অনন্যা সরকার, কলকাতা: পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সারা বিশ্বে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। ভারতেও পড়েছে এর প্রভাব। এই আবহে এবার কেন্দ্রীয় সরকার বিকল্প চ্যানেলের মাধ্যমে ভর্তুকি-বিহীন (Non-Subsidized) ছোট গ্যাস সিলিন্ডার (LPG Cylinder) বিক্রির ওপর জোর দিচ্ছে। এই উদ্দেশ্যে ডিলারদের বিক্রয় ক্যাম্প আয়োজন করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভর্তুকি-বিহীন ছোট সিলিন্ডারগুলোর দাম প্রতি মাসে ওঠা নামা করে। চলতি মাসে এর দাম ১,৭১০ টাকা, যেখানে সাধারণ ১৪ কেজির ভর্তুকিযুক্ত এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৯৭০ টাকা। কিন্তু সরবরাহের ঘাটতি থাকার কারণ দেখিয়ে এলপিজি কোম্পানিগুলো ডোমেস্টিক ১৪ কেজির সিলিন্ডারের নতুন সংযোগ দেওয়া বন্ধ রেখেছে, অথচ ১০ কেজির সিলিন্ডারের কানেকশন অবাধে দেওয়া হচ্ছে।
ছোট সিলিন্ডারের বিক্রি বাড়ানোর উদ্যোগ
ছোট সিলিন্ডার বিক্রির জন্য ডিলারদের মধ্যে প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে এবং তারা প্রায়ই বিভিন্ন জায়গায় ক্যাম্প খুলে গ্রাহকদের আকর্ষণ করতে চাইছেন। ১০ কেজির গ্যাস সংযোগ নিতে গ্রাহকদেরকে দিতে হয় ৪,৮৯৬ টাকা। আর ওভেন ছাড়া সরকারি ভর্তুকিযুক্ত ডোমেস্টিক ১৪ কেজির সংযোগের খরচ হত ৩,৯৭৮ টাকা মতো। ছোট সিলিন্ডার পেতে এখন গ্রাহকদের কোনো অপেক্ষাই করতে হচ্ছে না, মাত্র একটি নথি জমা দিয়েই কয়েক ঘণ্টার মধ্যে কানেকশন মিলছে ও ডেলিভারি কর্মীরা গ্রাহকের বাড়িতে পৌঁছে যাচ্ছেন সিলিন্ডার নিয়ে।
গ্রাহকরা বলছেন, যদি সত্যিই গ্যাস সিলিন্ডারের ঘাটতি থাকত, তবে কোম্পানিগুলো এমন ক্যাম্পের মাধ্যমে ভর্তুকিহীন সিলিন্ডার বিক্রি করতে পারত না। অথচ, কেউ ১৪ কেজির কানেকশনের জন্য কোম্পানির অফিসে গেলে নানা অজুহাতে তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। বড় সিলিন্ডারের কানেকশনে লাভের হার তুলনামূলকভাবে কম, কিন্তু ছোট সিলিন্ডার বিক্রি করে ভালো মুনাফা পাওয়া যায়।
আরও পড়ুন: ফের কমে গেল সোনা, রুপোর দাম! আজকের রেট
এলপিজি সরবরাহকারী সংস্থার এক কর্মকর্তা অবশ্য বলেন যে, কারও নামে আগে থেকেই ১৪ কেজির সংযোগ থাকলেও, তিনি বাড়িতে ব্যবহারের জন্য ছোট ১০ কেজির সিলিন্ডার নিতে পারেন। বিভিন্ন কর্মজীবীরা প্রায়শই অন্য জেলায় বদলি হন কিন্তু আগের বাসস্থানে তাদের নামে গ্যাস কানেকশনটি বহাল থাকে। এর দরুন আগে নতুন সংযোগ পাওয়া তাদের জন্য সমস্যার ছিল, কিন্তু ছোট সিলিন্ডার নেওয়ার ক্ষেত্রে তেমন কোনো বাধা নেই।
আরও পড়ুন: ‘হনুমান চালিশা পড়ে হনুমানরা’, সনাতনীদের নিয়ে বাম নেতার মন্তব্যে তুমুল বিতর্ক
তবে এক গ্রাহকের বলছেন, গ্যাসের দাম এমনিতেই আকাশ ছুঁয়েছে, এখন কোম্পানিগুলোও নতুন পদ্ধতির মাধ্যমে জনগণের কাছ থেকে বেশি টাকা হাতানোর ফন্দি করেছে। আবেদন করার সাথে সাথেই ছোট সিলিন্ডার পাওয়া যায়, অথচ সাধারণ ১৪ কেজির সিলিন্ডারের কানেকশন পেতে প্রচুর কাঠখড় পোড়াতে হয়। আরেক ব্যক্তি উল্লেখ করেছেন যে, গ্যাস সিলিন্ডারের দাম বেড়ে যাওয়ায় গ্রামের অনেক পরিবার আবারও কাঠ, কয়লার উনুনে রান্না করার পথে ফিরে গেছেন। জনগণের স্বস্তি দিতে গ্যাসের দাম যেখানে কমানো দরকার, সেখানে এমন একটি নতুন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে যা আরও ব্যয়বহুল।










