UNESCO-র তালিকায় নাম উঠল রামকৃষ্ণ মিশনের

Published:

Agartala Ramakrishna Mission

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: শিক্ষাক্ষেত্রে এবার এক বড় সাফল্য অর্জন করল রামকৃষ্ণ মিশন! জানা গিয়েছে, UNESCO অ্যাসোসিয়েট স্কুলের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হল আগরতলার বিবেকনগরের রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যালয় (Agartala Ramakrishna Mission)। আর এই স্বীকৃতিতে বেশ আনন্দিত মিশনের ছাত্র সহ শিক্ষক অভিভাবকরা। অর্থাৎ বোঝাই যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের এই স্বীকৃতি নিঃসন্দেহে সকলের কাছে এক বড় অর্জন শুধু নয় বরং আগামীতে পথচলায় এক বড় অনুপ্রেরণা।

যুক্তরাষ্ট্রের স্বীকৃতি পেল রামকৃষ্ণ মিশন

সূত্রের খবর, গত বুধবার সোশ্যাল মিডিয়ায় মহারাষ্ট্রের রাজ্যপাল যীষ্ণু দেববর্মা আগরতলার বিবেকনগরের রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যালয়ের এই স্বীকৃতি ব্যক্ত করেছেন। তিনি এই ঘটনাটিকে গৌরবের আখ্যান বলে ব্যাখ্যা করেছেন। এখানেই শেষ নয়, সোশ্যাল মিডিয়ায় রাজ্যপাল যীষ্ণু দেববর্মা বিদ্যালয়ের প্রধান কাণ্ডারী তথা সচিব স্বামী শুভকরানন্দ মহারাজ সহ অন্যান্য মহারাজ, শিক্ষক-অশিক্ষক কর্মচারী এবং ছাত্রদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। আসলে এই স্বীকৃতি রাজ্যের ইতিহাসে এক উজ্জ্বল এবং গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার পাশাপাশি উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং দেশের ইতিহাসেও এক নজিরবিহীন কাণ্ড হয়ে উঠেছে।

যুক্তরাষ্ট্রে মিশনের ২০টিরও বেশি শাখা আছে

দীর্ঘকাল ধরেই, রামকৃষ্ণ মিশন যুক্তরাষ্ট্রে এবং বিশ্বজুড়ে একটি প্রতিষ্ঠিত ও স্বীকৃত আধ্যাত্মিক এবং সমাজসেবামূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করে আসছে। স্বামী বিবেকানন্দ ১৮৯৩ সালে শিকাগোর ধর্ম মহাসভায় যোগদানের পর ১৮৯৪ সালে নিউইয়র্কে প্রথম বেদান্ত সোসাইটি প্রতিষ্ঠা করেন, আর সেখান থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে রামকৃষ্ণ মিশনের কাজের সূচনা হয়েছে। সবমিলিয়ে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে ২০টিরও বেশি শাখা সক্রিয় রয়েছে এই মিশনের। নিউইয়র্ক, বোস্টন, শিকাগো এবং লস অ্যাঞ্জেলেসের মতো প্রধান এবং জনপ্রিয় শহরগুলোতে ছড়িয়ে আছে।

আরও পড়ুন: ঝড় বৃষ্টি অতীত, বাড়বে গরম! সতর্কতা দক্ষিণবঙ্গের ৫ জেলায়, আগামীকালের আবহাওয়া

জানা গিয়েছে, অ্যালডাস হাক্সলি এবং ক্রিস্টোফার ইশারউড-এর মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিরা রামকৃষ্ণ মিশনের দর্শনের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন। তাই এক কথায় বলা যায়, এই মিশন যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় দর্শন এবং বেদান্ত প্রচারের অন্যতম মাধ্যম হয়ে উঠেছে। ইতিমধ্যেই ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা, আগরতলার বিবেকনগরের রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যালয়ের প্রধান কাণ্ডারী তথা সচিব স্বামী শুভকরানন্দ মহারাজকে শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেছেন। আশা করা যাচ্ছে, এই পদক্ষেপ ভবিষ্যতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও বড় জায়গায় নিয়ে যাবে।