অনন্যা সরকার, বিহার: প্রায় সব সাধারণ মধ্যবিত্ত বাড়িতেই বাল্ব, ফ্যান, কুলার এবং রেফ্রিজারেটরের মতো বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতিগুলি থাকে। এর মধ্যে দুটি বাল্ব এবং একটা ফ্যানের জন্য মাসিক বিল (Electric Bill) সাধারণত ২০০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে থাকে। তবে বিহারের এক ব্যক্তির কাছে বিদ্যুৎ বিভাগ দুটি বাল্ব এবং একটি ফ্যানের জন্য প্রায় ২৭ লক্ষ টাকার বিল পাঠিয়েছে, যা দেখে চক্ষু চড়কগাছ গোটা পরিবারের।
আসলে কী ঘটেছে?
রিপোর্ট অনুযায়ী, বিহারের নওয়াড়া জেলার রাজাউলি থানা এলাকার তাকিয়ার বাসিন্দা কুন্দন কুমার তার বাড়ির ব্যবহার্য বিদ্যুতের অনলাইন বিলের টাকার অঙ্ক দেখে কার্যত হতবাক হয়ে গিয়েছেন। কেননা বিলটিতে দেখা যাচ্ছে যে তাঁকে বিদ্যুতের খরচ বাবদ ২৭ লক্ষ ২ হাজার ৮৯৮ টাকা পরিশোধ করতে হবে। আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল কুন্দন জানান, তার বাড়িতে মাত্র দুটি ঘর, যেখানে গ্রীষ্মে দুটি বাল্ব ও একটি স্ট্যান্ড ফ্যান চলে। বাড়িতে এসি বা এমন কোনও ইলেক্ট্রনিক্স নেই, যা বেশি বিদ্যুৎ খরচ করতে পারে।
কুন্দন বলেন, এর আগেও তিনি ৭৫৩ টাকার বিদ্যুৎ বিল পেয়েছিলেন। সেই সময় তিনি বিদ্যুৎ বিভাগে অভিযোগ করেছিলেন। এখন, হঠাৎ করে লক্ষ লক্ষ টাকার বিল আসায় তিনি ও তার গোটা পরিবার উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। বিলের পরিমাণ দেখে রীতিমত অবাক কুন্দন, তিনি বলেন এত বড় অঙ্কের বিল পরিশোধ করার মতো আর্থিক অবস্থা তাদের নেই।
আরও পড়ুন: SIR-এ বড় অসঙ্গতি! ৯১% ভোটারের নাম ফেরাল ট্রাইব্যুনাল
কুন্দনের কথায়, সরকার ২০০ ইউনিট পর্যন্ত বিনামূল্যে বিদ্যুৎ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা গরীব পরিবারগুলোকে স্বস্তি দিয়েছিল। কিন্তু এত পরিমাণ বিল আসায় তাঁর দুশ্চিন্তা আরও বেড়ে গেছে। তিনি বিদ্যুৎ বিভাগকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তদন্ত করে বিলের এই সমস্যাটি মেটানোর দাবি জানিয়েছেন। বিদ্যুৎ বিভাগের জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার লিখিত অভিযোগ পেয়ে তদন্ত, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিল সংশোধনের আশ্বাস দিয়েছেন। তবে বিদ্যুৎ বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তারা এবিষয়ে কোনও স্পষ্ট মন্তব্য করেননি।
আরও পড়ুন: ফের বাড়ল ডিমের দাম, এবার কতটা? মহার্ঘ্য হতে পারে মুরগির মাংসও
এই ঘটনাটি বিদ্যুৎ বিলিং ব্যবস্থাকে গুরুতর প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, যদি দুটি বাল্ব ও একটি ফ্যান চালানোর জন্য একটি গরীব পরিবারকে লক্ষ লক্ষ টাকার বিল পাঠানো হয়, তাহলে বিলিং ও মিটার রিডিং ব্যবস্থার তদারকির ক্ষেত্রে গুরুতর গাফিলতি রয়েছে বিদ্যুৎ দফতরের, যা অবিলম্বে সংশোধন করা উচিত। নাহলে এরকমভাবে আরও পরিবারকে ভোগান্তির শিকার হতে হবে। কুন্দন কুমার ও তাঁর পরিবার এখন এই অস্বাভাবিক বিলের ওপর বিভাগীয় তদন্ত এবং একটি সংশোধিত বিলের অপেক্ষা করছেন।










