সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে দুর্নীতি বা তোলাবাজির সঙ্গে কোনও আপস করা হবে না এ কথা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রথমেই জানিয়েছিলেন। এমনকি সম্প্রতি দুর্নীতির রুখতে হেল্পলাইন নম্বর চালু করা হয়েছে নবান্নের তরফ থেকে। তবে এবার তোলাবাজি বন্ধ নিয়ে বিরাট মন্তব্য করলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya)। তাঁর স্পষ্ট দাবি, রাজ্যজুড়ে এখনও পর্যন্ত তোলাবাজি সম্পূর্ণ বন্ধ হয়নি। তবে তার বিরুদ্ধেই এবার কড়া হুঁশিয়ারির নিদান দিলেন রাজ্য সভাপতি।
তোলাবাজি নিয়ে কী বললেন শমীক?
এদিন তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দুর্নীতি এবং তোলাবাজির বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিয়েছেন। এমনকি সম্প্রতি পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষও কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তাঁর কথায়, “বাংলায় প্রথমবার বিজেপি সরকার গঠন করেছে। সরকারের এখনও তিন মাসও বয়স হয়নি। তবে সমস্ত সমস্যার সমাধান এখনও পর্যন্ত হয়নি। আমি যদি আমার দলের পক্ষ থেকে দাঁড়িয়ে আপনাদেরকে বলি, আমি সমস্ত জায়গায় তোলাবাজি বন্ধ করে দিতে পেরেছি, তাহলে অবশ্যই ভুল বলছি। একটা পদ্ধতির মধ্যে দিয়ে মানুষ দীর্ঘদিন চলে গিয়েছে। একটা সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছে। ক্ষমতার পরিবর্তনের সঙ্গে সমস্ত কিছু পরিবর্তন হয়েছে। বদল হয়ে গিয়েছে। এমন নয়।”
শমীকের আরও সংযোজন, “কেউ কেউ ৪ ঘণ্টার মধ্যেই শাসকদলে যোগদান করে ফেলেছে। আমাদের দলেরই কারও কারও মধ্যে বাসনা ছিল। যেগুলি এতদিন অতৃপ্ত অবস্থায় ছিল, সেগুলি এখন ফুটে বেরিয়েছে। তবে এটি অস্বীকার করলে মিথ্যাচার হবে। আমার দলের পক্ষ থেকে চেষ্টা করছি নিয়ন্ত্রণ করার। আমি আবারও বলছি, পুরোপুরি যে করতে পেরেছি এরকমটা নয়। আমাদের রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কঠোরভাবে এগুলিকে বন্ধ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে দলের নাম নিয়ে তোলাবাজি করছেন। দলে কিন্তু কেউ আসেননি। আমরা কাউকে গ্রহণ করিনি। অথচ আমাদের দলের নাম নিয়ে তোলাবাজি করার চেষ্টা করা হচ্ছে।”
আরও পড়ুন: ৩.১৫ লক্ষ কোটি টাকা বরাদ্দ, আরও ৫ বছর চালবে পিএম কিষান, ঘোষণা কেন্দ্রের
তিনি আরও জানান, “আমাদের দলের পক্ষ থেকে সাংগঠনিকভাবে যেটা করার সেটা অবশ্যই করেছি। কিন্তু দুই-এক জায়গায় বিচ্যুতি রয়েছে। এই ব্যাপারে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে চলবে। তবে আমরা আরও ১৫ দিন দেখছি।” পাশাপাশি এ বিষয়ে কড়া মন্তব্য করেছেন রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, “সংস্কৃতি তো আর রাতারাতি পরিবর্তন হয় না। আমাদের কাছে খবর রয়েছে। যা কিছু ঘটছে তার জন্য পুলিশের কাছে অভিযোগ জানানো হচ্ছে। এমনকি আমাদের পার্টির লোকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানো হয়েছে।”










