সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: সীমান্ত সুরক্ষার ক্ষেত্রে কোনও রকম আপস নয়। বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে মোদী সরকার। পাকিস্তান আর বাংলাদেশ সীমান্তে (Borders of India) অনুপ্রবেশ এবং চোরাচালান রুখতে অভিনব নিরাপত্তা পরিকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) জানিয়েছেন, দেশের সীমান্তকে সম্পূর্ণ অবৈধ অনুপ্রবেশমুক্ত করতে একটি বিশেষ চতুষ্কোণ নিরাপত্তা গ্রিড (Quadrangular Security Grid) গড়ে তোলা হবে। আর তার আওতায় বিএসএফ, সেনাবাহিনী, স্থানীয় প্রশাসন এবং সীমান্ত এলাকার গ্রামবাসীরা একসঙ্গে কাজ করবে।
কী এই চতুষ্কোণ নিরাপত্তা গ্রিড?
রাজস্থানের বিকানের কাছে অবস্থিত ভারত-পাক সীমান্তের সাঞ্চু পোস্টে বিএসএফের সঙ্গে এক বিশেষ সম্মেলনে ভাষণ দেওয়ার সময় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এই পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন। তিনি জানিয়েছেন যে, সীমান্তকে সম্পূর্ণ অনুপ্রবেশমুক্ত বা জিরো ইনফিল্ট্রেশন করতে এই চার স্তরের নিরাপত্তা বলয় ভারতের জন্য তুরুপের তাস হিসেবে কাজ করবে।
তাঁর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, সীমান্ত রক্ষা কোনও একটি নির্দিষ্ট বাহিনীর দায়িত্ব নয়। এটি সম্মিলিত আঞ্চলিক কর্তব্য। এই নতুন মডেলে নিরাপত্তায় চারটি স্তম্ভ একসঙ্গে কাজ করবে। প্রথমত, প্রথম সারির দিকে প্রহরী হিসেবে দিনরাত সীমান্ত পাহারা দেবে বিএসএফ, এবং তারা অবৈধ গতিবিধি রুখবে। দ্বিতীয়ত, সেনাবাহিনী থাকবে বিএসএফ-এর সঙ্গে সমন্বয় রেখে সীমান্ত পারে যে কোনও বড়সড় সামরিক বা কৌশলগত চ্যালেঞ্জগুলিকে জবাব দেওয়ার জন্য। তৃতীয়ত, সীমান্ত এলাকার পঞ্চায়েত বা পৌরসভার মতো প্রশাসনিক বিভাগগুলির সঙ্গে সমন্বয় রাখতে তাদের সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন কাজ করবে। এবং চতুর্থত, সীমান্ত ঘেঁষা গ্রামের বাসিন্দাদেরকে জাতীয় সুরক্ষায় অংশীদার গড়ে তোলা হবে। তারা সজাগ এবং সচেতন থাকলে চোরাচালান এবং অনুপ্রবেশ বন্ধ হবে।
The BSF, the Army, border residents, and the local administration together constitute the “Four-pronged Security Grid” for borders. Securing borders is not an isolated duty, but a territorial responsibility. pic.twitter.com/icuvhJlLKX
— Amit Shah (@AmitShah) May 26, 2026
আরও পড়ুন: রাজ্যজুড়ে বেআইনি লোটা খেলা, জুয়ার আড্ডা বন্ধের নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর
এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, সীমান্ত সুরক্ষার ক্ষেত্রে দেশের সাধারণ মানুষের সহযোগিতাও গুরুত্বপূর্ণ। গ্রামবাসীদের অনুপ্রবেশ আর চোরাচালানের ক্ষতিকর দিকগুলি সম্পর্কে সচেতন করতে হবে। তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন, বিএসএফের কার্যক্ষেত্র সীমান্ত থেকে ১৫ কিলোমিটারের পরিধি বাড়িয়ে ৫০ কিলোমিটার করার পেছনে উদ্দেশ্য ছিল গ্রামবাসীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সমন্বয় আরও পাকাপোক্ত করা। এমনকি সীমানার কাছাকাছি যে কোনও সন্দেহজনক নির্মাণ রুখতে বিএসএফকে বিশেষ নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। এই ধরনের পরিস্থিতি দেখা দিলেই স্থানীয় জেলা প্রশাসনকে সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।










