রাস্তায় পুলিশের তোলাবাজি বন্ধ! কড়া ব্যবস্থা নিলেন মুখ্যমন্ত্রী

Published:

Suvendu Adhikari

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: রাস্তায় গাড়ি দাঁড় করিয়ে ট্রাফিক পুলিশের টাকা তোলার (Police Extortion) অভিযোগ নতুন কিছু নয়। পূর্বতন সরকারের আমলে এমন অভিযোগ প্রায়ই শোনা গিয়েছিল। কিন্তু এবার রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) স্পষ্ট বার্তা দিয়েছিলেন যে কোনও ধরনের বেআইনি কাজের রেয়াত করা হবে না, তা সে অভিযুক্ত যেই হোক না কেন। পুলিশের ক্ষেত্রেও সেই একই নিয়ম খাটল। জানা গিয়েছে, এবার ট্র্যাফিক পুলিশের টাকা তোলা সম্পূর্ণ বন্ধ করতে রাজ্যজুড়ে নজরদারির জন্য বড় কন্ট্রোল রুম তৈরি হচ্ছে। বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকরী।

পুলিশের তোলাবাজি বন্ধে নজর রাখবে কন্ট্রোলরুম

অধিকাংশ সময়েই বিভিন্ন জেলা থেকে ট্রাফিক পুলিশের বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ উঠে এসেছে। তাই এই সমস্যা দূর করতে স্বাস্থ্য দপ্তর যে ধরনের কন্ট্রোল রুম তৈরি করেছে, এবার সেই মডেলেই ট্র্যাফিকের কন্ট্রোল রুম খোলার ঘোষণা করলেন শুভেন্দু অধিকারী। বিধানসভায় বুধবার স্বরাষ্ট্র দপ্তরের বাজেট বিতর্কের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, কোথাও পুলিশ টাকা চাই‍লে, সেই অভিযোগ জানানোর জন্য বিশেষ ফোন নম্বর ঘোষণা করা হবে। এখানেই শেষ নয়, ট্র্যাফিক পুলিশের টাকা তো‍লার পাশাপাশি চালান ছাড়া কয়লা, বালি, পাথর, পশু পরিবহণ বন্ধ করতেও উদ্যোগী হচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী।

কী বলছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী?

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, ‘এখানে সব জেলার বিধায়ক আছেন। ট্রাফিক পুলিশ বা কেউ যদি রাস্তায় হাত পাতছে দেখতে পান, বলবেন। আমরা তিনটি হেল্পলাইন নম্বর নিয়ে আসছি। যেখানে রাস্তায় হাত পাতবে, জানাবেন। অবৈধ ভাবে কয়লা, বালি, পশু, সুপারি— কোনও কিছু পরিবহণের খবর কারও কাছে এলে, ডেডিকেটেড নম্বর দেবো, সেখানে জানাবেন। সবকিছুর জন্য বিরাট কন্ট্রোল রুম করা হচ্ছে। ফরাক্কায় কেউ হাত পাতলে ভবানী ভবনে ডিজি দেখতে পাবেন। তেমনই কালিয়াচকে হাত পাতলে কলকাতায় আমরা জানতে পারব। নিশ্চিন্ত থাকুন।’

আরও পড়ুন: কলকাতায় এবার ককরোচ জনতা পার্টির মিছিল, অনুমতি চেয়ে ইমেল পুলিশকে

আইনশৃঙ্খলা মেনে চলার পাশাপাশি রাজ্য পুলিশের শূন্যপদ পূরণের প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি স্বরাষ্ট্র দপ্তরের বাজেটে পরিকাঠামো উন্নয়নের দিকেও জোর দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। জানা গিয়েছে, খড়্গপুর, ব্যারাকপুর, কল্যাণী, মুর্শিদাবাদ, সিঙ্গুর ও মালদায় নতুন ছ’টি আঞ্চলিক ফরেন্সিক সায়েন্স ল্যাবরেটরি নির্মাণেরও পরিকল্পনা করেছে সরকার। যাতে অপরাধের তদন্তের গতি আরও দ্রুত হয়। এছাড়াও জঙ্গলমহলে মাওবাদী কার্যকলাপ মোকাবিলায় ঝাড়গ্রাম জেলার জন্য বিশেষ প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।