গোবর থেকে বানানো যাবে কাঠ! ২৫ হাজারের যন্ত্র থেকে প্রতিদিন হতে পারে ৮ হাজার আয়

Published:

Cow Dung Fuel Log Machine

অনন্যা সরকার, নয়াদিল্লি: গ্রামীণ এলাকায় খামারগুলিতে বর্ষাকালে গবাদি পশুর বর্জ্যে প্রায়শই নর্দমা আটকে যায়, যার ফলে নোংরা, দুর্গন্ধময় পরিবেশ তৈরি হয়। রোগব্যাধি ছড়ায় এবং মশা, মাছির উপদ্রবও বেড়ে যায়। এই বর্জ্যকে আয়ের উৎসে পরিণত করার লক্ষ্যে সোনিপতের ‘আরএসভিসি মানডোরা’ (RSVC Mandaura) ‘কাউ-জোন’ (CowZone) নামে একটি যন্ত্র বাজারে এনেছেন, যা গোবর থেকে জ্বালানি কাঠ বা লগ (Fuel Log) তৈরি করতে পারে। জনকপুরীর ‘দিল্লি হাট’-এ আয়োজিত দীপাবলি মেলায় এই যন্ত্রটি প্রদর্শনের সময়, সংস্থার সভাপতি দেব প্রকাশ গোয়েল সংবাদমাধ্যমের কাছে যন্ত্রটির কার্যকারিতা বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। 

গোবর থেকে তৈরি হচ্ছে জ্বালানি কাঠ 

প্রকাশ গোয়েল জানিয়েছেন যে, ৮৫,০০০ টাকা মূল্যের এই যন্ত্রটির ক্ষেত্রে ৭০ শতাংশ ভর্তুকি পাওয়া যাবে, যার মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের ৪০ শতাংশ ও হরিয়ানা রাজ্য সরকারের ৩০ শতাংশ অংশ দেবে। ফলে একজন কৃষককে প্রায় ২০,০০০ থেকে ২৫,০০০ টাকার মতো বিনিয়োগ করতে হবে। আগ্রহী ব্যক্তিরা সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রকল্পের মাধ্যমে আবেদন জানাতে পারবেন।

প্রকাশ গোয়েল বলেন, জ্বালানি কাঠের প্রয়োজনে গাছ কেটে ফেলার ফলে পরিবেশের ওপর ব্যাপক কুপ্রভাব পড়ছে এবং দূষণও দিনদিন বাড়ছে। এই উদ্যোগটি বিকল্প জ্বালানির উৎস প্রদান করার মাধ্যমে বনভূমি রক্ষা করতে পারবে। বর্তমানে অধিকাংশ গোশালাই অনুদান ও সরকারি তহবিলের ওপর নির্ভরশীল। এখানে সংগৃহীত গোবরের ৭০–৮০ শতাংশই ফেলে দেওয়া হয়, যা রোগজীবাণু বিস্তারের অন্যতম উৎস হয়ে ওঠে। এই বর্জ্যকে কাজে লাগাতে পারলে গবাদি পশুর আশ্রয়কেন্দ্রগুলো স্বাবলম্বী হয়ে উঠতে পারবে।

আরও পড়ুন: সরকারি চাকরির প্রস্তুতি ছেড়ে মুক্তোর চাষ শুরু করেন গৌরব, ২ বছরেই আয় ৫৫ লক্ষ

আরএসভিসি মানডোরার সভাপতির হিসাব অনুযায়ী, এই জ্বালানি লগ তৈরির খরচ প্রতি কেজিতে মাত্র ১ থেকে ২ টাকা, আর বিক্রয়মূল্য প্রতি কেজিতে প্রায় ১০ থেকে ১৫ টাকা হবে। ১০০টি গরুর একটি পাল থেকে প্রতিদিন গড়ে ১,০০০ কেজি (প্রতি গরু ১০ কেজি ধরলে) গোবর পাওয়া যায়। প্রকাশ গোয়েল বলেন যে, প্রতি কেজিতে ৮ টাকা মুনাফা থাকলে এর মাধ্যমে প্রতিদিন ৮,০০০ টাকা আয় করা সম্ভব। এমনকি গোবর সংগ্রহকারীদের প্রতি কেজিতে ৫ টাকা পারিশ্রমিক দেওয়ার পরেও, বিক্রেতারা যখন এই জ্বালানি লগগুলো প্রতি কেজি ১০ থেকে ১৫ টাকা দরে বিক্রি করবেন, তখনও তাঁরা নিজেদের জন্য ভালোই লাভ রাখতে পারবেন। এই উদ্যোগটি গ্রামে কর্মসংস্থান তৈরির পাশাপাশি দূষণ কমাতেও সক্ষম।

এই মেশিনটির সাথে একটি র‍্যাক বা কাঠামো রয়েছে, যেখানে গোবরের তৈরি জ্বালানি-খণ্ডগুলোকে সোজাভাবে রেখে শুকানো যায়। ফলে সেগুলোকে মাটিতে রাখার প্রয়োজন পড়ে না। রোদে শুকাতে এগুলো দুই দিন সময় নেয়, আর ঘরের ভেতর বৈদ্যুতিক পাখার সাহায্যে শুকালে ৩-৪ দিন সময় লাগে। গোয়েলের দাবি অনুযায়ী, মেশিনটি সাশ্রয়ী হওয়ার পাশাপাশি, বিদ্যুৎও কম খরচ করে। প্রতি ঘণ্টায় ৫০০ কেজি জ্বালানি-খণ্ড তৈরি করতে এতে খুব সামান্যই বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়। 

এই জ্বালানি লগগুলি দাহকার্য থেকে শুরু করে তন্দুর ও যজ্ঞের কাজ – সর্বত্রই ব্যবহার করা যেতে পারে। প্রকাশ গোয়েল এও বলেন যে, গোবর সংগ্রহ করা, মেশিনের সাহায্যে তা থেকে জ্বালানি তৈরি করা ও প্রস্তুত পণ্য বাজারে বিক্রি করার এই সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি কেবল গোশালার সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনাই নিশ্চিত করবে না বরং গ্রামবাসীদের জন্য আয়ের সুযোগও তৈরি করবে।

google button