সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ফের ভারতের অর্থনীতির জন্য সুখবর। আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে পুনরায় শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ার কারণে বিশ্ব বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে বিরাট পতন দেখা যায়। আর এর সরাসরি ইতিবাচক প্রভাব পড়ে ভারতীয় টাকার (Indian Rupee) উপরে। বুধবার বাজার খোলার পর মার্কিন ডলারের (United States Dollar) বিপরীতে ভারতীয় মুদ্রার দাম আরও ২১ পয়সা বৃদ্ধি পেয়ে ৯৩.১৭ এর স্তরে পৌঁছে যায়, যেখানে গত ১৩ তারিখ একেবারে রেকর্ড স্পর্শ করেছিল ভারতীয় মুদ্রা।
কেন বাড়ল টাকার দাম?
টাকার এই ঘুরে দাঁড়ানোর পিছনে মূলত দুটি কারণ কাজ করছে। প্রথমত, আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম রাতারাতি ৪ শতাংশের বেশি তলানিতে ঠেকেছে এবং ৯৫ ডলারের আশেপাশে ঘোরাফেরা করছে। এদিকে এর আগে ইসলামাবাদে দুই দেশের আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার কারণে এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প অবরোধের ডাক দেওয়ার কারণে তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়। তবে আমেরিকা এবং ইরান নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করায় যুদ্ধ এবং তেলের সরবরাহ বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা কিছুটা হলেও কমেছে। আর এতে বিশ্ববাজারে মুদ্রাস্ফীতির চাপ কমবে বলেই মত প্রকাশ বিনিয়োগকারীদের।
গুগলের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার সকালে প্রতি ডলারের বিনিময় মূল্য দাঁড়িয়েছে ৯৩.১৭ টাকা। গত সোমবার বাজারে বন্ধের সময় টাকার দাম ছিল ৯৩.৩৮ টাকা। অর্থাৎ মাঝখানে আম্বেদকর জয়ন্তীর ছুটির পর আজ আবারও বাজার খুলতে ২১ পয়সা সাশ্রয় হয়েছে ভারতীয় বিনিয়োগকারীদের। তবে গত ১২ এপ্রিল তেলের দাম প্রায় ৫০ পয়সা বেড়ে যায়। আর তেলের বাজার ঠান্ডা হতেই ফের শক্তিশালী হয় ভারতীয় মুদ্রা।
আরও পড়ুন: স্কুলের খাবারে বিষ! ওড়িশায় মিড ডে মিল খেয়ে অসুস্থ শতাধিক, মৃত্যু এক ছাত্রীর
এ বিষয়ে বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, টাকা শক্তিশালী হলেও তা এখনও পর্যন্ত যুদ্ধের অনিশ্চয়তা থেকে পুরোপুরিভাবে মুক্ত নয়। আরবিআই এর শর্ট পজিশন এবং তেল আমদানিকারী সংস্থাগুলি ডলার কেনার চাহিদার কারণেই টাকার দামে আগামী দিনে আবারও কিছুটা অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। কিন্তু হরমুজ প্রণালী দিয়ে শান্তি আলোচনা সফল হলে টাকার দাম আরও বাড়তে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। আর এটি ভারতের অর্থনীতির জন্যই যে লাভবান হবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।










