অনন্যা সরকার, নয়াদিল্লি: সম্প্রতি দেশের অন্যতম ধনী ব্যবসায়ী মুকেশ আম্বানি (Mukesh Ambani) দিল্লির সবচেয়ে অভিজাত ও সুরক্ষিত এলাকা লুটিয়েন্স বাংলো জোনে (Lutyens’ Bungalow Zone) ৩৫০ কোটি টাকা মূল্যের একটি বাংলো কিনেছেন। রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ (Reliance Industries) স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, এই বাংলোটি আম্বানি পরিবারের ব্যক্তিগত বাসস্থান হিসেবে ব্যবহৃত হবে না। পৃথ্বীরাজ রোডে অবস্থিত এই বিলাসবহুল বাংলোটিকে দিল্লিতে আসা রিলায়েন্সের আধিকারিক ও কর্মচারীদের জন্য কর্পোরেট গেস্ট হাউস হিসেবে ব্যবহার করা হবে। সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে যে, গত জুলাই মাসের শেষের দিকে প্রায় ৩৬.৭ মিলিয়ন ডলার বা কর ছাড়া প্রায় ৩৫০ কোটি টাকায় এই চুক্তিটি চূড়ান্ত হয়েছে।
৩৫০ কোটির বাংলোটি আম্বানিদের ব্যক্তিগত বাসস্থান নয়
জুলাই মাসের শেষের দিকে ৩৫০ কোটি টাকায় (কর ছাড়া ৩৬.৭ মিলিয়ন ডলার) লুটিয়েন্স জোনের এই বাংলোটির ডিল চূড়ান্ত করে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ। কোম্পানির তরফে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, সম্পত্তিটি আম্বানি পরিবারের নিজস্ব বাড়ি হবে না। পরিবর্তে, এটি দিল্লি সফরে আসা কর্মচারীদের জন্য একটি গেস্ট হাউস হিসাবে ব্যবহৃত হবে। জানিয়ে রাখি, বিখ্যাত লুটিয়েন্স জোন খবরের শিরোনামে থাকে কারণ এটি রাজধানীর অন্যতম অভিজাত ও সুরক্ষিত এলাকা। বাংলোটির অবস্থানই ব্যাখ্যা করে কেন এই চুক্তিটি নিয়ে এত চর্চা চলছে। লুটিয়েন্স বাংলো জোনে বাস করেন দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা থেকে শুরু করে সরকারি কর্মকর্তা ও ভারতের একাধিক ধনী ব্যবসায়ী পরিবার।
আগে কে ছিলেন এই বাংলোটির মালিক?
এই সম্পত্তির আগের মালিক ছিলেন ডঃ ভূপেন্দ্র কুমার মোদী। ভারতের বেসরকারি টেলিযোগাযোগের সূচনার দিনগুলি যাদের মনে আছে, তাঁরা বি কে মোদীর নাম শুনে থাকবেন। টেলিকম শিল্পে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন তিনি। বিখ্যাত মোদী ব্যবসায়ী পরিবারের সদস্য বি কে মোদী আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির সাথে অংশীদারিত্বের জন্য ভারতের ‘জেভি কিং’ অর্থাৎ জয়েন্ট ভেঞ্চার কিং নামে পরিচিত।
আরও পড়ুন: টাটা থেকে মারুতির গাড়ি, স্মার্টফোন! উৎসবের মরশুমে বাড়ছে সবকিছুর দাম
তিনি জেরক্স (Xerox), অ্যালকাটেল (Alcatel), অলিভেত্তি (Olivetti) এবং টেলস্ট্রার (Telstra) মতো গ্লোবাল কোম্পানিগুলির সাথে ভারতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তাঁর সংস্থা, মোদী টেলস্ট্রা, ১৯৯৫ সালে ভারতে প্রথম সেলুলার মোবাইল পরিষেবা চালু করেছিল। পরবর্তীতে, তাঁর স্পাইস ব্র্যান্ডটি দেশের মোবাইল হ্যান্ডসেট বাজারে একটি সুপরিচিত নাম হয়ে ওঠে। বি কে মোদি পরবর্তীতে তার সমগ্র কর্পোরেট কর্মক্ষেত্রটি সিঙ্গাপুরে স্থানান্তর করেন এবং ২০১২ সালে সেখানকারই নাগরিকত্ব লাভ করেন। তিনি স্মার্ট গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান। তাঁর ব্যবসা বর্তমানে স্বাস্থ্যসেবা এবং প্রযুক্তি ক্ষেত্রে বিস্তৃত।










