বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: এবার সাংবাদিকদের জন্য বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari)। আগেই অবসরপ্রাপ্ত সাংবাদিকদের মাসিক ভাতা (Journalist Pension) দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী। বলে দিয়েছিলেন, যে সমস্ত যোগ্য সাংবাদিকরা অবসর নেওয়ার পর আবেদন করবেন তাঁদের প্রত্যেককেই আর্থিক সহায়তা করবে সরকার। সেই মতোই, মঙ্গলবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পশ্চিমবঙ্গ সাংবাদিক পেনশন যোজনা 2026 নিয়ে একগুচ্ছ ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই সাথে, পুজোর সময় সাংবাদিকদের উৎসব বোনাস দেওয়ার কথাও জানালেন তিনি।
সাংবাদিকদের পেনশন নিয়ে বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
পূর্বতন সরকারের আমলে রাজ্যের অবসরপ্রাপ্ত সাংবাদিকদের জন্য যে পেনশন প্রকল্প চালু করা হয়েছিল তাতে শুধুমাত্র 150 জন বা তার থেকে সামান্য বেশি সংখ্যক সাংবাদিককে মাসিক আড়াই হাজার টাকা করে দেওয়া হতো। তবে রাজ্যে পালাবদলের পর ভারতীয় জনতা পার্টির ডাবল ইঞ্জিন সরকারের পক্ষ থেকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী খুব পরিষ্কারভাবে জানিয়েছেন, এবার থেকে রাজ্যের সমস্ত যোগ্য অবসরপ্রাপ্ত সাংবাদিক মাসে 5,000 টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবেন।
মঙ্গলবার, নবান্ন থেকে মুখ্য সচিব মনোজ আগরওয়াল থেকে শুরু করে স্বাস্থ্যমন্ত্রীদের ঘোষণার পরেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, একেবারে সরাসরি জানান, আগের সরকার সাংবাদিকদের পেনশন দেওয়ার ক্ষেত্রে নানান মাপকাঠি রেখেছিল। শুধু তাই নয়, পছন্দের ভিত্তিতে 150 জন সাংবাদিককে মাসে আড়াই হাজার টাকা করে পেনশন দেওয়া হতো। তবে বর্তমান সরকার সেই পথে হাঁটবে বা। বরং যোগ্য প্রত্যেক অবসরপ্রাপ্ত সাংবাদিককে মাসে আড়াই হাজারের বদলে 5,000 টাকা করে পেনশন দেওয়া হবে।
এখানেই শেষ নয়, মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দিলেন নির্দিষ্ট পোর্টালের মাধ্যমেই আবেদন করতে পারবেন সাংবাদিকরা। এদিন পশ্চিমবঙ্গ সাংবাদিক পেনশন যোজনার আওতায় মাসিক আর্থিক সাহায্য দেওয়ার পাশাপাশি পুজোর সময় যোগ্য সাংবাদিকদের 3,000 টাকা করে উৎসব বোনাস দেওয়া হবে রাজ্য সরকারের তরফে। পূর্বতন সরকার মূলত কলকাতা এবং জেলাভিত্তিক ভাবে অর্থ দিলেও বর্তমান সরকার আবেদন করবেন এমন সকল যোগ্য সাংবাদিককে পুজো উপলক্ষ্যে উৎসব বোনাস দেবে।
আরও পড়ুন: সোনা কেনা থেকে বিদেশে ভ্রমণ, এখন করা যাবে না বিয়েও! দেশবাসীকে বার্তা প্রধানমন্ত্রীর
এদিন স্বাস্থ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতেই মুখ্যমন্ত্রী এবং মুখ্য সচিব মনোজ আগরওয়াল দুজনেই জানান, রাজ্যের অন্যান্য বাসিন্দাদের মতোই বাংলার সাংবাদিকরাও আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। এই প্রকল্পের আওতায় না থাকলে আগের প্রকল্প স্বাস্থ্য সাথীদের হবে চিকিৎসা। সেই প্রকল্পে ও নাম না থাকলে মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বীমা যোজনার আওতায় বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবা পাবেন রাজ্যের সাংবাদিকরা।সব মিলিয়ে বলাই যায়, উৎসবের মরসুম শুরুর আগে রাজ্যের সাংবাদিকদের একেবারে পোয়া বারো।










