PNG নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের গড়িমসি, ফল ভুগছেন সাধারণ মানুষ, কী বলছে কেন্দ্র?

Published:

PNG Gas

সহেলি মিত্র, কলকাতা: ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে যুদ্ধ থামার নাম নেই। এদিকে যুদ্ধের প্রভাব নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস থেকে শুরু করে আমজনতার হেঁশেলেও পড়েছে। রান্নার গ্যাস কিনতে গিয়ে রীতিমতো ঝটকা খেতে হচ্ছে সকলকে। এহেন অবস্থায় এখন ভরসা পিএনজি (PNG)  বা পাইপবাহিত গ্যাস। ইতিমধ্যে বাংলার বহু মানুষের ঘরে ঘরে রয়েছে পিএনজি গ্যাস (PNG Gas)। যদিও এবার এই পিএনজি গ্যাস নিয়ে সামনে উঠে এল এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। এই পিএনজি গ্যাসের কাঠামো নিয়ে দিল্লি অবধি কোনো সহযোগিতা গেল না বলে অভিযোগ।

PNG গ্যাস নিয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

গোটা বিষয়টি সম্পর্কে জানতে হলে পিছিয়ে যেতে হবে ১৮ মার্চ। সেই সময়ে কেন্দ্র সরকারের তরফে বাংলা সহ দেশের বিভিন্ন রাজ্যকে পিএনজি গ্যাসের উপকারিতা নিয়ে একটি বিশেষ চিঠি পাঠানো হয়েছিল। চিঠিতেও বলা হয়েছিল এই পিএনজি গ্যাসের সুবিধা নিলে ১০ শতাংশ অতিরিক্ত বাণিজ্যিক গ্যাস বন্টনের সুবিধা মিলবে। বাড়ির পাশাপাশি সরকারি হাসপাতাল, স্কুল, কলেজ, হোস্টেল, ক্যান্টিন, রেস্তোরা, কমিউনিটি কিচেন, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে যাতে পিএনজি গ্যাস পরিষেবা দেওয়া যায় সে সম্পর্কে জানানো হয়েছিল। তবে সেক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ সরকার যেন বেঁকে বসেছে।

প্রস্তাব মানতে নারাজ পশ্চিমবঙ্গ সরকার!

এই ঘটনার প্রায় একমাস পড়ে গেলেও পশ্চিমবঙ্গের তরফে কোনো রকম প্রস্তাব বা সহযোগিতার বার্তা দিল্লি অবধি পৌঁছায়নি বলে পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক সূত্রে খবর।  এই প্রসঙ্গে বড় বার্তা দিয়েছেন পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব সুজাতা শর্মা। তিনি। সেই সময়ে বলেছিলেন, ‘১৮টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে অতিরিক্ত সিলিন্ডারের যোগান দিচ্ছি, কারণ তারা এই নিয়ম মেনে কাজ করছে। তবে এই ১৮টি রাজ্যের মধ্যে বাংলা নেই।’

এদিকে দিল্লি, মুম্বাই সহ দেশের একাধিক শহরেই এই পিএনজি পরিষেবা রয়েছে এবং তা খুব ভালোভাবেই চলছে। ফলে যুদ্ধের প্রভাব সেক্ষেত্রে অনেকের ওপর পড়েনি। তবে ব্যতিক্রম পশ্চিমবঙ্গ। পিএনজি গ্যাস  না থাকায় এলপিজি নিয়ে যথেষ্ট সমস্যায় পড়তে হয়েছে বাংলার মানুষকে। সেক্ষেত্রে দায়ী করা হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পিএনজি গ্যাস পরিষেবা না নেওয়ার মনোভাবকেই। এই নিয়ে অনেকে আক্ষেপ অবধি করতে শুরু করেছেন। সেইসঙ্গে সাধারণ মানুষকেও এগিয়ে আসার বার্তা দেওয়া হয়েছে। কলকাতা শহর ও সংলগ্ন এলাকায় এই পরিষেবার বরাত রয়েছে বেঙ্গল গ‍্যাস কোম্পানির হাতে। সংস্থার সিইও অনুপম মুখোপাধ্যায় জানান, ‘বর্তমানে কল‍্যাণী, বারাসত, শ‍্যামনগর, ব‍্যারাকপুরে কাজ হচ্ছে। কিন্তু চন্দননগরে কাজ বন্ধ। পাশাপাশি, কলকাতায় রাস্তা খোঁড়ার খরচের হার ঠিক না হওয়ায় মাত্র ৩.৫ কিলোমিটার লাইন পাতা গিয়েছে। রাজ‍্য প্রশাসন সূত্রের খবর, ভোটের কারণে এখন কাজ হচ্ছে না। যা হবে, ৪ মে-র পরে।’

আরও পড়ুনঃ ‘পেনশন মেটাতে প্রকল্প বন্ধ, অফিসের আসবাব বিক্রি করুন,’ রাজ্যকে ‘নিদান’ হাইকোর্টের

বেঙ্গল গ‍্যাস সংস্থার সিইও অনুপম মুখোপাধ্যায় জানান, “ভোটকে সামনে রেখে কার্যত কাজ বন্ধ। রাজ্যের কিছু অঞ্চলে সামান‍্য সংযোগ রয়েছে। বাংলায় পাইপ গ‍্যাস চালু হতে অন্তত তিন বছর লাগবে। শুধু সরকারকে নির্দেশ দিলেই হবে না। মানুষকেও গুরুত্ব বুঝে এগিয়ে আসতে হবে।”