এক দশকের অপেক্ষার অবসান, DA বৃদ্ধির পর শিক্ষকদের জন্য আরেকটি ঘোষণা

Published:

Education Teacher

সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ নতুন অর্থমন্ত্রীর ঘোষণায় কপাল খুলেছে বাংলার বহু শিক্ষকের। বিজেপি সরকারের প্রথম বাজেটে (West Bengal Budget 2026) অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত রাজ্য সরকারি কর্মী ও শিক্ষকদের জন্য ২০% DA বৃদ্ধির ঘোষণা করেছিলেন। পাশাপাশি তিনি স্কিল এডুকেশন শিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধির (Skill Education Teacher Salary Hike) ঘোষণা করেছেন। এদিকে দীর্ঘ ১৩ বছর এরকম ঘোষণায় বেজায় খুশি সকলে। গত বৃহস্পতিবার বিধানসভায় স্বপন দাশগুপ্ত জানান যে রাজ্যের তরফে কারিগরি শিক্ষকদের যে সাম্মানিক দেওয়া হয় তা ২০০০ টাকা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ব্যস এই এক ঘোষণায় মুখে কিছুটা হলেও হাসি ফুটেছে অনেক শিক্ষকের। যদিও শিক্ষকদের এখনও অবধি কিছু দাবি পূরণ হয়নি বলে খবর

দীর্ঘ ১৩ বছর পর বেতন বৃদ্ধি হল এই শিক্ষকদের

এই প্রসঙ্গে বড় মন্তব্য করেছেন, স্কিল এডুকেশন বিভাগের শিক্ষকদের সংগঠন ইউনাইটেড ওয়েস্টবেঙ্গল এনএসকিউএফ (ন্যাশনাল স্কিল কোয়ালিফিকেশন ফ্রেমওয়ার্ক) টিচার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নিরুপম কোলে। তিনি জানান, ‘বৃহস্পতিবার বিধানসভায় রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত জানিয়েছেন রাজ্যের তরফে প্রদেয় সাম্মানিকে ২০০০ টাকা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। প্রায় ১৩ বছর পরে তাঁদের বেতন সামান্য হলেও বৃদ্ধি হচ্ছে। সব দাবি অবশ্য পূরণ হয়নি। উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে রাজ্যের স্কুলগুলিতে ১৬টি বৃত্তিমূলক বিষয় পড়ানো হয়। জাতীয় শিক্ষানীতি অনুযায়ী, এই শিক্ষা পুরোপুরি স্কুলশিক্ষা দফতরের অধীনেই হওয়ার কথা। কিন্তু তৃণমূল সরকার সেই নিয়ম লঙ্ঘন করে গোটা বৃত্তিমূলক শিক্ষাব্যবস্থাকে কারিগরি শিক্ষা দফতরের অধীনে নিয়ে যায়।

আরও পড়ুনঃ আন্তর্জাতিক মানের বিজ্ঞানী ও প্রযুক্তিবিদদের বাংলায় আনতে মোটা বরাদ্দ নবান্নর

নিরুপম কোলের আরও অভিযোগ, “তৎকালীন সরকার নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্যে নিয়ম লঙ্ঘন করেছিল। গত ১৩ বছরে এক টাকাও বেতন বৃদ্ধি হয়নি। উপরন্তু, এজেন্সির মাধ্যমে নিয়োগ হওয়ায় সামান্য বেতনও আমরা পাই অনিয়মিত।” যাইহোক, অর্থমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, শুধু কলেজের শিক্ষক নন, বৃত্তিমূলক শিক্ষকরাও প্রতি মাসে ২,০০০ টাকার অনুরূপ বেতন বৃদ্ধি পেয়েছেন। সরকারের এই পদক্ষেপটিকে শিক্ষা খাতে কর্মরতদের জন্য একটি ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা তাদের আর্থিক অবস্থার উন্নতি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আশাবাদী শিক্ষক সমাজ

অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত বিধানসভায় এও স্পষ্ট করেছেন যে, যেসব কর্মচারী এবার বেতন বৃদ্ধি পাননি, তাঁদের দাবিগুলোকে সম্পূর্ণ অযৌক্তিক বলে মনে করা হচ্ছে না। তিনি জানিয়েছেন যে, মার্চ মাসে এই সমস্ত বিষয় সহানুভূতির সাথে বিবেচনা করা হবে এবং একটি উপযুক্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে। এই ঘোষণার পর রাজ্যের শিক্ষা খাতে একটি ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। শিক্ষকরা আশা করছেন যে, সরকার ভবিষ্যতে তাদের অন্যান্য দাবিগুলোও বিবেচনা করবে, যা তাদের পেশাগত জীবনকে আরও উন্নত করবে।