সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: দেশের শ্রম ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনতে চারটি নতুন শ্রম কোড (New Labour Code) চালু করছে কেন্দ্র সরকার। আর সেগুলি কার্যকর হলে কর্মীদের বেতন কাঠামো থেকে শুরু করে কাজের সময়, ছুটির নিয়মেও বিরাট রদবদল আসতে চলেছে। কেন্দ্র সরকারের নতুন শ্রম কোড অনুযায়ী, এবার থেকে নাকি কর্মীদের (Employee) সপ্তাহে চারদিন কাজ করতে হবে এবং তিনদিন ছুটি। এমনকি প্রভিডেন্ট ফান্ড থেকে শুরু করে গ্র্যাচুইটি এবং অন্যান্য নিয়মেও আসছে বদল।
সপ্তাহে চারদিন কাজ
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, দৈনিক কাজের সর্বোচ্চ সময় এবার ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সপ্তাহে মোট কাজের সময় ৪৮ ঘণ্টার বেশি হওয়া যাবে না। সেক্ষেত্রে যদি কোনও প্রতিষ্ঠান দিনে ১২ ঘণ্টা কাজ করায়, তাহলে কর্মীরা সপ্তাহে চারদিন কাজ করতে পারবে, এবং তিনদিন ছুটি নিতে পারবে। তবে অবশ্যই এই নিয়ম কার্যকর করা প্রতিষ্ঠানের নিজের নীতির উপরে নির্ভর করবে।
বেতন কাঠামোতে বদল
নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, একজন কর্মীর মোট বেতনের অন্তত ৫০ শতাংশ হতে হবে বেসিক স্যালারি। আর বেসিক বেতন বাড়লে প্রভিডেন্ট ফান্ড এবং গ্র্যাচুইটির পরিমাণও বাড়বে। অর্থাৎ, অবসরের সময় কর্মীরা হাতে অনেক বেশি টাকা পাবে। পাশাপাশি পিএফ-র জন্য বেশি টাকা কাটা যাওয়ার কারণে কর্মীদের প্রতি মাসে হাতে পাওয়া বেতনের পরিমাণ কিছু কমতে পারে বলেই অনুমান করা হচ্ছে।
এদিকে এখন থেকে চুক্তিবদ্ধ বা ফিক্সড টার্ম কর্মীরাও গ্র্যাচুইটির সুবিধা পাবেন। এক বছর কাজ করলে তারা সেই সুবিধার আওতায় আসতে পারবে বলে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ের অতিরিক্ত কাজ করলে কর্মীদের দ্বিগুণ মজুরি দিতে বাধ্য থাকবে সেই কোম্পানি। আর বোনাসের হাত বার্ষিক আয়ের ন্যূনতম ৮.৩৩% এবং সর্বোচ্চ ২০% পর্যন্ত নির্ধারণ করা হচ্ছে।
দূর হচ্ছে লিঙ্গ বৈষম্য
এদিকে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে একই কাজের জন্য সমান বেতন নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। মহিলারা রাতের শিফটেও কাজ করতে পারবে। কিন্তু সেক্ষেত্রে তাদের নিরাপত্তা এবং যাতায়াতের বিশেষ ব্যবস্থা কোম্পানিকেই নিশ্চিত করতে হবে। আর বড় বড় সংস্থাগুলিতে ক্যান্টিন, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও জরুরী চিকিৎসা সুবিধা রাখা বাধ্যতামূলক বলে জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: খুলল বাংলার কপাল! আফ্রিকা থেকে ৪০৪৫ কোটির অর্ডার পেল কলকাতার রেল কোম্পানি
এছাড়া, ছাঁটাইয়ের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে নতুন নিয়ম আনা হচ্ছে। বড় বড় প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে কর্মী ছাঁটাইয়ের আগে সরকারি অনুমতির দরকার পড়বে। আর প্রত্যেক কর্মীকেই নিয়োগপত্র প্রদান এবং অনলাইন রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি ছাঁটাইয়ের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ক্ষতিপূরণ প্রদানও বাধ্যতামূলক বলে জানানো হয়েছে।










