সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: তৃণমূল বিধায়কের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে চক্ষু চড়কগাছ পুলিশের। বিলাসবহুল বাগানবাড়ির সঙ্গে রয়েছে একটি রহস্যময় গুহা। সবমিলিয়ে ওই বাংলোর দাম কয়েক কোটি টাকা, এমনটাই মত বিশেষজ্ঞদের। কিন্তু বর্তমানে কোনও হদিস নেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুরের এই তৃণমূল বিধায়ক দিলীপ মন্ডলের (TMC MLA Dilip Mondal)। তাঁর পৈলানের বাগানবাড়িতে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। সূত্রের খবর, সোশ্যাল মিডিয়ায় দিলীপের একটি বিতর্কিত ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। তারই ভিত্তিতে এফআইআর দায়ের করা হয় এবং অভিযান চালায় পুলিশ।
বিলাসবহুল সম্পত্তি তৃণমূল বিধায়কের
বিধায়কের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হওয়ার পর আজ অর্থাৎ বৃহস্পতিবার সকালে তাঁর পৈলানের বাড়িতে অভিযান চালিয়েছিল পুলিশ এবং র্যাপ। সেই সময় দিলীপ মন্ডল বাড়িতে ছিলেন কিনা তা প্রশাসনে এখনও জানায়নি। স্থানীয় সূত্রের দাবি, পুলিশের তল্লাশি শুরু হওয়ার আগেই তিনি নাকি এলাকা ছেড়ে বেরিয়ে যান, এবং তাঁর অবস্থান কোথায় তা নিয়ে তৈরি হচ্ছে ধোঁয়াশা। পুলিশে এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনও তথ্য দেয়নি। রাজ্য সরকারের দাবি, আইন নিজের পথে চলতে শুরু করছে। কোনও রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে আর রাজনীতি বরদাস্ত করা হবে না।
This is the lavish palace of TMC MLA Dilip Mondal, the same man who openly threatened to unleash unrest and intimidate innocent people with arrogance and political muscle power.
For years, TMC leaders ruled Bengal through fear, threats, violence, and lawlessness while building… pic.twitter.com/nJBndZvGRJ
— BJP West Bengal (@BJP4Bengal) May 14, 2026
আসলে তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালাতে গিয়ে তাঁর সম্পত্তি দেখে চক্ষু চড়ক গাছে ওঠে খোদ পুলিশের। তৃণমূল বিধায়কের বিলাসবহুল জীবনযাপন দেখে অবাক হয়ে যান পুলিশ আধিকারিকরা। জানা যায়, ওই বাড়িতে একাধিক দামি গাড়ি থেকে শুরু করে সুইমিং পুল, দোলনা সহ সব কাঠের আসবাবপত্র রয়েছে। এমনকি একটা বড় এলাকা জুড়েই ওই বাগানবাড়ি অবস্থিত। এছাড়াও বাড়িতে একটি গুহা রয়েছে বলে খবর। আর সেই গুহার দরজা বালির বস্তা দিয়ে আটকানো, যা নিয়ে ঘনাচ্ছে রহস্য।
আরও পড়ুন: ‘প্লিজ প্লিজ স্যার…শেষ অনুরোধ’, হাইকোর্টে বিচারপতির কাছে হাতজোড় করে প্রার্থনা মমতার
উল্লেখ্য, ভোটের ফলাফল প্রকাশের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় তৃণমূল বিধায়ক দিলীপ মন্ডলের একটি বিতর্কিত ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছিল। সেই ভিডিওতে তাঁকে হুমকি দিতে দেখা যায়। এমনকি বলতে শোনা যায় যে, “১৫ বছর ধরে অনেক সংযম দেখিয়েছিলাম। শান্তিতে সবাইকে রেখেছিলাম। তবে এবার থেকে আর তা হবে না।” বিজেপিকে প্রকাশ্যে হুমকি দেন তিনি। আর সেই ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয় এবং আজ সেই এফআইআর-র ভিত্তিতেই পুলিশ তদন্ত চালায়।










