কল্যাণকে আক্রমণ, রেশন থেকে চাকরি দুর্নীতি তুলে তৃণমূলের সব পদ ছাড়লেন কাকলি

Published:

Kakoli Ghosh Dastidar

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: তৃণমূলের সব পদ ছাড়লেন বারাসাতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার (Kakoli Ghosh Dastidar)। দলের শীর্ষ নেতৃত্বদেরই নিশানা করলেন তিনি। আসলে গতকাল কল্যাণীতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক বৈঠকে কাকলি সহ তৃণমূল বিধায়কদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গিয়েছিল। সেখান থেকেই মিলেছিল ইঙ্গিত। অবশেষে সেই জল্পনাতে সিলমোহর দিয়েই সমস্ত পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সীকে চিঠি পাঠিয়েছেন তিনি। তবে সেখানে নাম না করেই শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে বেনজির আক্রমণ করেছেন কাকলি।

তৃণমূলের সমস্ত পদ ছাড়লেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার

সুব্রত বক্সিকে পাঠানো চিঠিতে কাকলি লিখেছেন, “অত্যন্ত দুঃখ আর উদ্বেগের সঙ্গে জানাচ্ছি, আমি তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারপার্সন পদসহ দলের সমস্ত সাংগঠনিক পদ, কমিটি ও দায়িত্ব থেকে সরে আসছি।” পাশাপাশি তিনি আরজি কর থেকে শুরু করে রেশন দুর্নীতি সহ বিভিন্ন ইস্যুতে মন্তব্য করেছেন। এমনকি কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করেছেন। তিনি লিখেছেন, “পদে থাকাকালীন মহিলা সাংসদদের পর অন্য আরেকজন অশিক্ষিত অভদ্র দলীয় সাংসদের আচরণ বন্ধ করা যায় না। ঊর্ধ্বতনদের কাছ থেকে সহযোগিতা, সহানুভূতি না পেলে সেই পদে থাকার কোনও মানে হয় না।”

এমনকি তৃণমূল কংগ্রেসের দুর্নীতি নিয়েও কাকলি ঘোষ দস্তিদার এদিন একহাত নিয়েছেন। আরজি কর থেকে শুরু করে রেশন চুরি, কয়লা চুরি সংক্রান্ত একাধিক ইস্যুকে সামনে এনেছেন তিনি। ইস্তফা দিয়েই দলের বিরুদ্ধে বোমা ফাঠিয়েছেন কাকলি। না বললেই নয়, বিধানসভা ভোটে দলের বিপর্যয়ের পরই লোকসভার মুখ্য সচেতক বা চিফ হুইপের পদ থেকে কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে সরিয়ে দিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। তারপরে তিনি সমাজমাধ্যমে লেখেন যে, “এটাই এত বছরের কর্মফল।”

আরও পড়ুন: আগামী বছর থেকে IPL হতে পারে দুর্গাপুজোর সময়, বড় সিদ্ধান্তের পথে BCCI!

এদিকে গতকাল সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কাকলি ঘোষ আইপ্যাককে এক হাত নেন। তিনি বলেছেন যে, আইপ্যাকের কর্মকর্তাদের জন্যই তৃণমূল কংগ্রেসের আজ এই হাল। আর গতকাল তিনি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বৈঠকে যোগদান করেন। সেখান থেকেই তাঁর দল ত্যাগ নিয়ে জল্পনা শুরু হয়। যদিও তিনি জানিয়েছিলেন যে, সেটা ছিল শুধুমাত্র প্রশাসনিক বৈঠক। আমন্ত্রণ পাওয়ার কারণেই এসেছেন তিনি। কিন্তু আজ সেই জল্পনায় সিলমোহর দিলেন বারাসাতের এমপি।