প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: এবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের (Jadavpur University) ছাত্র সংঘর্ষের ছায়া পড়ল বারাসতে (Barasat)। রাখি বন্ধনের অনুষ্ঠানের আয়োজনকে ঘিরে বারাসত বিশ্ববিদ্যালয়ে (Barasat University) তুমুল সংঘর্ষের অভিযোগ উঠল ABVP এবং TMCP-র বিরুদ্ধে। আর এই হামলা পাল্টা হামলায় আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি এবিভিপির দুই সদস্য। রাতারাতি ঘটনার খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হাজির হয়েছিল দত্তপুকুর থানার পুলিশ। অভিযোগের ভিত্তিতে চলছে তদন্ত।
ঠিক কী ঘটেছিল?
প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, গতকাল মঙ্গলবার, সন্ধ্যায় বারাসত বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের স্নাতকোত্তর বিভাগের প্রথম বর্ষের এক ছাত্র অরূপ বিশ্বাসকে ঘিরে শুরু হয় মতবিরোধ। ABVP-র দাবি, কথা বলার অছিলায় ওই ছাত্রকে হস্টেলে ডেকে মারধর করে আলতাফ নামে TMCP-র এক সদস্য। আর এই খবর পেয়ে এবিভিপির ছাত্ররা হস্টেলে পৌঁছয় এবং বাকবিতণ্ডা থেকেই দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। আর এই ঘটনায় রীতিমত চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি তৈরি হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে। তড়িঘড়ি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দত্তপুকুর থানার বিশাল পুলিশবাহিনী মোতায়েন করে। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিরাও ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন।
চাঞ্চল্যকর অভিযোগ ABVP-র
ABVP-র বারাসত নগর সম্পাদক প্রীতম পাঠক বলেন, “অরূপকে কথা বলার নাম করে প্রথমে মারধর করা হয়। পরে আমরা হস্টেলে গেলে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের কর্মীরা আমাদের ছাত্রদের মারধর করে। আসলে আমরা এখানে একটা রাখিবন্ধন উৎসবের আয়োজন করছিলাম। তার জন্য প্রয়োজনীয় অনুদানের আবেদনে উপাচার্য সই করে দিয়েছেন। এতেই ওদের আপত্তি। এবিভিপি কেন রাখির জন্য টাকা পাবে? কেন টিএমসিপি পাবে না? এই নিয়েই ওরা আমাদের উপর চড়াও হয়। অরূপ ও আমাদের আরেক সদস্য গুরুতর জখম হয়েছে।”
পাল্টা অভিযোগ হোস্টেলের ছাত্রদের
এদিকে ABVP-র অভিযোগ অস্বীকার করছে TMCP-র সদস্যরা। এমনকি হোস্টেলের বাকি ছাত্রদের দাবি, “আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ ছাত্র। কোনও দলে নেই। এবিভিপি হস্টেলে ঢুকে আমাদের মারধর করেছে। আমাদের ১০-১২ জন ছাত্র জখম হয়েছে।” জানা গিয়েছে, দু’পক্ষের হামলায় ABVP -র দুই সদস্য গলায় ও ঘাড়ে আঘাত নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছে। গেরুয়াপন্থী ছাত্র সংগঠনের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তৃণমূল এমন জঙ্গিদের মতো কার্যকলাপ চলবে, সেখানে ঘরে ঢুকে শিক্ষা দেওয়া হবে।”
আরও পড়ুন: ১ ফ্যান ও ২টি বাল্বের জন্য ইলেকট্রিক বিল ২৭ লক্ষ টাকা, মাথায় হাত গরীব পরিবারের
প্রসঙ্গত, দুই পক্ষই পুলিশের কাছে পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছে এবং অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এই প্রসঙ্গে জেলা পুলিশ সুপার জে মার্সি বলেন, ‘কী কারণে সংঘর্ষ হয়েছে, তা ভাইস চ্যান্সেলরের কাছ থেকে জানার চেষ্টা করছে পুলিশ। বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’










