প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: পরিবর্তনের বাংলায় ফের দুর্নীতির ছায়া, ভালো স্কুলে বদলি (SSC Teacher Transfer) করে দেওয়ার নাম করে তোলা হচ্ছে টাকা? তাও আবার স্কুল সার্ভিস কমিশনের কর্তাদের নাম ব্যবহার করে এই দুর্নীতিমূলক কাজের (SSC Warns Teachers) অভিযোগ উঠে আসছে। আর এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে ব্যাপক শোরগোল শুরু হয়েছে শিক্ষামহলে। এমনকি এই অভিযোগ পৌঁছেছে স্কুল সার্ভিস কমিশনের কাছেও। তাই এবার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে তড়িঘড়ি বিজ্ঞপ্তি জারি করে SSC।
শিক্ষক বদলির দুর্নীতি
বিগত সরকারের আমলে এসএসসি-র বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ উঠেছিল। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ঘুষ নিয়ে অযোগ্যদের চাকরি দেওয়া হয়েছিল, বাদ পড়েছিল যোগ্যরা। শেষে সবকিছু সামাল দিতে নতুন উপদেষ্টা কমিটি গড়ে তোলা হয়েছিল। কিন্তু, এবার অন্য রকমের অভিযোগ উঠছে। শোনা যাচ্ছে ভালো স্কুলে শিক্ষকদের বদলি করিয়ে দেওয়ার নাম করে অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিদের তরফে অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে। তাই এই বদলিকে কেন্দ্র করে দালালচক্র বা বেআইনি লেনদেনের অভিযোগ ঠেকাতে কড়া অবস্থান নিল স্কুল সার্ভিস কমিশন। জারি করা হল এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তি।
শিক্ষকদের সতর্ক করে বিজ্ঞপ্তি SSC–র
গতকাল, বৃহস্পতিবার স্কুল সার্ভিস কমিশন ওরফে SSC-র তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, অজ্ঞাত পরিচয় কোনও কোনও ব্যক্তি শিক্ষকদের কাছে জানাচ্ছেন যে, কমিশনের আধিকারিকদের সঙ্গে তাঁদের নাকি ভালো পরিচিতি রয়েছে। কিন্তু বদলি সংক্রান্ত এমন কোনও বেআইনি কর্মকাণ্ডের সঙ্গে কমিশনের কোনও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ যোগ নেই। নিয়ম অনুযায়ী বদলির ক্ষেত্রে কমিশনই শুধুমাত্র সুপারিশ করে। বদলির অনুমোদন ও নির্দেশ জারি করে পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ। তাই কমিশনের নামে কোনও ব্যক্তি বদলির প্রতিশ্রুতি দিলে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এমন কোনও প্রস্তাব বা যোগাযোগ পেলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে তৎক্ষণাৎ পুলিশ, এসিবি এবং স্কুল সার্ভিস কমিশনে অভিযোগ জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: নেই মলদ্বার, যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে সদ্যজাত! টাকা জোগাড় করতে নাজেহাল বাবা-মা
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কমিশনের এক আধিকারিক জানান যে, বদলি আদালতের নির্দেশে হলেও ভাল কোনও জায়গা, ভাল কোনও স্কুলে বদলির সুপারিশের কাজ কমিশন থেকেই হয়। আর এই সুযোগটাকেই কাজে লাগাচ্ছে দুষ্কৃতীরা। বলা হচ্ছে কমিশনের কোনও এক ‘বড়কর্তা’কে টাকা দিলেই ভাল স্কুলে বদলি করিয়ে দেওয়া যাবে। সেই কথায় ইতিমধ্যে অনেক শিক্ষক টাকা দিয়েও থাকতে পারেন। তাই সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল বলেন, ‘‘বহুদিন ধরেই বদলি নিয়ে নানা দুর্নীতির কথা শোনা যাচ্ছে। তাই এ ব্যাপারে প্রশাসনের কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”










