বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: তৃণমূল (Trinamool Congress) সরকারকে উৎখাত করেছে বাংলার মানুষ! বিকল্প হিসেবে বেছে নিয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টিকে। সেই সূত্রেই গতকাল অর্থাৎ শনিবার বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন শুভেন্দুঅধিকারী। মুখ্যমন্ত্রীর সাথে সাথে শপথ নেন আরও 5 জন মন্ত্রীও। এদিকে, দলের পরাজয় নিয়ে মুখ খুলে সাসপেন্ড হতে হয়েছে সাময়িক পদচ্যুত তৃণমূল মুখপাত্র ঋজু দত্তকে (Riju Dutta On TMC)। কিন্তু তাতেও থেমে থাকছেন না তিনি। এর আগে বিজেপির প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছিলেন ঋজু, এবার দলের পরাজয়ের সম্ভাব্য কারণ নিয়ে মুখ খুললেন তিনি। নিজের এক পুরনো বক্তব্য নিয়ে ক্ষমা চেয়ে নিলেন IPS অজয় পাল শর্মার কাছেও।
তৃণমূলের পরাজয় নিয়ে ফের মুখ খুললেন ঋজু
যে দলটা 2021 সালে 200 এর বেশি আসন নিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল তারা নাকি এবার তিন অঙ্কের ঘরেও পৌঁছতে পারেনি। মানুষের রায়ে 207টি আসন পেয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। এরই মাঝে তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয়ের কারণ খোলসা করতে গিয়ে মূলত তিনটি বিষয়ের উল্লেখ করলেন ঋজু দত্ত। প্রথম কারণ হিসেবে তুললেন আইপ্যাকের প্রসঙ্গ। তৃণমূলের তরফে সাসপেন্ড করা মুখপাত্র বললেন, তৃণমূল নামক একটা রাজনৈতিক দলকে চালিয়েছে ব্যবসায়িক সংস্থা আইপ্যাক। দিদি এবং অভিষেকদা অন্ধের মতো ওদের বিশ্বাস করেছে.. ওরা বিজেপির থেকেও টাকা নিয়েছে, আবার আমাদের থেকেও টাকা নিয়েছে।
এদিন ঋজু একেবারে খোলাখুলি বললেন, “গত ছয় মাস ধরে তৃণমূল একটা রাজনৈতিক দল। এই দলটাকে চালনা করেছে ব্যবসায়িক সংস্থা আইপ্যাক। ওরা দু দিক থেকেই সেটিং করেছে! আমাদের দলটাকে পুরো শেষ করে দিয়েছে।” এদিন তৃণমূল কংগ্রেসের পতনের সম্ভাব্য দ্বিতীয় কারণ হিসেবে ঋজু তুলে ধরেন তৃণমূলের পঞ্চায়েত স্তরের পঞ্চায়েত কর্মী থেকে শুরু করে কাউন্সিলর, পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য, স্থানীয় নেতাদের দীর্ঘদিনের অত্যাচার এবং সাধারণ মানুষের কাছ থেকে নেওয়া দিনের পর দিন নেওয়া টাকা অর্থাৎ তোলাবাজিকে। তাঁর মতে, তৃণমূলের এমন পতন এই সবকিছুর ফল।
অবশ্যই পড়ুন: “ওরা ইংরেজিতে কথা বলছে কেন?” ভারতকে ছোট করতে গিয়ে হাসির খোরাক পাক জেনারেল!
সবশেষে দলের সম্ভাব্য পরাজয়ের তৃতীয় কারণ হিসেবে ঋজু বলেন, যে মহিলাদের এতদিন তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্ক মনে করে আসতো সকলে, তাতে ধ্বস নেমে যাওয়ায় দলের এমন দুরবস্থা হয়েছে। ঋজুর কথায়, “সবচেয়ে বড় কারণ মহিলাদের সম্মান। আমরা ভেবে এসেছি 1500 টাকা করে দিচ্ছি মানেই বাংলার সব মা-বোনেরা দিদিকে ভোট দিয়ে দেবে। আপনি কিন্তু 1500 টাকা করে দিয়ে মা বোনেদের সম্মান কিনতে পারেন না। আমি দায়িত্ব নিয়ে বলতে পারি, নিচু স্তরের ব্লক সভাপতি এবং তারও নিচের স্তরে তৃণমূল নেতাদের হাতে বাংলার হিন্দু মহিলারা দিনের পর দিন মাস এরপর মাস অত্যাচারিত হয়েছেন।” তৃণমূলের তরফে সাসপেন্ড হওয়া ঋজুর এমন বক্তব্যের পর কেউ কেউ বলছেন, সবকিছু বোঝা সত্ত্বেও এতদিন কেন চুপ করে ছিলেন তিনি? বিজেপি জিততেই তাঁর গলা থেকে এত বৌদ্ধিক বক্তব্য বেরোচ্ছে কেন?
मैं, तृणमूल कांग्रेस के प्रवक्ता के रूप में, आईपीएस अजय पाल शर्मा के बारे में एक वीडियो बनाया था। अब मेरी पार्टी ने मुझे सच बोलने के कारण निलंबित कर दिया है।
वह क्लिप वायरल हो चुकी है और भाजपा का पूरा आक्रोश व्यक्तिगत रूप से मुझ पर आ रहा है।
मैं स्पष्ट रूप से कहना चाहता हूँ कि… pic.twitter.com/IUO48OG434
— 𝐑𝐢𝐣𝐮 𝐃𝐮𝐭𝐭𝐚 (@DrRijuDutta_TMC) May 10, 2026
অজয় পাল শর্মার কাছে নিঃস্বার্থ ক্ষমা চাইলেন ঋজু
সম্প্রতি, নির্বাচনের কাজে উত্তর প্রদেশ থেকে বাংলায় পুলিশ অবজার্ভার করে পাঠানো হয়েছিল IPS অজয় পাল শর্মাকে। তাঁকে নিয়ে বেশকিছু বিস্ফোরক মন্তব্য করতে দেখা গিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেসের নিলম্বিত মুখপাত্র ঋজু দত্তকে। এবার তৃণমূল থেকে সাসপেন্ড হওয়ার পর একটি ভিডিও বার্তায় অজয় পাল শর্মার কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে নিয়েছেন তৃণমূল থেকে সাসপেন্ড হওয়া ঋজু। সেই সাথে ওই ভিডিও বার্তায় তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তিনি IPS অজয় পাল শর্মাকে নিয়ে যা বলেছিলেন সবটাই তৃণমূল কংগ্রেসের জাতীয় মুখপাত্র হিসেবে। দলের তরফ থেকে, পার্টি লাইন অনুসরণ করে ওই ভিডিওতে বক্তব্য রেখেছিলেন তিনি। তৃণমূলের অফিসিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল গুলি থেকেও তা প্রকাশিত হয়েছে। ওই বক্তব্যে তাঁর কোনও ব্যক্তিগত মতামত নেই। এই মুহূর্তে তিনি একজন সাধারণ মানুষ।










