সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: অবশেষে দেশের বাজারে স্বস্তির হওয়া। ট্রাম্পের এক ঘোষণার পরেই হু হু করে দাম কমল অপরিশোধিত তেলের (Brent Crude Price)। আসলে সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানের বিরুদ্ধে হামলা বন্ধ করতে মার্কিন সেনাবাহিনীকে কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ডামাডোল আপাতত শেষ বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সেই কারণেই রবিবার রাতে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৫ শতাংশের বেশি কমেছে।
কমছে মার্কিন ও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম
জানা যাচ্ছে, রবিবার রাতে মার্কিন অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি কমেছে ৫%, এবং এখন নতুন দাম দাঁড়িয়েছে ৮০.৭৯ ডলার। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ব্রেণ্ট ক্রুড ওয়েলের দামও প্রায় ৫% কমেছে, এবং এখন ব্যারেল প্রতি দাম দাঁড়িয়েছে ৮৩.৮৭ ডলার। বিশেষ করে ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইজরায়েল ইরানের উপর হামলা চালানোর পর থেকেই তেলের দাম ঊর্ধ্বগতি। এমনকি সম্প্রতি তা প্রায় ১২০ ডলার পর্যন্ত ছুঁয়ে গিয়েছিল। দীর্ঘ পাঁচ মাস ধরে চলছে এই সংঘাত। একাধিকবার যুদ্ধ বিরতির চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও তা ভেঙেছে। কারণ, তৈলবাহী জাহাজগুলোর উপর হামলা চালিয়েছে আমেরিকা। সেই কারণে লেগেই রয়েছে হরমুজে অস্বস্তি।
তবে আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রুড ওয়েলের দাম বাড়ার কারণে ভারত সহ বিভিন্ন দেশে পেট্রোল, ডিজেল সহ অন্যান্য জ্বালানির দাম একেবারে ঊর্ধ্বগতিতে। ফলে যানবাহনের ভাড়াও অনেকটাই বেড়েছে। এমনকি কিছু কিছু দেশের পেট্রোল এবং ডিজেলের ঘাটতি এতটাই মাথাচাড়া দিয়ে দাঁড়িয়েছে যে রেশনিং ব্যাবস্থা চালু করতে হয়েছে সরকারকে। পাশাপাশি স্কুল-কলেজ পর্যন্ত বন্ধ রাখা হচ্ছে। আর সবথেকে বড় ব্যাপার, সরকারকে হাজার হাজার কোটি টাকা লোকশানের মাধ্যমেই তেল বিক্রি করতে হচ্ছিল।
আরও পড়ুন: “বাবার টাকায় নয়…” তাহলে কীভাবে বিদেশে পড়াশোনা করলেন অভিজিৎ?
যদিও হ্যাঁ, আজ অপরিশোধিত তেলের দাম কিছুটা কমেছে। কিন্তু এই দরপতনের জেরে যে ভারত সহ অন্যান্য দেশে পেট্রোল-ডিজেলের দাম কমবে এমনটা নয়। কারণ, দেশের বাজারে তেলের দাম নির্ভর করে সরকারের নির্ধারিত রেটের উপরেই। এমনকি সবথেকে বড় ব্যাপার, তেলের দামের এই বৃদ্ধির কারণে ডলারের বিপরীতেও দেশীয় মুদ্রার দাম দিনের পর দিন তলানির দিকে ঠেকছে। এখন দেখার, আদৌ দেশের বাজারে তেলের দাম কোনও পরিবর্তন আসে কিনা।










