতাদের ভাষা নামেও পরিচিত। হিন্দুধর্মে সংস্কৃত ভাষার একটি বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে, কারণ বেদ, উপনিষদ এবং ভগবদ্গীতার মতো অনেক হিন্দু ধর্মগ্রন্থ সংস্কৃত ভাষায় রচিত হয়েছে। বিশ্ব সংস্কৃত দিবসের ইতিহাস সম্পর্কে বললে, এটি ১৯৬৯ সাল থেকে শুরু হয়। তখন তৎকালীন ভারত সরকার সংস্কৃত ভাষা ও ভাষাতত্ত্বের ক্ষেত্রে পাণিণীর মহান অবদানকে স্মরণীয় করে রাখতে বিশ্ব সংস্কৃত দিবস উদযাপনের ঘোষণা করে।