জনগণনার কারণে সপ্তাহে মাত্র তিনদিন স্কুল জলপাইগুড়িতে, তুঙ্গে বিতর্ক

Published:

census school

সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ বাড়ি বাড়ি চলছে জনগণনার (Census) কাজ। আর এই কাজে নিযুক্ত রয়েছেন বহু স্কুল (School) শিক্ষক থেকে শুরু করে অন্যান্য ক্ষেত্রের কর্মীরা। যদিও এখন নতুন এক বিতর্ক মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। যেহেতু বেশিরভাগ শিক্ষক জনগণনার কাজে ব্যস্ত রয়েছেন, তাই পড়ুয়াদের সপ্তাহে মাত্র তিনদিন স্কুলে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর এখন এই নির্দেশিকা ঘিরেই যত জলঘোলা শুরু হয়েছে। অনেকের অভিযোগ, এভাবে পড়ুয়াদের পড়াশোনার অনেক ক্ষতি হতে পারে।

পড়ুয়াদের সপ্তাহে তিনদিন স্কুলে আসার নির্দেশ

জানা গিয়েছে, এই বিতর্কটি তৈরি হয়েছে জলপাইগুড়ির একটি স্কুলে। জেলার ফণীন্দ্রদেব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহিরুল ইসলামের অবশ্য দাবি, শিক্ষকদের বেশিরভাগই জনগণনার কাজে ব্যস্ত থাকায় অভিভাবকদের একাংশই এমন প্রস্তাব দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার বিষয়টি জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক সহ শিক্ষাদপ্তরের অধিকারিকদের জানানো হয়েছে। অন্যদিকে একই পথে হেঁটেছে জলপাইগুড়ি সদর প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

ক্ষোভে ফেটে পড়লেন অভিভাবকরা

উল্লেখিত স্কুলের প্রধান শিক্ষক অরূপ দে-র বক্তব্য অনুযায়ী, ‘পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকলে সব পড়ুয়াকে নিয়ে রোজ ক্লাস চালানো মুশকিল।’ স্কুলগুলির এহেন সিদ্ধান্তে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন অভিভাবকরা। জনগণনার কাজের জন্য পড়ুয়াদের সপ্তাহে তিনদিন স্কুলে আসতে বলা হচ্ছে কীভাবে? এতে পড়ুয়াদের ওপর ব্যাপকভাবে প্রভাব পড়বে। যদিও এনিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন অভিভাবকদের একাংশ। জলপাইগুড়ি জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শক শ্যামলচন্দ্র রায়ের কথা অনুযায়ী, জনগণনার কাজ যেমন চলবে, তেমনই স্কুলও চালু রাখতে হবে।

আরও পড়ুনঃ বাসস্থানের পর এবার মিলল কর্মসংস্থান, সীতাদেবীর পাশে সরকার

ফণীন্দ্র দেব প্রাইমারি স্কুল হল জলপাইগুড়ি শহরের একজন পরিচিত সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। প্রাইমারি স্কুলটি সকালে হাইস্কুলের ক্যাম্পাসে পরিচালিত হয়। এক থেকে পাঁচ ক্লাস পর্যন্ত মোট ছাত্রসংখ্যা প্রায় ১,১৪৩ জন, যেখানে ৩১ জন শিক্ষক আছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, ২৫ জন শিক্ষককে জনগণনা কাজের জন্য নিয়োগ করা হয়েছে, যার ফলে নিয়মিত ক্লাস ব্যাহত হয়েছে। এ কারণে শিক্ষক না থাকার কারণে ক্লাসে বিশৃঙ্খলা দেখাঁ দিয়েছে। ফলে এই সমস্যার সমাধানের জন্য, শিক্ষার্থীদেরকে সপ্তাহে তিন দিন স্কুলে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রধান শিক্ষক জাহিরুল ইসলাম উল্লেখ করেছেন যে কিছু অভিভাবক প্রস্তাব দিয়েছেন যে বিকল্প ব্যবস্থা সম্ভব হলে ক্লাস চালিয়ে যাওয়া উচিত। এই বিষয়টি শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তাদের কাছে জানানো হয়েছে। অন্য দিকে, জলপাইগুড়ি সদর গার্লস প্রাইমারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক অরূপ দে বলেছেন যে তাদের স্কুলের ৩৩ জন শিক্ষকের মধ্যে ২২ জন জনগণনা কাজের সঙ্গে যুক্ত আছেন। সেখানেও পর্যাপ্ত শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও ক্লাস না করানোর ফলে সমস্যা বাড়ছে। আগামী দিনে কি এই সমস্যা লাঘব হবে? উঠছে প্রশ্ন।

google button