সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: রাজ্যের উচ্চ মাধ্যমিক (Higher Secondary Examination) স্তরে সেমিস্টার পদ্ধতি চালু হওয়ার পর থেকে যেন বিতর্ক কোনও কিছুতেই থামছে না। মূলত পাঠক্রম শেষ করার জন্য পর্যাপ্ত সময় না পাওয়া আর ক্লাসের সংখ্যা কমে যাওয়া শিক্ষক থেকে শুরু করে অভিভাবকদের ক্ষোভের কারণ। আর এই পরিস্থিতিতে সমস্যা খতিয়ে দেখতে এবং দ্রুত সমাধানের পথ খুঁজতে জরুরী বৈঠক করতে চলেছে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ।
কী কারণে এই সমস্যা?
আসলে ২০২৫ শিক্ষাবর্ষ থেকেই একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণীকে মোট চারটি সেমিস্টারে ভাগ করে গঠন-পাঠন শুরু হয়েছে। নিয়মমাফিক প্রথম ও তৃতীয় সেমিস্টারের পরীক্ষা এমসিকিউ এর মাধ্যমে হচ্ছে, যেটা সেপ্টেম্বর মাস নাগাদ হয়। আর দ্বিতীয় এবং চতুর্থ সেমিস্টারের পরীক্ষা বর্ণনামূলক বা বড় প্রশ্নের উপর হচ্ছে, যেটা ফেব্রুয়ারি বা মার্চ মাস নাগাদ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। শিক্ষকদের অভিযোগ, বিশেষ করে দ্বিতীয় বা চতুর্থ সেমিস্টারের প্রস্তুতির জন্য নামমাত্র সময় পাওয়া যাচ্ছে। নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে অন্যান্য শ্রেণীর বার্ষিক পরীক্ষা থাকার কারণে স্কুলগুলিতে ক্লাস বন্ধ থাকে। এরপর শীতকালীন ছুটি বা পরীক্ষার আগের প্রস্তুতি মিলিয়ে সিলেবাস শেষ করা অসম্ভব হয়ে পড়ছে।
শিক্ষক সংগঠনগুলির দাবি, নিয়ম অনুযায়ী বছরে অন্তত ২০০ দিন ক্লাস হওয়ার কথা। তবে বাস্তবে তা দাঁড়াচ্ছে মাত্র ৮০ থেকে ৯০ দিনে। মে মাসে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর থেকেই আবার গরমের ছুটি। এরপর পূজোর ছুটি ও অন্যান্য উৎসব মিলিয়ে পঠন-পাঠনের দিন কমছে। যার ফলে পড়ুয়ারা গৃহ শিক্ষক বা কোচিং সেন্টারের উপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে এবং স্কুলের দায়িত্ব কমে যাচ্ছে বলেই আশঙ্কা প্রকাশ অনেক শিক্ষকের।
তবে সংসদ সূত্রে খবর, শুধুমাত্র চূড়ান্ত সেমিস্টার নয়, বরং প্রতিটি সেমিস্টারে ছাত্রছাত্রীরা যাতে পর্যাপ্ত সময় পায় আর শিক্ষকরা সঠিক পদ্ধতিতে মূল্যায়ন করাতে পারে, সে বিষয়ে বিশেষ পরিকল্পনা করা হচ্ছে। অল পোস্ট গ্রাজুয়েট টিচার্স ওয়েলফার অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই একটি বার্ষিক ক্যালেন্ডার বা পরিকল্পনা সংসদে জমা দেওয়া হয়েছে। আর সেক্ষেত্র কিছু পয়েন্ট তুলে ধরা হয়েছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল—ক্লাসের সংখ্যা বৃদ্ধি করার উপায়, ছুটির কারণে নষ্ট হওয়া সময়ের বিকল্প ব্যবস্থা এবং পড়ুয়াদের স্কুলমুখী করার বিশেষ গাইডলাইন।
আরও পড়ুন: বুলেট ট্রেনের প্রস্তুতি? হাওড়া স্টেশনে বড় বদল আনছে পূর্ব রেল, বাড়ছে প্ল্যাটফর্মের দৈর্ঘ্য
এদিকে আগামী ১৪ মে উচ্চ মাধ্যমিকের ফল প্রকাশের কথা রয়েছে। মনে করা হচ্ছে, ফল প্রকাশের পরপরই আগামী শিক্ষাবর্ষের জন্য নতুন একাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রকাশ করা হতে পারে। সংসদ চাইছে, আগামী বছর থেকেই পঠন-পাঠন ও পরীক্ষার প্রস্তুতির মধ্যে একটি ভারসাম্য বজায় থাকে সেদিকে নজর রাখতে। এখন দেখার বৈঠকে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।










