কোচিংয়ের টাকা ছিল না, চাষ করে ইউটিউবে পড়াশোনা! পুলিশে চাকরি পেলেন রাজমিস্ত্রির ছেলে

Published:

Success Story of Ratanjeet Barman

অনন্যা সরকার, কোচবিহার: বহু মানুষের জীবনেই চরম দারিদ্র্য ও নানান প্রতিকূলতা স্বপ্নপূরণের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। কেউ ভাগ্যের কাছে নতি স্বীকার করেন নেন, আবার কেউ নিজের হাতেই নিজের ভাগ্য গড়েন। যেমনটা করে দেখিয়েছেন মাথাভাঙ্গা ১ নম্বর ব্লকের বৈরাগীহাটের রতনজিৎ বর্মন (Success Story of Ratanjeet Barman)। কোচবিহার জেলার সীমান্তবর্তী এই প্রত্যন্ত গ্রামেই বেড়ে উঠেছেন তিনি। ছোট থেকেই দেখেছেন সংসারের অভাব। পরিবারের ভরণপোষণের জন্য তাঁর বাবা আজ ভিনরাজ্যে রাজমিস্ত্রির কাজ করেন। আর গ্রামে মা আর দুই ভাইয়ের সাথে নিত্যদিনের সংগ্রাম চলে রতনজিতের। অত্যন্ত অভাবের মধ্যেও চালিয়ে গিয়েছেন পড়াশোনা। কোনও কোচিং-এর সাহায্য না নিয়ে একা পড়াশোনা করেই আজ তিনি পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের কনস্টেবল (West Bengal Police Constable) নিয়োগের পরীক্ষায় সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়েছেন। আসুন তাহলে রতনজিৎ বর্মনের এই সাফল্যের কাহিনীটি জেনে নেওয়া যাক।

মাত্র একটা স্মার্টফোনকে সম্বল করে পরীক্ষার প্রস্তুতি

রতনজিৎ মাথাভাঙ্গার মোহনপুর সাবিত্রী বিদ্যামন্দির থেকে তাঁর স্কুল শিক্ষা সম্পন্ন করে কোচবিহার পঞ্চানন বর্মা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। সেখান থেকে স্নাতক পাস করেন। অভাব অনটনের সংসারের হাল ধরতে রতনজিৎ হাতে তুলে নিয়েছিলেন কোদাল। রোজ মাঠে গিয়ে তিনি যখন হাড়ভাঙ্গা খাটনি খাটছেন, তখন তাঁর বাবা সঞ্জীব বর্মন বেঙ্গালুরুতে কারও স্বপ্নের ইমারত গড়ে তোলার জন্য মাথার ঘাম পায়ে ফেলছেন। এভাবেই চলছিল তাঁদের জীবন সংগ্রাম। 

তবে, স্বপ্ন ছিল রতনজিতের দু’চোখেও। বড় কিছু অর্জনের স্বপ্ন, মা, বাবা, ভাইদের পাশে দাঁড়ানোর স্বপ্ন। সেই স্বপ্নকেই সংকল্পে পরিণত করে রতনজিৎ শত কষ্টের মধ্যেও পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন। চাকরির পরীক্ষার জন্য কোচিং নেওয়ার সামর্থ্য ছিল না তাঁর, তাই নিজের পুরোনো স্মার্টফোনটাকে সম্বল করেই এগিয়ে গেছেন। ইউটিউবে অনলাইন ক্লাস আর নিজের হাতে নোট তৈরি করে প্রস্তুতি নেন পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের পরীক্ষার জন্য। 

আরও পড়ুন: মা রাঁধুনি, বাবা ইটভাটায় শ্রমিক, মাত্র ২২ বছর বয়সে UPSC ক্র্যাক করে IPS হলেন ছেলে

অবশেষে স্বপ্ন পূরণ হল তাঁর। এল সেই দিনটা, যেদিন রতনজিৎ খবর পেলেন তিনি রাজ্য পুলিশের কনস্টেবল পদে নির্বাচিত হয়েছেন। বেঙ্গালুরুতে থাকা বাবাকে সবার আগে জানান খবরটা। সরকারি পদে ছেলের চাকরি পাওয়ার কথা শুনে চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি সঞ্জীব বর্মন। বাবার রক্ত জল করা খাটুনি, মায়ের আত্মত্যাগ আর ভাইদের সমর্থন নিয়ে রতনজিৎ আজ সত্যিই জিতলেন। তাঁর এই সাফল্য গরীব পরিবার থেকে উঠে আসা লক্ষ লক্ষ ছেলে-মেয়েকে স্বপ্ন দেখতে এবং সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে সর্বস্ব দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়তে অনুপ্রাণিত করে।

google button