প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: মৃতদেহের অস্থি নিয়েও চরম জালিয়াতি! হাড়হিম করা ভয়ংকর ঘটনা ঘটল দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিংয়ে (Canning)! অভিযোগ উঠছে মোটা টাকার বিনিময়ে ক্যানিংয়ের ‘বৈতরণী শ্মশান’ (Baitarani Cremation Ground) —এ মৃতদেহ সৎকারের পর পরিবারের হাতে আসল অস্থির বদলে নাকি তুলে দেওয়া হচ্ছিল পুড়িয়ে নেওয়া নকল মাংসপিণ্ডের টুকরো। আর এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই তুমুল শোরগোল শ্মশান চত্বরে। ঘটনার তদন্তে নামতেই পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন সেখানকার ডোম গোবিন্দ সর্দার।
বিতর্কের শিরোনামে বৈতরণী শ্মশান
বিগত কয়েক বছর ধরে একের পর এক নোংরা জালিয়াতির ঘটনা যেন জড়িয়ে রয়েছে বাংলায়। আর এবার সেই জালিয়াতির ছায়া দেখা গেল ক্যানিংয়ের শ্মশানে। প্রায় ৫ বছর আগে করোনা আবহে ক্যানিংয়ের মাতলা নদীর তীরে গড়ে উঠেছিল ‘বৈতরণী শ্মশান’। আর সেই শ্মশানের দায়িত্বে ছিলেন গোবিন্দ সর্দার ও গোপাল সর্দার নামে দুই ডোম। আশেপাশের বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ এখানে মৃতদেহ সৎকার করতে আসতেন। আর এই নিয়ে বেআইনিভাবে রমরমিয়ে চলত প্রতারণার ব্যবসা। অভিযোগ, মৃতদেহের অস্থি পাওয়ার জন্য মৃতের আত্মীয়দের কাছে মোটা টাকা নিয়েও দেওয়া হত না আসল চিতাভস্ম।
অস্থি নিয়েও জালিয়াতি!
নিয়ম অনুযায়ী হিন্দু ধর্মে শবদাহের পর মৃতের অস্থি সংগ্রহ করে গঙ্গায় বিসর্জন দিতে হয়। কিন্তু গোপাল সর্দার মৃতের পরিবারকে আসল অস্থি দিতেন না। পরিবারকে রীতিমত ডোমের কাছে হাতজোড় করতে হত এবং চারশো-পাঁচশো টাকা না দিলে মিলত না চিতাভস্ম। এমনকি টাকা পেলেও স্বজনহারা পরিবারের হাতে আসল অস্থির বদলে তুলে দেওয়া হত পুড়িয়ে নেওয়া নকল মাংসপিণ্ডের টুকরো! এমনকি অপর আরেক ডোম গোবিন্দ সর্দার এই কাজ করতে বারণ করলেও তিনি কথা শোনেননি। শেষে গোবিন্দের এই সন্দেহজনক কার্যকলাপ ধরা পড়ে যায় স্থানীয়দের কাছে। পুরো ঘটনার ভিডিয়ো রেকর্ড করে পুলিশকে দেখালে গ্রেফতার করা হয় গোপালকে।
আরও পড়ুন: বারুইপুরে ইন্দ্রজিতের বাড়িতে মুখ্যমন্ত্রী, আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি নিহতের দাদাকে চাকরি
প্রসঙ্গত অস্থি জালিয়াতির অভিযোগ উঠতেই ক্যানিং থানার পুলিস তড়িঘড়ি বৈতরণী শ্মশানে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত ডোমকে আটক করে। এবং এই চক্রের পেছনে আর কেউ জড়িত আছে কি না, তা জানতে পুলিস তদন্ত শুরু করেছে। এমনকি জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে আরেক ডোম গোবিন্দ সর্দারকে। এখন দেখার এর পিছনে কোনও রাজনৈতিক যোগ রয়েছে কিনা।










