বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: ফের রক্তাক্ত ভারতীয় শেয়ারবাজার (Stock Market)। সোমবার বাজার খুলতে না খুলতেই বড় ধাক্কা খেল সেনসেক্স এবং নিফটি। আজ অর্থাৎ 18 মে, ভারতীয় শেয়ারবাজার খুলতেই এক ধাক্কায় সেনসেক্স পড়ল 807.71 পয়েন্ট বা 1.07 শতাংশ। এর ফলে এই মুহূর্তে সেনসেক্স দাঁড়িয়েছে 74,430.28 এ। নিফটি ফিফটি 249.75 পয়েন্ট বা 1.06 শতাংশ কমে সকাল সকাল গিয়ে দাঁড়ায় 23,393.75 এ। সপ্তাহের শুরুতেই ভারতীয় শেয়ারবাজারের এমন পতনে বিপুল আর্থিক লোকসান হয়েছে বিনিয়োগকারীদের।
কেন এত ভারী পতন দেখা গেল ভারতীয় শেয়ার বাজারে?
সোমবার বাজার খুলতে না খুলতেই নিফটি এবং সেনসেক্স এ ভারী পতন দেখে একেবারে ঘাবড়ে গিয়েছেন অভিজ্ঞ বিনিয়োগকারীরা। এ প্রসঙ্গে শেয়ার বাজার বিশেষজ্ঞদের দাবি, হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকার কারণে গোটা বিশ্বের জ্বালানি বাণিজ্য অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এমতাবস্থায় পাল্লা দিয়ে বাড়ছে অপরিশোধিত তেলের দাম। এছাড়াও অন্যান্য জ্বালানির দাম একপ্রকার আকাশছোঁয়া। ঠিক অন্যদিকে ভারতীয় রুপি ক্রমশ ডলারের বিপরীতে দুর্বল হয়ে পড়ছে। যার কারণে স্বাভাবিকভাবেই ধাক্কা খেল শেয়ারবাজার।
বলাই বাহুল্য, শেষবারের মতো ভারতীয় রুপি ডলারের বিপরীতে অনেকটাই দুর্বল হয়েছে। এই মুহূর্তে আমেরিকার 1 ডলার সমান ভারতের 96.29 রুপি। অর্থাৎ বোঝাই যাচ্ছে ভারতীয় মুদ্রার কতটা দর পতন হয়েছে। এদিকে উদীয়মান বাজার গুলিতে মার্কিন ট্রেজারি ফলন ক্রমশ বাড়ছে। আমেরিকার 10 বছরের বন্ড 4.62 শতাংশ বেড়েছে। সোমবার ভারতীয় শেয়ারবাজার রক্তাক্ত হওয়ায় ব্যাঙ্কিং সেক্টর থেকে শুরু করে আইটি, অটো এমনকি স্টিল ইন্ডাস্ট্রিতেও খারাপ প্রভাব পড়েছে।
অবশ্যই পড়ুন: বিয়ের সময় মেলে ২৫ হাজার টাকা, বন্ধ হবে রুপশ্রী প্রকল্প? জানিয়ে দিল রাজ্য
এ নিয়ে ডঃ জিওজিৎ ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেডের চিফ ইনভেস্টমেন্ট স্ট্র্যাটেজিক ভিকে বিজয়কুমার জানিয়েছেন, বৈশ্বিক সূত্রগুলি অদূর ভবিষ্যতে অভ্যন্তরীণ ভারতীয় বাজারকে চাপে রাখতে পারে। আসলে হরমুজ প্রণালী না খোলার কারণে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেল প্রতি 111 ডলারে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। অপরিশোধিত পেট্রোল এবং ডিজেলে ক্রমাগত মূল্য বৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। যা ভারতীয় শেয়ার বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। আর এই সব কারণে কেন্দ্রীয় সরকার সোনার উপর আমদানি শুল্ক চাপানো সত্বেও দাম কমছে হলুদ ধাতুটির।










