সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: শুভেন্দু সরকারের প্রথম বাজেট ঘোষণা হল আজ (West Bengal Budget 2026)। বাজেটের ক্ষেত্রে একেবারে ‘কল্পতরু’ রাজ্য সরকার। একধাক্কায় অনেকটাই ডিএ বাড়ানো থেকে শুরু করে অন্যান্য কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি বা সামাজিক সুরক্ষামূলক প্রকল্প, কিংবা মহিলাদের সুরক্ষার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি রাজ্যের পরিকাঠামগত উন্নয়নের ক্ষেত্রেও বরাদ্দ করা হয়েছে হাজার হাজার কোটি টাকা। তবে এরই মধ্যে বাংলায় সংখ্যালঘু কল্যাণ ও মাদ্রাসা বাজেটে অর্ধেকের বেশি কাটছাঁট করল রাজ্যের বিজেপি সরকার।
মাদ্রাসা বাজেটে বড় কাটছাঁট
বাংলার বিজেপি সরকারের প্রথম বাজেটে সংখ্যালঘু কল্যাণ এবং মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের জন্য বরাদ্দ অনেকটাই কমানো হয়েছে। জানা গিয়েছে, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে এই বিভাগের জন্য মোট ২১৬৫.৪২ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে, যেখানে তৎকালীন তৃণমূল সরকার তাদের অন্তবর্তী বাজেটে এই বিভাগের জন্য বরাদ্দ করেছিল ৫৭১৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ, চলতি অর্থবর্ষে সংখ্যালঘু কল্যাণ ও মাদ্রাসা খাতে বরাদ্দ মোট ৩৫৪৮ কোটি টাকা কমানো হয়েছে, যা অর্ধেকের থেকেও বেশি। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বাংলায় মোট ৬১৪টি সরকার স্বীকৃত মাদ্রাসা রয়েছে, যেখানে আনুমানিক সাড়ে ৪ লক্ষ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে।
তবে মাদ্রাসা খাতে বরাদ্দ কমালেও অন্যান্য খাতে একেবারে কল্পতরু হয়েছে রাজ্য সরকার। প্রথমত, রাজ্যের সমস্ত সরকারি কর্মচারীদের ডিএ ১৮% থেকে বাড়িয়ে একধাক্কায় ৩৮% করা হয়েছে। অর্থাৎ বাড়ানো হয়েছে ২০%। এছাড়া সমস্ত রকম সামাজিক সুরক্ষামূলক প্রকল্প চালু রাখার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, এবং ১ লক্ষ সরকারের শূন্যপদ খুব তাড়াতাড়ি পূরণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। এমনকি তিনি আর্থিক শৃঙ্খলা এবং জনকল্যাণমূলক প্রতিশ্রুতির মধ্যে ভারসাম্য রক্ষারও কথা বলেছেন।
আরও পড়ুন: সবাই পাবেন না বেকার ভাতার ৩০০০ টাকা, বাজেটে বিরাট সিদ্ধান্ত সরকারের
এদিকে এবারের বাজেটে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন খাতের বরাদ্দ অনেকটাই বাড়ানো হয়েছে। জানা গিয়েছে, তৃণমূল সরকারের পেশ করা অন্তর্বর্তীকালীন বাজেটে এই খাতে মোট ৯০০.১৩ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল। কিন্তু তা এবার বাড়িয়ে ১৮২১ কোটি টাকা করা হয়েছে, অর্থাৎ প্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি। পাশাপাশি অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়েও বড় ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। তিনি এই প্রকল্পের জন্য মোট ৩৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করেছেন, এবং মহিলাদের বিনামূল্যে বাস ভ্রমণের জন্য দেওয়া বরাদ্দ করা হয়েছে ৫৫০ কোটি টাকা।










