প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বর্তমানে সীমান্তে অনুপ্রবেশ নিয়ে রাজ্য এবং কেন্দ্রের মধ্যে সংঘাত ক্রমেই বেড়ে চলেছে। এমনকি নির্বাচনের (West Bengal Election 2026) প্রাক্কালে SIR নিয়েও জট কিছুতেই কাটতে চাইছে না, রীতিমত ক্ষোভের মুখে পড়ছে নির্বাচন কমিশন। এমতাবস্থায় বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে আসা অনুপ্রবেশকারীদের ভোটের মুখে নাগরিকত্ব (CAA Citizenship) দিল কেন্দ্রীয় সরকার। সূত্রের খবর বিভিন্ন সময় বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে ভারতে আসা জলপাইগুড়িতে (Jalpaiguri) আশ্রয়রত বাংলাদেশের ৪০ জন নাগরিককে নাগরিকত্ব দেওয়া হয়েছে। খুশির আবহ তৈরি হয়েছে এলাকায়।
আবেদনকারীদের হাতে নাগরিকত্বের শংসাপত্র
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক জানিয়েছে , জলপাইগুড়ি জেলার মাল বিধানসভা এলাকায় সবচেয়ে বেশি ক্রান্তি ব্লক থেকে CAA-তে আবেদন করা হয়েছিল। সেখানে প্রায় ৪০ জনেরও বেশি বাংলাদেশ থেকে আসা হিন্দু নাগরিক দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করলেও সংবিধানিক স্বীকৃতি পাচ্ছিলেন না তাঁরা। শেষে আবেদনের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা অত্যন্ত গোপনে আবেদনকারীদের তথ্য যাচাই করেছিলেন। এমনকি জলপাইগুড়িতে নির্দিষ্ট অফিসে যেতে হয়েছিল শুনানির জন্য। অবশেষে সেই প্রক্রিয়া সুসম্পন্ন হয়েছে। আবেদনকারীদের হাতে এসে পৌঁছেছে নাগরিকত্বের শংসাপত্র।
মালবাজারে ভারতীয় নাগরিকত্ব পেলেন অনেকে
ভোজারি পাড়া সহ বিভিন্ন এলাকায় বহু পরিবার ইতিমধ্যে নাগরিকত্বের সুবিধা পেয়েছে। ময়নাগুড়ি, রাজগঞ্জ ও জলপাইগুড়ির অন্যান্য অংশ থেকেও একাধিক আবেদনকারীর নাগরিকত্ব মঞ্জুর করা হয়েছে। সম্প্রতি ক্রান্তির সমাজসেবী রাজীব বালার কাছে ৮০ বছর বয়সি নারায়ণ মণ্ডল এবং তার স্ত্রী রেণু মণ্ডলের CAA শংসাপত্র এসেছিল তিনি সেই শংসাপত্র গত শনিবার বাংলাদেশি হিন্দু দম্পতির হাতে তুলে দিয়েছিলেন। তিনি জানিয়েছেন, বাংলাদেশিদের কাছে আধার বা ভোটার কার্ড থাকলেও তাঁরা বৈধ নাগরিক হন না, CAA-র মাধ্যমে তাঁদের সেই আইনি স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
আবেগপ্রবণ শরণার্থীরা
CAA শংসাপত্র পেয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন বৃদ্ধা রেণু মণ্ডল। তিনি বলেন, ‘নাগরিকত্ব বাতিল নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলাম, তবে এখন আমরা সম্পূর্ণ ভারতীয় নাগরিক। বাংলাদেশের সেই দুর্দিনের স্মৃতি এখনও মনে পড়লে চোখে জল আসে। পালাতে গিয়ে বহু মানুষকে হত্যা করেছিল বাংলাদেশের সেনা।’ মূলত রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডঃ বাবুলাল বালা বিভিন্ন এলাকায় শিবির করে এই আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সাধারণ মানুষকে সাহায্য করছেন। তাঁর কথায়, ‘সিএএ-র মাধ্যমে কারও নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার ব্যাপার নেই, সবটাই কেন্দ্রীয় সরকারের নাগরিকত্ব প্রদানের একটি প্রক্রিয়া।’
আরও পড়ুন: ‘২০ কোটি হাতবদল’, ED-র হাতে গ্রেফতার হওয়া IPAC ডিরেক্টর ভিনেশ চান্ডেলকে চেনেন?
নির্বাচনের আবহে CAA শংসাপত্র নিয়ে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের মাল টাউন সভাপতি তথা রাজ্য পরিযায়ী শ্রমিক বোর্ডের সদস্য পুলীন গোলদার দাবি করেছেন, CAA বিজেপির কাছে ভোট প্রচারের অংশ, একদিকে কয়েক লক্ষ বৈধ ভোটারদের নাম বাদ পড়েছে, অন্যদিকে কেন্দ্রীয় সরকার ভারতীয় নাগরিকত্বের শংসাপত্র প্রদান করছে, তাও আবার বিধানসভা নির্বাচনের সময়ে। যদিও CAA-কে নির্বাচনের হাতিয়ার হিসেবে মনে করছে না বিজেপি এমনটাই দাবি তাঁদের।










