প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: অবশেষে আজ থেকে শুরু হতে চলেছে, ২০২৭ সালের জনগণনার (West Bengal Census) প্রথম ধাপ, যা সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে হতে চলেছে। কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে, এই ‘সেল্ফ এনুমারেশন’ পর্বে (Self-Enumeration of Census) প্রথম ১৫ দিন সাধারণ মানুষ নিজেরাই অনলাইনে তথ্য জমা দেওয়ার সুযোগ পাবেন। এরপর দ্বিতীয় ধাপে জনগণনা (Census 2027) আরও দ্রুত, স্বচ্ছ ও নির্ভুল করার লক্ষ্য নিয়ে গণনাকারীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে সেই তথ্য যাচাই করবেন। জানা গিয়েছে, কলকাতা পুরসভার প্রশাসক ও কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে এই সম্পূর্ণ প্রক্রিয়ার তদারকি করছেন।
আজ থেকেই শুরু সেল্ফ এনুমারেশন
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আজ অর্থাৎ ১ আগস্ট থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত চলবে ‘সেল্ফ এনুমারেশন’ পর্ব। এটি স্বাধীনতার পর ১৬তম জনগণনা এবং স্বাধীন ভারতের ৮ম জনগণনা। আর এবারের জনগণনা হবে সম্পূর্ণ ডিজিটাল প্রযুক্তিনির্ভর। গণনাকারীদের মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সূত্রের খবর, জনগণনার জন্য se.census.gov.in এই ওয়েবসাইটে করতে হবে ফর্ম ফিলাপ। সকাল ১০টার পর থেকে অনলাইনে চলবে সেল্ফ এনুমারেশন, মোট ৩৩টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে নাগরিককে। এই প্রথম জনগণনায় জাতিভিত্তিক তথ্যও সংগ্রহ করা হবে। এরপর ১৬ আগস্ট থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়িতে বাড়িতে চলবে ভেরিফিকেশন।
ফেব্রুয়ারি মাসে শুরু হবে দ্বিতীয় ধাপ
প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, জনগণনার এই বিশাল প্রক্রিয়া সুষ্ঠু ভাবে সম্পন্ন করার জন্য কলকাতাকে মোট ৮,১১২টি ব্লকে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি ব্লকে গড়ে প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ জন বাসিন্দা থাকছেন। এবং কর্মী পিছু ১৮০ থেকে ২০০টি পরিবারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কলকাতা পুরসভার কর্মী এবং সরকারি স্কুলের শিক্ষকদের ‘এনুমারেটর সুপারভাইজার’ হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। কিছুদিন আগেই তাঁদের তিন দিনের বিশেষ প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে। যদি কেউ ১৫ আগস্টের মধ্যে অনলাইনে এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে না পারেন, তাঁদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থাও থাকছে। ১৬ আগস্ট থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সরাসরি বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করবেন জনগণনা কর্মীরা। এরপর আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত হবে জনগণনার দ্বিতীয় পর্যায়।
আরও পড়ুন: শ্রাবণী মেলায় মোটা আয় রেলের, বিপুল ভক্ত সমাগম ভেঙে দিল রেলের ২০২৫-র রেকর্ড
প্রসঙ্গত, সাধারণ মানুষের মধ্যে জনসচেতনতা বাড়াতে ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে বিশেষ কার্টুনের সাহায্যে প্রচার শুরু হয়েছে। এছাড়াও ডিজিটাল জনগণনায় সাধারণ মানুষকে উৎসাহিত করতে স্কুল পড়ুয়াদের যুক্ত করা হয়েছে। অষ্টম শ্রেণি থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা এই সচেতনতামূলক কর্মসূচিতে অংশ নেবেন বলে জানা গিয়েছে। যাঁরা ইতিমধ্যেই অনলাইনে আবেদন করেছেন, তাঁদের কাছ থেকে ১১ সংখ্যার আইডি নম্বরটি সংগ্রহ করে কর্মীরা দেওয়া তথ্যের সত্যতা যাচাই করে নেবেন। তবে অনলাইনে কেউ ভুল তথ্য জমা দিলে কর্মীরা তা চিহ্নিত করে সরাসরি প্রশাসনকে জানাবেন।










