প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: দোরগোড়ায় ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Election 2026)। কমিশনারের ঘোষণা অনুযায়ী আগামী ২৩ ও ২৯ শে এপ্রিল রাজ্যে দুই দফায় বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। এবং ৪ মে ভোটের ফলাফল প্রকাশিত হতে চলেছে। তাই রাজ্যে যাতে কোনরকম অশান্তি মূলক ঘটনা যাতে না ঘটে, তার জন্য কড়া সতর্কতা জারি করেছে নির্বাচন কমিশন। আর এই আবহে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (West Bengal State Election Commission) তুলে ধরল এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা গিয়েছে গত এক মাসে নগদ টাকা এবং ‘নিষিদ্ধ সামগ্রী’র প্রায় ৪১৭ কোটি টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
উদ্ধার করা হয়েছে মাদকজাত দ্রব্য
রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের CEO দফতর জানাচ্ছে, কেন্দ্রীয় সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট, নার্কোটিক কন্ট্রোল ব্যুরো (NCB), আয়করদফতর, CISF, CRPF, RPF-এর পাশাপাশি রাজ্য পুলিশের অভিযানে মোট ১৯৭ কোটি ৩৮ লক্ষ নগদ টাকা উদ্ধার হয়েছে। পাশাপাশি বাজেয়াপ্ত হয়েছে,৭৮ কোটি ৪০ লক্ষ টাকার মদ, ৯৫ কোটি ৭৫ লক্ষ টাকার মাদক, ৫২ কোটি ১৬ লক্ষ টাকার সোনা-সহ মূল্যবান ধাতু এবং প্রায় ১৭১ কোটি টাকার অন্যান্য সামগ্রী। এখানেই শেষ নয়, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি এবং বোমা উদ্ধারের কথাও জানিয়েছে কমিশন। তাই নিয়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজ্য জুড়ে।
লাইসেন্স বিহীন আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার
রিপোর্ট মোতাবেক, গতকাল অর্থাৎ বৃহস্পতিবার দুপুরে CEO-র দপ্তরে রাজ্যের ভোট পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠকের পর একটি বিবৃতি প্রকাশ্যে আনা হয়েছিল। সেখানে জানানো হয়, গত ১৫ মার্চ আদর্শ নির্বাচনী আচরণবিধি চালু হওয়ার পর থেকে ১৪ এপ্রিল রাত পর্যন্ত বাজেয়াপ্ত করা নগদ টাকা এবং ‘নিষিদ্ধ সামগ্রী’ মিলিয়ে মোট ৪১৬ কোটি ৯৩ লক্ষ ৬৮ হাজার টাকা। এছাড়াও বিবৃতিতে জানানো হয়েছে রাজ্য থেকে ৩২৭টি লাইসেন্স বিহীন আগ্নেয়াস্ত্র এবং ৫৩৯ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার হয়েছে। এ ছাড়া, ১১১০টি বোমা এবং প্রায় ১২৯ কিলোগ্রাম বিস্ফোরক উদ্ধার করেছে রাজ্য পুলিশ এবং বিভিন্ন কেন্দ্রীয় সংস্থা ও বাহিনী।
আরও পড়ুন: CBSE দশমের পরীক্ষায় ১০০% নম্বর দমদমের অনিশার, দেশে বড় নজির বাঙালি কন্যার
প্রসঙ্গত, ভোটের দিনক্ষণ প্রকাশ হওয়ায় নিয়ম অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গ-সহ চার রাজ্য এবং একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে আদর্শ আচরণবিধি শুরু হয়ে গিয়েছে। তাই সেক্ষেত্রে এখন রাজনৈতিক দলগুলি কমিশন নির্ধারিত নিয়মবিধি মেনে চলতে বাধ্য। আসলে আদর্শ আচরণবিধি হল নির্বাচন কমিশনের জারি করা একগুচ্ছ নিয়মাবলি, যা নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক দল এবং প্রার্থীদের আচরণ সম্পর্কে নির্দেশ দেয়। এর মূল উদ্দেশ্য হল একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করা। এমতাবস্থায় নিষিদ্ধ সামগ্রী সংক্রান্ত এই তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্যের ভোট ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।










