“হিন্দু, বাঙালিদের মুসলিম হওয়ার জন্য উৎসাহিত করছে তৃণমূল!” শাসকের বিরুদ্ধে হাড় কাঁপানো অভিযোগ পুলিশকর্মীর

Published:

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: মাঝে আর একটা দিন। আগামী 29 এপ্রিল রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ (Viral Video)। সেই মতোই একেবারে অন্তিম পর্বের প্রচার চালাচ্ছে শাসক দল থেকে শুরু করে বিজেপি সহ অন্যান্য বিরোধীরা। ঠিক সেই পর্বে দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনের আগে রাজ্যের শাসক দলের বিরুদ্ধে কার্যত হাড় কাঁপানো অভিযোগ তুলেছেন কলকাতা পুলিশের একজন কর্মকর্তা। রামকৃষ্ণ কয়াল নামক ওই ব্যক্তি এক ভিডিও বার্তায় নিজেকে কলকাতা পুলিশ কর্মী হিসেবে দাবি করেছেন। যদিও ভাইরাল হওয়া ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করিনি আমরা।

তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে হিন্দুদের ইসলামীকরণ করার অভিযোগ!

সম্প্রতি পরশুরামের ভক্ত নামক এক ফেসবুক পেজ থেকে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে কলকাতা পুলিশের কর্মী হিসেবে পরিচয় দেওয়া ওই ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, “আমি রামকৃষ্ণ কয়াল। দীর্ঘ 23 বছর আমার কর্মজীবন অতিবাহিত। আরও 17 বছর কাজ করব। এর মধ্যে 15টা বছর আমি তৃণমূল সরকারকে দিয়েছি। আমি দেখেছি ডিপার্টমেন্টে কীভাবে ইসলামীকরণ হচ্ছে। প্রশাসনিকভাবে একজন হিন্দুকে, বাঙালিকে মুসলিম হওয়ার জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে।”

এদিন গায়ে পুলিশের খাকি পোশাক এবং মাথায় টুপি পরিহিত ওই ব্যক্তি দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের আগে রাজ্যবাসীর কাছে একেবারে করজোড়ে আবেদন জানিয়েছেন সরকার পরিবর্তনের। পুলিশকর্মীর বক্তব্য, “প্রথম দফার নির্বাচন হয়ে গিয়েছে। সেকেন্ড ফেজের নির্বাচনে এই দক্ষিণবঙ্গের সমস্ত বাঙালির কাছে আমার আবেদন, আপনাদের ভাষায় তথাকথিত চটিচাটা, দলদাস একজন পুলিশের আবেদন, আপনারা এমনভাবে ভোট করুন, ভোট দিন যাতে সরকারের পরিবর্তন হয়। হ্যাঁ, আমি একজন দলদাস, পুলিশ এই কথাটা বলছি কারণ আমি দেখেছি কী দ্রুততার সাথে এই ডিপার্টমেন্টে ইসলামীকরণ করা হচ্ছে।”

ওই পুলিশকর্মীর আরও সংযোজন, “তৃণমূলের জিতে যাওয়া মানে মুসলমানের জিতে যাওয়া! জিহাদী শক্তির জিতে যাওয়া। আর মুসলমানদের জিতে যাওয়া মানে হচ্ছে আমাদের মট মন্দির ধ্বংস করা। এতে হিন্দুদের ক্ষতি।” নিজেকে দললস হিসেবে পরিচয় দেওয়া ওই পুলিশ কর্মী এদিন কার্যত বুক ফুলিয়ে এথাও বললেন, “তৃণমূল জিতে গেলে মুসলিম শক্তি জিতে যাবে। আর মুসলিম শক্তি জিতলে মা-বোনেদের ইজ্জত যাবে। রাস্তায় মা-বোনেদের ধর্ষিতা হতে হবে!”

 

অবশ্যই পড়ুন: আগামী এক সপ্তাহ কেমন থাকবে শেয়ার বাজার? টাকা ডুববে না তো? বিনিয়োগের আগে জানুন

বলাই বাহুল্য, এদিন ইসলাম ধর্মকে জিহাদী শক্তি বলে উল্লেখ করে পুলিশকর্মী জানান, “ইসলামদের ধর্মগ্রন্থেই একজন মুসলিম বিধর্মী বা অন্য ধর্মের ব্যক্তিকে নির্যাতন করতে পারবে, এলাকা ছাড়া করতে পারবে এমনকি যেখানে দেখবে সেখানেই অত্যাচার করতে পারবে এমন নির্দেশ দেওয়া আছে।” এদিন নিজের যুক্তির স্বপক্ষে প্রমাণ দিতে হাতে ইসলাম ধর্মগ্রন্থ কুরান তুলে নেন ওই পুলিশ কর্মী। সব মিলিয়ে, ইসলাম ধর্মের বিরুদ্ধে সরাসরি তোপ দেগে দক্ষিণবঙ্গবাসীর উদ্দেশ্যে সরকার পরিবর্তনের ডাক দেন ওই ব্যক্তি। তবে ওই ব্যক্তি আদৌ কলকাতা পুলিশ কর্মী কিনা হলেও ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি কতটা সত্য তা যাচাই করে দেখেনি India Hood।

(ভাইরাল হওয়া ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করেনি India Hood। ভিডিওটিতে উপস্থাপক যা বলেছেন সেটা সম্পূর্ণ তাঁর নিজস্ব অভিজ্ঞতা এবং মতামত। এখানে আমাদের নিজস্ব কোনও বক্তব্য নেই। ভাইরাল হওয়া ভিডিওটির সাথে India Hood কর্তৃপক্ষের কোনও সম্পর্ক নেই।)