মধ্যবিত্তকে স্বস্তি দিয়ে কমতে চলেছে জীবনদায়ী এই দুই ওষুধের দাম

Published:

Medicine

সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ এই মুদ্রাস্ফীতির বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম হু হু করে বাড়ছে। সেখানে অনেকের কাছে ওষুধ কেনা বিশাল ব্যাপার। তবে আর চিন্তা নয়, কারণ বেশ কিছু ওষুধের দাম (Medicine Price) এক ধাক্কায় অনেকটাই কমতে চলেছে বলে খবর। ডেনমার্কের প্রথম সারির ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থা নোভো নরডিস্কের ‘সেমাগ্লুটাইড’ নামক লবণের পেটেন্টের মেয়াদ এই সপ্তাহে শেষ হয়ে যাবে। আর পেটেন্ট শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আগামী দিনে বহু ওষুধের দাম বিরাটভাবে কমতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। চলুন বিশদে জেনে নেওয়া যাক।

দাম কমবে জীবনদায়ী ওষুধের?

সংস্থাটি এই লবণ ব্যবহার করে ওজন কমানোর ওষুধ ‘ওজেম্পিক’ এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের ওষুধ ‘ভেগোভি’ তৈরি করে। পেটেন্টের কারণে, উভয় ওষুধের দামই খুব বেশি। তবে, পেটেন্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর, অন্যান্য সংস্থাগুলি সেমাগ্লুটাইড ব্যবহার করে জেনেরিক ওজন কমানোর এবং ডায়াবেটিসের ওষুধ তৈরি করতে পারবে। এতে সাধারণ মানুষের জন্য ওষুধ আরও সহজলভ্য হবে বলে খবর।

বর্তমানে, নোভো নরডিস্কের ওজন কমানোর ওষুধ ওজেম্পিকের মাসিক খরচ প্রায় ৮,০০০ থেকে ১১,০০০ টাকা। ডায়াবেটিসের ওষুধ ভেগাভির মাসিক খরচ ১৬,৪০০ টাকা পর্যন্ত। এই দামের জেরে ওষুধ কিনতে গিয়ে নাভিশ্বাস উঠে যায় আমজনতার। যদিও এখন ওষুধ বাজার বিশেষজ্ঞরা পূর্বাভাস দিচ্ছেন যে জেনেরিক ওষুধ প্রায় ৬০% সস্তা হবে। প্রাথমিকভাবে, জেনেরিক ওষুধের মাসিক খরচ ৩,০০০ থেকে ৫,০০০ টাকার মধ্যে হতে পারে। কিন্তু যে হারে ওষুধ কোম্পানিগুলির মধ্যে প্রতিযোগিতা বাড়ছে সেখানে এই দাম আরও কমে ১,৫০০ থেকে ২,৫০০ টাকায় নেমে আসতে পারে বলে খবর।

উপকৃত হবেন সাধারণ মানুষ

এক রিপোর্ট অনুযায়ী, চিনের পর ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যায় ভারত দ্বিতীয় স্থানে। ২০৫০ সালের মধ্যে ভারতে ৪৪ কোটিরও বেশি মানুষ আরও মোটা হতে পারেন বলে আশঙ্কা। ওষুধ কোম্পানিগুলোর অনুমান অনুযায়ী, ভারতের স্থূলতা-বিরোধী ওষুধের বাজার বর্তমানে প্রায় ১৫ বিলিয়ন রুপি থেকে বেড়ে ২০৩০ সালের মধ্যে ৮০ বিলিয়ন রুপিতে পৌঁছাতে পারে। সাশ্রয়ী মূল্যের ওষুধ সহজলভ্য হওয়ায়, এখন নিম্ন ও মধ্য-আয়ের রোগীরাও বৈজ্ঞানিকভাবে তৈরি ওজন কমানোর চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারবেন। এই উদ্যোগটি ভারতের জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে বলে মনে করা হচ্ছে।

google button