আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: বেলঘরিয়ার ছোট্ট শিশুর শেষ সম্বল হয়ে উঠলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। ছয় মাসের শিশু পিয়ল আক্রান্ত স্পাইনাল মাসকুলার অ্যাট্রফি (SMA) টাইপ-১ রোগে। বয়স অনুযায়ী এখনও তার ঘাড় শক্ত হয়নি, হাত-পা নাড়াতেও সমস্যা হচ্ছে। মাত্র তিন মাস বয়সে চিকিৎসকেরা শিশুটির এই জটিল স্নায়ুরোগ শনাক্ত করেন। SMA-তে মেরুদণ্ডের মোটর নিউরন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ধীরে ধীরে হাত, পা ও ঘাড়ের পেশি দুর্বল হয়ে যায়। বর্তমানে পিয়ারলেস হাসপাতালে চিকিৎসক সংযুক্তা দে-র অধীনে পিয়লের চিকিৎসা চলছে।
অসহায় পরিবারকে টাকার জোগান দেবে সরকার?
চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী পিয়লের জন্য প্রয়োজন জিন থেরাপি। সেই চিকিৎসার ওষুধ বা ইনজেকশন আমেরিকা থেকে আনতে হবে। এর দাম প্রায় ১৭ কোটি টাকা, যা পরিবারের পক্ষে জোগাড় করা কার্যত অসম্ভব। সন্তানের চিকিৎসার জন্য সাহায্যের আশায় মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রীর জনতার দরবারে হাজির হন পিয়লের মা-বাবা। সেখানেই তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সরকারের তরফে যতটা সম্ভব সাহায্য করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
পিয়লের পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে, প্রথমে শিশুটি হাত-পা নাড়াতে না পারায় তাঁদের সন্দেহ হয়। এরপর চিকিৎসকের পরামর্শে একাধিক পরীক্ষা করানো হলে SMA ধরা পড়ে। বিপুল চিকিৎসা খরচের কথা জানতে পেরে পরিবারের দুশ্চিন্তা আরও বাড়ে। তবে সন্তানকে সুস্থ করতে শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যেতে চান তাঁরা। শিশুটির বাবার আবেদন, সাধারণ মানুষও নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী পাশে দাঁড়ালে চিকিৎসার প্রয়োজনীয় অর্থ জোগাড় করা সম্ভব হতে পারে।
এই প্রসঙ্গে উল্লেখযোগ্য, ২০২৫ সালে নদিয়ার SMA আক্রান্ত আর এক শিশু অসমিকার চিকিৎসাতেও আর্থিক সাহায্য করেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। সে সময় তিনি নিজের বেতন থেকে ১০ লক্ষ টাকা দিয়েছিলেন। সূত্রের খবর, ওই শিশুর চিকিৎসার জন্যও প্রায় ১৭ কোটি টাকার প্রয়োজন ছিল। তবে সেটি পিয়লের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা ঘটনা।
আরও পড়ুন: বকেয়া DA-র হিসাব ‘ভুল’! ফের আন্দোলনে নামছেন কর্মীরা?
পিয়লের ক্ষেত্রে মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরের আধিকারিক গৌতম দাসও নিজের এক মাসের বেতন দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। পাশাপাশি শিশুটির মা-বাবা সকলের কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন, যাতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করিয়ে সন্তানকে বাঁচানোর চেষ্টা চালিয়ে যেতে পারেন।










