সোনারপুর কাণ্ডের জের, অভিষেকের নিরাপত্তা বাড়াল রাজ্য সরকার

Published:

Abhishek Banerjee

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: রাজ্যে ক্ষমতায় বসার পরাই তৃণমূলের একাধিক নেতা, বিধায়ক, সাংসদদের নিরাপত্তায় কাটছাঁট করেছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার (Government of West Bengal)। কিন্তু শনিবার সোনারপুরে রামধোলাই খাওয়ার পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) নিরাপত্তা নিয়ে ফের বড় সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। আপাতত সাংসদের নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে বলে খবর সূত্রের। এবার থেকে তাঁর সাথে থাকবেন তিনজন নিরাপত্তা রক্ষী। অর্থাৎ, তিনি এক্স ক্যাটাগরির নিরাপত্তা পাবেন।

নিরাপত্তা বাড়ানো হল অভিষেকের

উল্লেখ্য, তৃণমূলের শাসনকালে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জেড প্লাস ক্যাটাগরির নিরাপত্তা পেতেন। তাঁর সঙ্গে থাকত পুলিশের বহর। আর বাড়ির নিরাপত্তা নতুন করে কিছু বলার অপেক্ষা রাখে না। কিন্তু রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতা দখল করার পরই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানান। অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী নিরাপত্তার জন্য ব্যবহার করার কোনও প্রশ্ন ওঠে না। সাংসদ হিসেবে যেটুকু পাওয়ার সেটুকুই নিরাপত্তা পাবেন অভিষেক। সেই কারণেই তাঁর জেড প্লাস নিরাপত্তা সরিয়ে মাত্র দু’জন নিরাপত্তা রক্ষী দেওয়া হতো তাঁর সঙ্গে। এমনকি শান্তিনিকেতন বাড়ির সামনে থেকেও পুলিশের পাহারা ও ব্যারিকেড উঠে যায়। নবান্নে পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

তবে শনিবার সোনারপুরে যাওয়া মাত্রই একেবারে রামধোলাই খেতে হয় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। ‘চোর চোর’ স্লোগান থেকে শুরু করে পচা ডিম, ইট-পাথর এমনকি জুতো পর্যন্ত ছুঁড়ে মারা হয় সাংসদের উপর। কোনও মতে তিনি বেঁচে ফিরেছেন তা বলা যায়। তাঁর সঙ্গে এদিনও দু’জন নিরাপত্তা রক্ষী ছিলেন। এমনকি পুলিশের কোনও দেখা মেলেনি। তবে যেহেতু তিনি ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ তথা তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড, সেই কারণে আবারও পর্যালোচনা করে রাজ্য সরকার তাঁকে এক্স ক্যাটাগরির নিরাপত্তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অর্থাৎ, এবার থেকে তাঁর সঙ্গে তিনজন নিরাপত্তা রক্ষী থাকবেন।

আরও পড়ুন: অ্যাকশন মুডে শুভেন্দু সরকার, অভিষেকের উপর হামলার ঘটনায় গ্রেফতার একাধিক

না বললেই নয়, গতকালের ঘটনার পর পুলিশি নিরাপত্তা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেন যে, এখানে কোনও পুলিশের নিরাপত্তা দেওয়া হয়নি। আমরা থানায় লিখিত জানিয়েছিলাম। এমনকি বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও কোনও পুলিশ নেই। যদিও শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং স্থানীয় থানার পুলিশ গিয়েই অভিষেককে উদ্ধার করে আনেন জনরোষের মুখ থেকে। ঘটনার তদন্তে নেমে ইতিমধ্যেই ছয় জনকে গ্রেফতার করে ফেলেছে পুলিশ। তবে এখনও পর্যন্ত কারা এই হামলার সঙ্গে জড়িত তা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে।

google button