অনন্যা সরকার, গুজরাট: সাফল্য পেতে অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়, চোকাতে হয় অনেক মূল্য। তবে কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায় ও কিছু করে দেখানোর জেদ থাকলে কোনও প্রতিবন্ধকতাই সাফল্যের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। আইপিএস সাফিন হাসানও এটাই সত্যি করে দেখিয়েছেন (UPSC Success Story of IPS Safin Hasan)। তাঁর মা অন্যের বাড়িতে রাঁধুনির কাজ করতেন, আর বাবা ছিলেন ইটভাটার শ্রমিক। এতটাই আর্থিক সংকটে ছিলেন তাঁরা যে, দিনে দু’বেলা খাবারের জোগাড় করতেও প্রায়ই হিমশিম খেতে হত। এর মধ্যে থেকে উঠে এসে আইপিএস অফিসার (IPS Officer) হয়ে সাফিন হাসান সবাইকে অবাক করে দেন। তিনি মাত্র ২২ বছর বয়সে ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিস (UPSC CSE) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ইন্ডিয়ান পুলিশ সার্ভিসে যোগদান করার সুযোগ পান। আসুন তাহলে তাঁর এই সাফল্যের কাহিনীটি বিশদে জেনে নেওয়া যাক।
চরম অভাবের মধ্যেও ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিসের প্রস্তুতি সাফিনের
সাফিন হাসান গুজরাটের কানোদর গ্রামে বড় হয়ে উঠেছেন। সেখানেই প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। পরিবারের আর্থিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে সাফিনের স্কুল তাঁর একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির ফি মাফ করে দেয়। তারপর দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষায় পাস করে সাফিন একটি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ভর্তি হন। তখন তাঁর আত্মীয়রা কলেজের ফি শোধ করতে অনেক সাহায্য করেছিলেন। কলেজের পড়াশোনা শেষ করে সাফিন ইউপিএসসি পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি শুরু করেন।
২০০০ সালে সাফিনের পরিবার একটি হীরা প্রক্রিয়াকরণ ইউনিটে কাজ করতেন, কিন্তু কোনো কারণবশত তাঁরা সেই চাকরিটি হারান। সংসার চালানোর জন্য সাফিনের মা রান্নার কাজ শুরু করেন, আর তার বাবা একটি ইটভাটায় মাথার ঘাম পায়ে ফেলে সারাদিন ইট তোলার কাজ করতেন। কিন্তু এই আয় অপর্যাপ্ত ছিল বলে তাঁর বাবা-মা সন্ধ্যায় বাড়ির কাছে একটি ছোট দোকান খুলে সেদ্ধ ডিমও বিক্রি করতেন।
আরও পড়ুন: বিদেশের কোটি টাকার চাকরি ছেড়ে শুরু করেন UPSC-র প্রস্তুতি, প্রথম প্রচেষ্টাতেই IAS কনিষ্ক
২০১৭ সালে প্রথমবারের জন্য ইউপিএসসি পরীক্ষায় বসেন সাফিন। কিন্তু পরীক্ষার দিন একটি দুর্ঘটনায় তিনি গুরুতর আহত হন তিনি। আঘাত সত্ত্বেও সাফিন হাসান পিছিয়ে আসেননি, সম্পূর্ণ পরীক্ষাটি দেন। এরপর আঘাতের তীব্রতার কারণে তাকে অস্ত্রোপচারের জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয় ও পরবর্তীতে ফিজিওথেরাপিও নিতে হয়। কিন্তু এত সবকিছু ঘটে যাওয়ার পরেও সাফিন হাল ছাড়েননি; নিজের লক্ষ্যে অবিচল থেকে তিনি পড়াশোনা চালিয়ে যান। ফলস্বরূপ, সাফিন ২০১৮ সালে আবার ইউপিএসসি পরীক্ষায় বসেন এবং সর্বভারতীয় স্তরে ৫৭০তম র্যাঙ্ক (AIR) অর্জন করে একজন আইপিএস অফিসার হন। তিনি ২০১৯ সালে জামনগরে সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে নিযুক্ত হন। সাফিন হাসান আজ সারা দেশের হাজার হাজার ইউপিএসসি পরীক্ষার্থীর কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছেন।










