পরা যাবে হিজাব, তবে বিন্দি-তিলকে নিষেধাজ্ঞা! সিঁদুর নিয়েও বিশেষ নির্দেশ, বিতর্কে Lenskart

Published:

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: কর্মীদের ড্রেস কোড সংক্রান্ত কিছু নির্দেশিকা নিয়ে বিতর্কে জড়াল দেশের জনপ্রিয় আইওয়্যার সংস্থা লেন্সকার্ট (Lenskart)। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি গ্রুমিং গাইডে দাবি করা হয়, লেন্সকার্ট তাদের কর্মীদের হিজাব পরার অনুমতি দিলেও বিন্দি, তিলক এমনকি কালাওয়ারের মতো ধর্মীয় চিহ্নে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। মূলত সে কারণেই সংস্থাটির বিরুদ্ধে দ্বিচারিতার অভিযোগ উঠেছে। আর তারপর পরপরই গোটা ঘটনায় মুখ খুলেছেন লেন্সকার্টের প্রতিষ্ঠাতা পীযূষ বানসাল।

ধর্মীয় চিহ্নে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে বিপাকে লেন্সকার্ট!

সম্প্রতি সমাজ মাধ্যমে যে ডকুমেন্ট ভাইরাল হয়েছে তাতে একেবারে খোলাখুলি জানানো হয় ভারতীয় সংস্থা লেন্সকার্ট তাদের ড্রেস কোর্ড এমনকি শরীরের কোথাও ধর্মীয় চিহ্ন ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। অভিযোগ, লেন্সকার্ট নাকি তাদের কর্মীদের একেবারে স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে বিন্দি ব্যবহার করা যাবে না। একই সাথে তিলক এমনকি ধর্মীয় কারণে ব্যবহৃত সুতো বা কালাওয়ার পরা চলবে না। ওই ডকুমেন্টে এও উল্লেখ করা হয়েছে, হিন্দু ধর্মের মহিলাদের কপালে সিঁদুর পরার ক্ষেত্রেও কিছু নির্দেশিকা দিয়েছে লেন্সকার্ট।

সংস্থাটির তরফে জানানো হয়, কপালে সিঁদুর দেওয়ার সময় যাতে সেটি কপালের অনেকটা জায়গা নিয়ে ছড়িয়ে না থাকে সেদিকে নজর রাখতে হবে। এক কথায়, একেবারে অল্প পরিমাণের সিঁদুর কপালে পরার নির্দেশ দিয়েছে সংস্থাটি। এদিকে ইসলাম ধর্মাবালম্বী মহিলাদের হিজাব এবং পাঞ্জাবী পুরুষদের পাগড়ি পরার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। একই সাথে মহিলারা দোকানে বোরখা পরতে পারবেন না বলেও নাকি জানিয়েছে লেন্সকার্ট। সোশ্যাল মিডিয়ার ভাইরাল হওয়া এমন নির্দেশিকা দেখে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, এক ধর্মের ক্ষেত্রে অনুমতি আছে অন্য ধর্মের ক্ষেত্রে বিপরীত কেন? কেন এমন দ্বিচারিতা?

অবশ্যই পড়ুন: ‘ধর্মের ভিত্তিতে মুসলিমদের সংরক্ষণ নয়’ সংসদে স্পষ্ট জানালেন অমিত শাহ

সোশ্যাল মিডিয়ায় ধর্মীয় চিহ্নের ক্ষেত্রে লেন্সকার্ট এর নিষেধাজ্ঞা নিয়ে সরব হচ্ছেন অনেকেই। তাতে কার্যত চাপে পড়ে গিয়েছে ভারতীয় সংস্থাটি। ঠিক সেই আবহে এবার বিতর্কের মুখে মুখ খুলেছেন সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা তথা CEO পীযূষ। সংস্থার উপর চাপ বাড়তে থাকায় তড়িঘড়ি বিবৃতি জারি করে পীযূষ বানসাল একেবারে স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় যে নির্দেশিকা বা ডকুমেন্ট ভাইরাল হয়েছে সেটা বহু পুরনো।

তাঁর কথায়, “আমরা সময়ের সাথে সাথে আমাদের গ্রূমিং পলিসি পরিবর্তন করেছি। এই মুহূর্তে আমাদের সংস্থায় কোনও ধর্মীয় চিহ্নের উপর নিষেধাজ্ঞা নেই। একই সাথে কর্মীদের নিজেদের ধর্ম পালনের জন্য সম্পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। যে ডকুমেন্ট নিয়ে এত বিতর্ক সেটা আমাদের বর্তমান নির্দেশিকা নয়। কর্মীরা নিজেদের ইচ্ছেমতো পোশাক এবং ধর্মীয় চিহ্ন ব্যবহার করতে পারবেন।”