সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ (Middle East War) পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালীকে (Strait of Hormuz) কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক অস্থিরতার মাশুল চোকাতে হচ্ছে এবার ভারতের কৃষি খাতকে। হ্যাঁ, ভারতের সবথেকে মূল্যবান রফতানি পণ্য বাসমতি চাল গভীর সংকটের মুখে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলিতে চাল পাঠানোর বাণিজ্য করিডর অচল হয়ে পড়ার কারণে প্রায় ৪ লক্ষ টন বাসমতি চাল (Basmati Rice) এখন ভারতের বন্দরে পড়ে রয়েছে। এমনকি কিছু পরিমাণ চাল সমুদ্রের মাঝ পথেই আটকে রয়েছে। ফলে কৃষকদের উপর যে চাপ সৃষ্টি হচ্ছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
পরিসংখ্যানে ভয়াবহতা
বিগমিন্টের এগ্রি বিজনেস প্রধান অভিষেক গোভিলকর এই সংকটের ভয়াবহতা তুলে ধরে জানিয়েছেন, পরিস্থিতি সাধারণ মানুষের অনুমানের থেকেও ভয়ংকর। স্বাভাবিক সময়ে হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন ১৩০ থেকে ১৫০টি জাহাজ চলাচল করত। আর বর্তমানে তা ৯০ শতাংশের বেশি কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১০ থেকে ১১টিতে। এমনকি ভারতের পশ্চিম উপকূল থেকে মধ্যপ্রাচ্যে পণ্য পাঠানোর খরচ গত এক মাসে ২০ থেকে ২২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। আর এই বাড়তি খরচের বোঝা পড়ছে রফতানিকারকদের উপরেই।
সবচেয়ে বড় ব্যাপার, ভারতের মোট বাসমতি রফতানির ১২ থেকে ১৩ শতাংশ কেবলমাত্র ইরানে যায়। আর গোটা মধ্যপ্রাচ্যের হিসাব ধরলে এই নির্ভরতা অনেকটাই বেশি। গোভিলকর জানাচ্ছেন, রাতারাতি মধ্যপ্রাচ্যের বিকল্প বাজার খুঁজে পাওয়া কার্যত অসম্ভব। গত কয়েক মাসে ইউরোপ এবং আমেরিকায় রফতানি কিছুটা বাড়লেও তা মধ্যপ্রাচ্যের বিশাল চাহিদার তুলনায় অতি নগণ্য।
আরও পড়ুন: টোল ছাড়াই হরমুজ পেরোচ্ছে ভারতের জাহাজ, জানিয়ে দিল ইরান
যুদ্ধবিরতি কি তাহলে সমাধান দেবে?
প্রসঙ্গত, আমেরিকা, ইজরায়েল এবং ইরানের মধ্যে ১৫ দিনের সাময়িক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হলেও তা রফতানিকারকদের খুব একটা সস্তা দেয়নি। আর সবথেকে বড় ব্যাপার, ইসলামাবাদে আয়োজিত ইরান এবং আমেরিকার আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার কারণে আবারও যুদ্ধ পরিস্থিতি ভয়াবহতার রূপ নিচ্ছে। এদিকে ভারত থেকে হরমুজ অঞ্চলে পৌঁছতে একটি জাহাজের ১২ থেকে ১৩ দিন সময় লেগে যায়। তাই মাত্র ১৫ দিনের যুদ্ধবিরতির ভরসায় শিপিং কোম্পানিগুলি এখনই যে পূর্ণমাত্রায় পরিষেবা শুরু করবে এমন সাহস পাচ্ছে না। পাশাপাশি বন্দরে এবং মাঝপথে যে বিপুল পরিমাণ চালের বস্তা আটকে রয়েছে, যাতায়াত স্বাভাবিক হলেও সেই জট কাটাতে অনেকটাই সময় লাগবে।










