বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) আসলে ইরান এবং ওমানের আঞ্চলিক জলপথ। কিন্তু তা হলেও এই প্রণালীর উপরেই নির্ভর করে গোটা বিশ্বের জ্বালানি বাণিজ্য। বিগত দিনগুলিতে সংঘাতের কারণে এই অংশে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ কায়েম করেছে তেহরান। যার কারণে বিশ্ববাজারে তৈরি হয়েছে অস্থিরতা। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে, জ্বালানি তেলের দাম। ঠিক সেই আবহে, এবার শোনা যাচ্ছে হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে পারে ইরান। তবে গোটা অংশ নয় বরং ওমানের ভাগে থাকা হরমুজের অংশটি উন্মুক্ত করতে পারে পশ্চিম এশিয়ার এই দেশ। তাহলে কি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপেই মাথা নত করছে ইরান? উঠছে প্রশ্ন।
আমেরিকার চাপেই হরমুজ খুলছে ইরান?
গত 28 ফেব্রুয়ারি আমেরিকা এবং ইজরায়েল ইরানের উপর যৌথ হামলা চালালে মৃত্যু হয় পশ্চিম এশিয়ার এই দেশের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির। নিজেদের সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুর বদলা একেবারে ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে বুঝে নিচ্ছিল ইরান। সেজন্য প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে হরমুজ অবরুদ্ধ করে দেয় তেহরান। যার কারণে গোটা বিশ্ববাজারে তৈরি হয় জ্বালানির সংকট। আজও হরমুজে আটকে রয়েছে বহু জাহাজ। এদিকে ইরানের পদক্ষেপের ঠিক বিপরীতে গিয়ে হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত করতে উঠে পড়ে লেগেছে আমেরিকা।
এ প্রসঙ্গে ইরানকে বারবার জলপথ উন্মুক্ত করে দিতে বলেছে আমেরিকা। তাতে প্রাথমিকভাবে রাজি না হলেও দ্বিতীয় দফার চুক্তির আগে হয়তো ওমানের দিকে থাকা হরমুজের অংশ উন্মুক্ত করতে পারে এই দেশ। আসলে দীর্ঘকালীন যুদ্ধে দাড়ি যোগ করতে চাইছে তেহরানও। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আমেরিকার চাপে পড়েও যদি ইরান শেষ পর্যন্ত ওমানের দিকে থাকা হরমুজ প্রণালীর একটা অংশ খুলে দেয় সে ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের স্বার্থে জাহাজ চলাচলে আর কোনও বাধা থাকবে না। যদিও এ বিষয়ে খোলাখুলি কিছুই জানায়নি আমেরিকায় বা ইরান কেউই।
অবশ্যই পড়ুন: নতুন অধিনায়ক, সহ অধিনায়ক পেয়ে গেল ইস্টবেঙ্গল
উল্লেখ্য, ইরান এবং আমেরিকার মধ্যেকার সংঘাত থামাতে এবং বিশ্বের দরবারে নিজের গুরুত্ব বোঝাতে এগিয়ে এসেছিল পাকিস্তান। এই দুই দেশের প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক করেছিল ইসলামাবাদ। তবে বেশ কিছু সমস্যার কারণে ইরান এবং আমেরিকার মধ্যে হতে যাওয়া সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি ভেস্তে যায়। তবে সূত্রের খবর, খুব শীঘ্রই যুদ্ধে ইতি টানতে দ্বিতীয় দফার বৈঠকে বসতে পারে এই দুই দেশ।










