পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় প্রাক্তন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুকে গ্রেফতার করল ED

Published:

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: দীর্ঘ টালবাহানার পর সোমবার শেষমেষ ইডি দফতরে হাজিরা দেন প্রাক্তন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু (Sujit Bose)। সকাল থেকেই দফায় দফায় চলে জিজ্ঞাসাবাদ। সূত্রের খবর, রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রীর বক্তব্যে অসংগতি থাকায় শেষ পর্যন্ত তাঁকে গ্রেফতার করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। অভিযোগ, তাঁর আমলে দক্ষিণ দমদম পুরসভায় বেআইনিভাবে 150 জনের চাকরি হয়েছে। শুধু তাই নয়, মোটা টাকা এমনকি জমির বিনিময়ে পৌরসভায় চাকরি পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে সুজিত বসুর বিরুদ্ধে। মূলত সে কারণেই পহেলা মে তাঁকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়েছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। তবে নতুন করে তদন্তের স্বার্থে আরও কিছু তথ্যের জন্য ফের সোমবার তাঁকে তলব করে ইডি।

সাড়ে ১০ ঘন্টা জেরার পর গ্রেফতার প্রাক্তন মন্ত্রী

সোমবার, সকাল সকাল সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দিতে পৌঁছে গিয়েছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন দমকলমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেতা সুজিত বসু। সূত্রের খবর, সেই সকাল থেকে প্রায় সাড়ে 10 ঘন্টা জিজ্ঞাসাবাদ চলে তাঁর। তদন্তকারী আধিকারিকদের তরফে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাঁদের কাছে যেসব তথ্য ছিল তাঁর সাথে সুজিত বসুর বক্তব্যের মিল খুঁজে পাওয়া যায়নি। এরপর ফের আধিকারিকরা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রীকে পুরো নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তের স্বার্থে বেশকিছু প্রশ্ন করেন। তবে অভিযোগ, সুজিত বসু শেষের দিকে ইডি আধিকারিকদের বেশিরভাগ প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে গিয়েছিলেন।

এখানেই শেষ নয়, তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে তদন্তকারীদের বিভ্রান্ত করার অভিযোগ রয়েছে। মূলত সে কারণেই শেষ পর্যন্ত প্রাক্তন মন্ত্রীর বক্তব্যে অসংগতি মেলায় তাঁকে গ্রেফতার করার সিদ্ধান্ত নেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। জানা যাচ্ছে, আর কিছুক্ষণের মধ্যেই রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রীকে সিজিও কমপ্লেক্স থেকে বের করে মেডিকেল পরীক্ষার জন্য নিয়ে যাওয়া হবে। এরপর খুব সম্ভবত আগামীকাল তাঁকে আদালতে পেশ করার কথা রয়েছে। আপাতত যা খবর, মঙ্গলবার আদালতে সুজিত বসুকে হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাতে পারে ইডি।

অবশ্যই পড়ুন: আর্থিক সংকটে দিশেহারা জীবন? কুপ্রভাব কাটাতে স্নানের জলে আজই মেশান এই উপাদানগুলি

উল্লেখ্য, এর আগে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্ত চলাকালীন অয়ন শীলের অফিসে তদন্ত চালিয়েছিলেন ইডি আধিকারিকরা। ঠিক সেই সময় অয়নের অফিসের ডাস্টবিন থেকে একটি চিরকুট পেয়েছিলেন আধিকারিকরা। সঙ্গে মিলেছিল বেশকিছু নথিও। সেখান থেকেই ইডি আধিকারিকরা জানতে পারেন রাজ্যের একাধিক পৌরসভায় দুর্নীতি হয়েছে। আর সেই যোগসূত্র ধরেই দফায় দফায় রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রীকে জেরার পর এবার গ্রেফতার করল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।