প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: এবার রাজ্যে দুই দফায় হতে চলেছে বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Election 2026)। প্রথম দফার ভোট ১৫২টি আসনে হতে চলেছে ২৩ এপ্রিল এবং ১৪২টি আসনে দ্বিতীয় দফা ভোট হতে চলেছে ২৯ এপ্রিল। আর এই নির্বাচনের ফল ঘোষণা হবে ৪ মে। তাই ভোটের আগে শেষ মুহূর্তের প্রচার নিয়ে বেশ ব্যস্ত প্রার্থীরা। এমতাবস্থায় শান্তিপূর্ণ ভোটপ্রদানের জন্য পোলিং বুথের (Polling Booth) ১০০ মিটার বরাবর লক্ষণ গণ্ডি টানল কমিশন (Election Commission Of India)।
পোলিং বুথে লক্ষণ গণ্ডি টানল কমিশন
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, বুথের ১০০ মিটার ঘিরে সাদা চক দিয়ে গণ্ডি কাটা হবে। আর এই অংশে ভোটার ছাড়া আর কারও প্রবেশ নিষিদ্ধ। অন্যদিকে ভোটারের নথি যাচাইয়ে এই অংশের বাইরেই থাকবেন বুথ লেভেল অফিসাররা। এছাড়াও সিসিটিভি ক্যামেরা নিয়ে বড় পদক্ষেপ নিচ্ছে কমিশন। কলকাতা পুলিশ ও রাজ্য পুলিশের সমস্ত সিসিটিভি ক্যামেরা থেকে ফুটেজ পেতে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরের কন্ট্রোলরুমে সেই ক্যামেরাগুলির নিয়ন্ত্রণ থাকবে। পাশাপাশি আচরণ বিধি নিয়েও কড়া ভূমিকায় থাকতে চলেছে নির্বাচন কমিশন।
ভোটার ইনফরমেশন স্লিপ নিয়ে কড়াকড়ি
জানা গিয়েছে, আজ, শনিবারের মধ্যে বিএলও–দের সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে ভোটার ইনফরমেশন স্লিপ বিলির কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই ভোটার ইনফরমেশন স্লিপে ভোটারের নাম-ঠিকানা, ভোটকেন্দ্রের অবস্থান, ভোটের তারিখ ও সময়সহ একটি মানচিত্র দেওয়া থাকবে। পাশাপাশি ভোটের দিন করণীয় ও বর্জনীয় বিষয়ের তালিকা। দ্রুত তথ্য যাচাইয়ের জন্য এতে একটি QR কোডও সংযুক্ত করা হয়েছে, যা ভোটারদের সুবিধা বাড়াবে এবং ভোটকেন্দ্রে ভিড় কমাতে সাহায্য করবে। দৃষ্টিহীন বা দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ভোটারদের জন্য ব্রেইল সম্বলিত অ্যাক্সেসিবল ভোটার ইনফরমেশন স্লিপ দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: নিজেকে বিশ্বাসঘাতক বললেন বায়রন বিশ্বাস, বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি তৃণমূল প্রার্থীর
কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, প্রতিটি বুথে ভোট চলাকালীন ওয়েব কাস্টিংয়ের ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে কিন্তু জানা যাচ্ছে কলকাতায় ১০০-রও বেশি বুথ এখনও বিদ্যুৎহীন। তার মধ্যে শুধু বন্দর এলাকাতেই রয়েছে ৫০টির বেশি। তাই স্বাভাবিকভাবেই বিদ্যুৎ না থাকলে সেই পরিষেবা চালানো সম্ভব নয়। ফলে স্বচ্ছ ভোট প্রক্রিয়া নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। তাই এই পরিস্থিতিতে কমিশন জানিয়েছে, যেখানে বিদ্যুৎ সংযোগ নেই, সেখানে অস্থায়ীভাবে সংযোগ দিতে হবে। প্রয়োজনে জেনারেটর বসাতে হবে, যাতে কোনওভাবেই ভোট প্রক্রিয়া ব্যাহত না হয়। একইসঙ্গে পানীয় জল ও শৌচালয়ের ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।










