WBPSC-র সদস্য অভিনেতা দিগন্ত তৃণমূলের ক্যাডার! প্রমাণ সহ পোস্ট শুভেন্দুর

Published:

Suvendu Adhikari Post On TMC

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: নির্বাচন ঘিরে বঙ্গের রাজনৈতিক পারদ এখন তুঙ্গে (West Bengal Assembly Election)। শাসক দল থেকে বিজেপি সহ অন্যান্য বিরোধীরা বর্তমানে একে অপরের খুঁত খুঁজতে ব্যস্ত। ঠিক সেই আবহে বাংলার রাজনৈতিক প্রাঙ্গণে নতুন করে বিতর্কের হাওয়া তুললেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তৃণমূলের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ এনেছেন এই বিজেপি নেতা। তাঁর দাবি, সাংবিধানিক পদে থাকা ব্যক্তিরাও আজকাল তৃণমূলের রাজনৈতিক মঞ্চে হাজির হয়ে যাচ্ছেন। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে পশ্চিমবঙ্গ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সদস্য তথা অভিনেতা দিগন্ত বাগচীর ভবানীপুরের তৃণমূলের সভায় উপস্থিত থাকা নিয়ে তৃণমূলকে বিঁধেছেন শুভেন্দু।

তৃণমূলকে জোর আক্রমণ শুভেন্দু অধিকারীর!

গতকাল অর্থাৎ শনিবার, শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের ভবানীপুরের সভায় উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের বর্তমান সদস্য দিগন্ত বাগচী। এদিন প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থনে সভামঞ্চে তাঁর সাথেই উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের অন্যান্য শীর্ষ নেতৃত্বও। আর তা নিয়েই শাসক দলকে একেবারে একহাত নিয়েছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। রবিবার নিজের এক্স হ্যান্ডেলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভবানীপুরের সভামঞ্চের একটি ভিডিও পোস্ট করে শুভেন্দু লিখেছেন, “লজ্জাজনক! মমতা ব্যানার্জির আপোষকামী আমলাতন্ত্র নতুন করে নিম্নস্তরে পৌঁছেছে। পশ্চিমবঙ্গে কি কোনও সাংবিধানিক শিষ্টাচার অবশিষ্ট আছে নাকি সবটাই শেষ?”

এদিন পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সদস্য দিগন্তকে নিয়ে কথা বলতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “পশ্চিমবঙ্গ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের বর্তমান সদস্য দিগন্ত বাগচী গতকাল ভবানীপুরে তৃণমূল প্রার্থীর একটি রাজনৈতিক অনুষ্ঠানের মঞ্চ ভাগাভাগি করেছিলেন। WBPSC একটি সাংবিধানিক সংস্থা, যার কাজ রাজ্যের ভবিষ্যৎ কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষভাবে নিয়োগ করা। এদিকে কমিশনের মাননীয় সদস্য হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিরাই এখন শাসকদলের ক্যাডার হিসেবে কাজ করছেন? এই ঘটনা আদর্শ আচরণবিধি লঙ্ঘন করে। একজন পদাধিকারী নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সময় কোনও রাজনৈতিক দলকে সমর্থন করতে পারেন না। এমনটা উচিত নয়। তৃণমূলের রাজনৈতিক সমাবেশে অংশ নিয়ে শ্রী বাগচী তাঁর পদের মর্যাদার সাথে আপোষ করেছেন। পশ্চিমবঙ্গের মাননীয় মুখ্য নির্বাচনী কর্মকর্তা এবং মুখ্য সচিবকে এই ঘটনাটি আমলে নিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানাই।”

 

অবশ্যই পড়ুন: ট্রাম্পকে প্রাণে মেরে ফেলার চেষ্টা ইরানের? বড় বয়ান দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট

উল্লেখ্য, আগামী 29 তারিখ দ্বিতীয় দফার নির্বাচন। তার আগে গতকাল ভবানীপুরে নিজের কেন্দ্রে সভা করতে গিয়ে সমস্যার সম্মুখীন হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল সুপ্রিমোর অভিযোগ, বিরোধীদলের নেতাকর্মীরা এত জোরে জোরে মাইক বাজাচ্ছিল তাতে বক্তব্য রাখা যায়নি। এদিন মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য ছিল, “আমি এই অসভ্যতামি করতে পারব না, এটা খুব অপমানের!” এদিন ভবানীপুরের মানুষের কাছে ক্ষমা চেয়ে সভা ছেড়ে বেরিয়ে যান মমতা। আর এই ঘটনার পরই সভা ভণ্ডুল করার অভিযোগে ভবানীপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে তৃণমূল।