বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: এবার থেকে বিশ্বভারতীতে (Visva-Bharati University) পড়ানো হতে পারে চিকিৎসা বিজ্ঞান। সেই মর্মেই বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ ছাড়পত্র চেয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে। শোনা যাচ্ছে, এই বিশ্ববিদ্যালয়েই তৈরি হবে মেডিকেল কলেজ এবং আলাদা হাসপাতাল। কয়েকটি রিপোর্ট অনুযায়ী, সম্পূর্ণ AIIMS এর আদলে মেডিকেল কলেজ গড়ে তুলতে চাইছে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। তাতে অবশ্য আপত্তি থাকার কথা নয় কেন্দ্রের। তাই আংশিক আবেদনের পর ছাড়পত্র মিললেই ধাপে স্বপ্ন পূরণের দিকে এগোবে শান্তিনিকেতনের বিশ্ববিদ্যালয়।
বিশ্বভারতীতে মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল হলে চিকিৎসা পাবেন সবাই?
বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মেডিকেল কলেজ এবং হাসপাতাল তৈরির প্রস্তাবে সবুজ সংকেত দিতে পারে কেন্দ্রীয় সরকার। আর সেটা হলে সোনায় সোহাগা। এ নিয়ে বিশ্বভারতীর ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক অতিগ ঘোষ জানালেন, “দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বভারতীতে মেডিকেল কলেজ এবং হাসপাতাল তৈরির চেষ্টা চলছে। এখানকার উপাচার্য চান এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরেই AIMS এর আদলে একটা মেডিকেল কলেজ এবং হাসপাতাল তৈরি করতে। সেটা হলে এখানে চিকিৎসার সুবিধা পাবেন সবাই। শুধু তাই নয়, উন্নতি হবে পড়ুয়াদেরও।
বলাই বাহুল্য, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাবনা-চিন্তা এবং প্রকৃতি প্রেম থেকেই বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের পথচলা শুরু। 2023 সালের 17 সেপ্টেম্বর দিনটিতে রবি ঠাকুরের এই বিশ্ববিদ্যালয়কে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ তকমা দিয়েছিল ইউনেসকো। কমবেশি সকলেই জানেন, করোনা মহামারীর সময় শান্তিনিকেতনের প্রবীণ আশ্রমিকদের চরম সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছিল। আর সেখান থেকেই নতুন করে ভাবনা জেগে ওঠে যদি বিশ্বভারতীতে আলাদা করে মেডিকেল কলেজ এবং হাসপাতাল গড়ে তোলা যায়। বর্তমানে সেই ভাবনা নিয়েই একটু একটু করে হচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

অবশ্যই পড়ুন: মা ক্যান্টিনে সপ্তাহে এবার দুদিন করে মিলবে মাছ-ভাত, বাকি ৫ দিন কী থাকবে? জানালেন মুখ্যমন্ত্রী
যদিও, এই মুহূর্তে বিশ্বভারতীতে পুরনো দুটি হাসপাতাল রয়েছে। যার মধ্যে একটি দীনবন্ধু অ্যান্ড্রুজ মেমোরিয়াল এবং অন্যটি পিয়ারসন মেমোরিয়াল হাসপাতাল। শোনা যাচ্ছে, এই পুরনো দুই হাসপাতালেকে নতুন মেডিকেল কলেজ এবং হাসপাতালের সাথে যুক্ত করা হতে পারে। কয়েকটি সূত্র মারফত খবর, বিশ্বভারতীতে এই মুহূর্তে পর্যাপ্ত প্রচুর জমি রয়েছে। কেন্দ্রের চূড়ান্ত ছাড়পত্র পাওয়া গেলে নতুন মেডিকেল কলেজ এবং হাসপাতাল তৈরিতে আর যাই হোক অন্তত জমির অভাব হবে না। সব মিলিয়ে বলাই যায়, বিশ্বভারতীতে মেডিকেল কলেজ এবং হাসপাতাল তৈরি করা গেলে ছাত্র-ছাত্রীরা যেমন সবদিক থেকে সমৃদ্ধ হতে পারবেন সেই সাথে শান্তিনিকেতনের দূরদূরান্তের বাসিন্দারাও জটিল রোগের চিকিৎসা পাবেন এখানেই। তাছাড়া নতুন মেডিকেল কলেজ এবং হাসপাতাল তৈরি করার পর বিশ্বভারতীতে চিকিৎসা বিজ্ঞানের পঠন-পাঠনও শুরু করা হবে বলেই খবর।










