‘জয় শ্রী রাম’ বললেই ভিজিটে ৫০০ টাকা ডিসকাউন্ট! নোটিস IMA-র, অনড় চিকিৎসকও

Published:

Jay Shree Ram Controversy

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ক্রমেই এগিয়ে আসছে ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Election 2026), তাই বঙ্গ জুড়ে রাজনৈতিক পারদ যেন বেশ চড়ছে। এমতাবস্থায় চিকিৎসকের রোগী দেখার মধ্যেও এবার দেখা গেল ধর্ম–রাজনীতির ছায়া! চেম্বারে ঢুকে ‘জয় শ্রীরাম’ (Jay Shree Ram) বললেই নাকি ৫০০ টাকা ডিসকাউন্ট মিলবে কনসাল্টেশন ফি-তে। আবার অনলাইন বুকিংয়েও ব্যবস্থা করা হয়েছে। এমনই বড় অফার নিয়ে হাজির হলেন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ এক চিকিৎসক। তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে চিকিৎসক মহলে। ঘটনায় কড়া সমালোচনা IMA-র, পাঠানো হয়েছে নোটিশ।

ভাইরাল পোস্ট

সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশকুমার হাজরা নামের এক হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ সোশাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট শেয়ার করেছিলেন। যেখানে তিনি জানিয়েছিলেন – ক্লিনিকে এসে জয় শ্রীরাম বললেই মিলবে ডিসকাউন্ট! আর সেই পোস্ট ভাইরাল হতেই রীতিমত শোরগোল এবং কটাক্ষের ঝড় ওঠে। এখানেই শেষ নয় তাঁর মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে চিঠি দিয়েছে IMA–র রাজ্য শাখা। চিঠিতে বলা হয়েছে, রোগীর ধর্ম বা রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে ফি-এ বৈষম্য, সম্পূর্ণভাবে চিকিৎসা নীতি ও পেশাগত আচরণের বিরুদ্ধে। পাশাপাশি সতর্ক করে বলা হয়েছে, তিন দিনের মধ্যে মধ্যে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা না মিললে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে। এমনকি এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে জয়েন্ট প্ল্যাটফর্ম অফ ডক্টর্স ওয়েস্ট বেঙ্গল।

Jay Shree Ram Controversy

ডিসকাউন্ট নিয়ে অনড় চিকিৎসক

ডিসকাউন্ট বিতর্কের মুখে পড়েও অবস্থানে অনড় চিকিৎসক প্রকাশকুমার হাজরা। তাঁর পাল্টা অভিযোগ, ‘আমি সাধারণ মানুষকে সাহায্য করতে চাই। কোনও বাধ্যবাধকতা নেই যে জয় শ্রীরাম বলতেই হবে। যাঁরা বলবেন, তাঁরা ছাড় পাবেন। আমি বিজেপির জন্যে কিছু করতে চাই। কিন্তু এই ঘোষণার পর থেকেই আমার উপরে ফেসবুকে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে, ফোনে ধমকানো হচ্ছে। ভয় দেখানো হচ্ছে।’ জানা গিয়েছে, তিনি এর পরেও একাধিক ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে তাঁর ক্লিনিকের মোবাইল নম্বর ও কিউআর কোড স্ক্যান করে রোগীদের ছাড় নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এ নিয়ে রাজনৈতিক তরজাও বেশ জোরদার শুরু হয়েছে।

আরও পড়ুন: ছাপ্পা রুখতে ভোট কেন্দ্রে এবার বায়োমেট্রিক? নোটিস জারি সুপ্রিম কোর্টের

IMA–র রাজ্য সম্পাদক তথা তৃণমূলের চিকিৎসক নেতা ও প্রাক্তন সাংসদ শান্তনু সেন তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, ‘আমি ছাত্রজীবন থেকে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কিংবা আমার দল তৃণমূল— কেউ কখনও আমাকে আমার এই মহৎ পেশাকে কলুষিত করতে শেখায়নি, রোগীদের ধর্ম বা রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে বৈষম্য করতে তো নয়ই। লজ্জা! লজ্জা!’ বিশেষজ্ঞ মহলের একাংশ জানিয়েছে চিকিৎসা পরিষেবায় ধর্ম, রাজনীতি বা ব্যক্তিগত মতাদর্শের কোনও স্থান থাকা উচিত নয়। সেখানে এই ধরনের ঘটনা রোগীদের আস্থার ভিতকেই নড়বড়ে করে দিতে পারে।