বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: বয়স মাত্র 11 বছর। যে বয়সটায় নিজের ভালোটকুও বুঝতে পারে কচিকাঁচারা, সেই বয়সেই গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে (Guiness World Records) নাম তুললো উত্তর 24 পরগনার মধ্যমগ্রামের যশমিতা দত্ত (Yashmita Dutta)। মাত্র এক মিনিট সময় নিয়ে 20টি মিউজিক্যাল কর্ড চিনে ফেলেছিল সে। আর সেই সূত্র ধরেই নিজের প্রতিভার জোরে বিশ্বরেকর্ড গড়ল এই খুদে বাঙালি। কোনটা F Sharp, কোনটা G Minor কয়েক সেকেন্ডে ধরে ফেলে সে। মেয়ের এমন কীর্তিতে উচ্ছ্বসিত গোটা পরিবার।
আগেও বড় রেকর্ড গড়েছিল যশমিতা
মধ্যমগ্রামের বাসিন্দা ছোট্ট যশমিতার ঘরটা পুরো বাদ্যযন্ত্রের সাজানো। সেখানে গেলে দেখা যাবে, কোথাও রয়েছে গিটার কোথাও আবার রাখা রয়েছে হারমোনিয়াম। ঘরের কোনও এক কোণে সযত্নে গুছিয়ে রাখা রয়েছে অন্যান্য বাদ্যযন্ত্র। এছাড়াও দেওয়ালে সাজানো রয়েছে খুদে প্রতিভার নানান সব অ্যাচিভমেন্ট। সঙ্গে রয়েছে নানান সার্টিফিকেট। এবছর মাত্র এক মিনিটে 20টি মিউজিক্যাল কর্ড চিহ্নিত করে ওয়ার্ল্ড রেকর্ড গড়লেও এর আগের বছর অর্থাৎ 2025 এ একইভাবে 2 মিনিট 2 সেকেন্ড সময় নিয়ে 39টি মিউজিক্যাল নোট ও 20টি কর্ড চিহ্নিত করেছিল সে। সেই সূত্র ধরেই ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ড এ নাম লিখিয়ে ফেলে যশমিতা।
এখানেই শেষ নয়, বিভিন্ন রিয়ালিটি শোতে অংশ নিয়ে নিজের প্রতিভা জাহির করেছিল মধ্যমগ্রামের মেয়ে। গিটার থেকে শুরু করে কিবোর্ড, হারমোনিয়াম সহ একাধিক বাদ্যযন্ত্র বাজাতে একেবারে সিদ্ধহস্ত সে। আসলে সঙ্গীত, বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্রের প্রতি একটা আলাদা ভালবাসা রয়েছে এই বাঙালি প্রতিভার। সেই সূত্র ধরেই বিশ্ব রেকর্ডে নাম লেখানো। তবে এই সাফল্য মোটেই রাতারাতি আসেনি।
আরও পড়ুন: “ওর মধ্যে এখন থেকেই এসব..” বৈভবকে নিয়ে বড় মন্তব্য রশিদ খানের
যশমিতাকে প্রশ্ন করা হলে সে জানিয়েছিল, তাঁর গান-বাজনা প্রচন্ড ভাল লাগে। তাই ছোট থেকেই বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র বাজাতে শুরু করে সে। এছাড়াও একেবারে ছোটবেলা থেকেই বাবা-মায়ের সাথে বিভিন্ন ঘরানার গান শুনতো মধ্যমগ্রামের মেয়ে। অনেক কষ্ট করে এই সাফল্য অর্জন করেছে সে। যশমিতার কথায়, “আজ আমি খুব খুশি। এটার জন্য আমাকে অনেক হার্ডওয়ার্ক করতে হয়েছে। প্রচুর খেটেছি।” আগামী দিনে আরও বড় কিছু করে দেখানোর স্বপ্ন রয়েছে যশমিতার চোখে। তাঁর এত বড় সাফল্যে খুশি বারাসতের অ্যাডামাস ওয়ার্ল্ড স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকা থেকে শুরু করে সহপাঠীরাও।










