মা-বাবাকে অসম্মান করলেই সম্পত্তির অধিকার হারাবে সন্তান, ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত রাজ্য সরকারের

Published:

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: পিতা-মাতার সম্পত্তির (Property New Rule) উপর সন্তানদের অধিকার নিয়ে এবার বিরাট সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার (State Government)। মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে রাজ্যের মন্ত্রিসভার বৈঠকে গৃহীত হয়েছে এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত। মন্ত্রিসভা পিতা মাতা ও প্রবীণ নাগরিকদের ভরণপোষণ ও কল্যাণ বিধিমালা 2014 এর সংশোধনীতে অনুমোদন দিয়েছে। এর ফলে নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এবার থেকে যদি কোনও সন্তান তাঁর বাবা মায়ের সাথে খারাপ আচরণ করেন কিংবা তাঁদের দায়িত্ব নিতে অস্বীকার করেন সেক্ষেত্রে তিনি পিতা মাতার সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হবেন!

বাবা মাকে অসম্মান করলে সম্পত্তির অধিকার হারাবে সন্তান

সাম্প্রতিক সময়ে প্রবীণ নাগরিকদের উপর ঘটে চলা সন্তানদের অমানবিক সব কর্মকাণ্ডের উপর নজর রেখে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে উত্তরপ্রদেশের যোগী আদিত্যনাথ সরকার। সদ্য মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে উত্তর প্রদেশ পিতা-মাতা ও প্রবীণ নাগরিকদের ভরণপোষণ এবং কল্যাণ বিধিমালা 2014 এর সংশোধনীকে।

এ প্রসঙ্গে, উত্তরপ্রদেশের অর্থমন্ত্রী সুরেশ খান্না জানিয়েছেন, এই বিধিমালার 22 নম্বর ধারার অধীনে নতুন বিধান হিসেবে বিধি 22 এ, 22বি এবং 22সি সংযুক্ত করা হবে। উত্তরপ্রদেশ সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, রাজ্যের প্রবীণ নাগরিকদের স্বার্থ ও অধিকার সুরক্ষিত করা এবং তাঁদের একটি মর্যাদাপূর্ণ জীবন উপহার দেওয়ার লক্ষ্যেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই বিশেষ বিধি অনুযায়ী, এবার থেকে যদি সন্তানরা তাঁদের বাবা-মায়ের দায়িত্ব নিতে অস্বীকার করেন কিংবা বাবা মাকে অপমান করেন, সে ক্ষেত্রে পিতা-মাতা সংশ্লিষ্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে গিয়ে অভিযোগ জানাতে পারবেন।

 

আরও পড়ুন: কৃত্রিম দ্বীপ বানিয়ে অন্যদের উপর নজরদারি, সমুদ্রে নতুন খেলা শুরু চিনের!

এখানেই শেষ নয়, অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর নির্দিষ্ট আইনের অধীনেই বাবা মায়ের সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হবেন অভিযুক্ত সন্তানরা। সরকারের তরফে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, সন্তানদের কাছ থেকে দুর্ব্যবহার পেলে বাবা মায়েরা সরাসরি সংশ্লিষ্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে গিয়ে অভিযোগ দায়ের করতে পারেন। পরবর্তীতে সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই 30 দিনের মধ্যে ব্যবস্থা নিতে হবে জেলাশাসককে। শুধু তাই নয়, সমস্ত অভিযোগ শোনার পর সেইসব অভিযোগ লিখিত আকারে সরকারের কাছে রিপোর্ট হিসেবে জমা দিতে হবে DM-কে। এও জানা যাচ্ছে, যে সমস্ত বয়স্ক ব্যক্তিরা জেলা শাসকের অফিসে গিয়ে অভিযোগ জানাতে পারবেন না তাঁদের জন্য চালু করা হচ্ছে হেল্পলাইন নম্বর। সেই নম্বরেই কল করে অভিযোগ জানানো যাবে।