প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: আর কয়েকদিন পরেই রাজ্যজুড়ে শুরু হতে চলেছে ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Election 2026)। আর সেই নির্বাচনকে টার্গেট করেই ভোট প্রচারের নেমে পড়েছে শাসক দল থেকে শুরু করে বিরোধীরা। আজও পরিকল্পনা অনুযায়ী পাণ্ডবেশ্বরের তৃণমূল প্রার্থী নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর সমর্থনে স্থানীয় লাউদোহা মাঠে জনসভা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। আর সেখানেই বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনকে একযোগে নিশানা (Mamata Banerjee Attack BJP) করেন তিনি। তুলে আনেন কৌরব পাণ্ডবের প্রসঙ্গ।
SIR নিয়ে গর্জে উঠলেন মমতা
জনসভায় মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “তৃণমূল সরকার থাকাকালীন কাউকে NRC আর ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠাতে দেব না। আমি যদি যোদ্ধা হই, আপনারা হলেন আমার সহযোদ্ধা। যতদিন বেঁচে থাকব মানুষের ভালোবাসায় থাকব। সব বদলে দিয়ে, বিজেপি উকুন বাছছে!” এদিন জনসভা থেকে SIR নিয়ে তীব্র হুংকার দেয় মমতা। তাঁর অভিযোগ, ‘১ কোটি ২০ লক্ষ মানুষের নাম বাদ দেব বলেছিল। কিন্তু আগেই ৫৮ লক্ষ মানুষের নাম বাদ দিয়েছে। লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির নামে ৬০ লক্ষ মানুষের নাম বাদ দিয়েছে। বিজেপির নাম ঢুকিয়েছে। এগুলো বিজেপির পার্টি অফিস থেকে ঠিক হয়েছে। লিস্ট কোনও দলকে দেয়নি, প্রেসকে দেয়নি, লুকিয়ে রেখেছে! বিজেপির রাজনীতি সব রাষ্ট্রায়ত্ত সম্পত্তি বিক্রি করে দেবে। দেশটাকে ওরা বেঁচে দেবে।’
‘কৌরব পাণ্ডবের লড়াই বাংলায়’
বিজেপির সঙ্গে তৃণমূলের লড়াইকে মহাভারতের কৌরবদের সঙ্গে পাণ্ডবদের লড়াই বলে অভিহিত করেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “লড়াইটা কৌরবদের সঙ্গে পাণ্ডবদের। আমরা পাণ্ডব, বিজেপি কৌরব। বিজেপি কৌরব পক্ষ। আর তৃণমূল পাণ্ডব পক্ষ। এরা বলে ঝুট, করে লুট। আমাকেও বলছে, আমি নাকি চোর। জীবনে এক টাকা মাইনে নিই না। কারও পয়সায় চা খাই না। এবার ক্ষমতায় এসে ঘরের সামনে স্বাস্থ্য পরিষেবা দিতে দুয়ারে স্বাস্থ্য পরিষেবা দেবে আমাদের সরকার।” এদিন, পাণ্ডবেশ্বরে জনসভা থেকেই জ্বালানি সমস্যা নিয়ে বিজেপিকে একহাত নিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
কোভিডে একসঙ্গে লড়াই করার প্রতিশ্রুতি মমতার
কিছুদিন আগেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের কারণে ফের লকডাউন পরিস্থিতি নিয়ে মুখ খুলেছিলেন, আর এবার সেই নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, ‘বিজেপি মধ্যরাতের তাণ্ডবকারী দল। যা খুশি তাই করে বেড়াচ্ছে। মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কাড়ছে। ওদের আমি বিশ্বাস করি না। তবে কোভিডে যদি লড়াই করতে পারি, এবারও পারব। এদিন রান্নার গ্যাসের ক্রমবর্ধমান দাম এবং বুকিং সংক্রান্ত নিয়ম নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেন মমতা। তিনি বলেন, “নরেন্দ্র মোদি আসার আগে গ্যাসের দাম ছিল ৪০০ টাকা, আজ তা হয়েছে আকাশছোঁয়া। শুনছি ২৫ দিনের আগে নাকি গ্যাস বুকিং করা যাবে না! তাহলে বাড়ির মহিলারা কী করবেন?”
আরও পড়ুন: বিজেপির প্রচারে তৃণমূলের হামলার অভিযোগ, রণক্ষেত্র বাসন্তী! আহত পুলিশকর্মীরাও
প্রসঙ্গত, পাণ্ডবেশ্বরের সভা থেকে পুলিশ ও প্রশাসনের আধিকারিকদের বদলি নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে বিঁধেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “যাঁদের বদলি করা হচ্ছে তাঁরা সবাই ভালো অফিসার। মনে রাখবেন, ভোটটা মানুষ দেবেন।” সব শেষে তিনি মা-বোনেদের উদ্দেশ্যে জানা , ভোট ও গণনার দিনে নিজেদের অধিকার রক্ষার জন্য সবাই বাড়ি থেকে যা আছে তাই নিয়ে বেরিয়ে যাবেন।”












