সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: কার্গিল যুদ্ধ থেকে অপারেশন সিঁদুর, সবেতেই রয়েছে অবদান। সেই ভারতমাতার বীর সন্তান আশুতোষ দীক্ষিতকে (Ashutosh Dixit) বিমানবাহিনীর নতুন প্রধান হিসেবে নিয়োগ করা হল। তিনি এয়ার চিফ মার্শাল অমর প্রীত সিংয়ের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন বলেই খবর। বলা ভালো, ভারতীয় বিমানবাহিনীর ২৯ তম প্রধান হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন তিনি। আর তাঁর নেতৃত্বে দেশীয় তেজস যুদ্ধবিমানসহ দেশে গড়ে ওঠা প্রত্যেকটি প্রতিরক্ষা ও বিমান কর্মসূচি আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ওপর জোর দেওয়া হবে বলেই আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।
বিমান বাহিনীর প্রধান হলেন আশুতোষ দীক্ষিত
একাধিক রিপোর্ট অনুযায়ী জানা যাচ্ছে, এয়ার মার্শাল আশুতোষ দীক্ষিত ১৯৬৬ সালের ৯ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। কর্মজীবনের শুরুতে তিনি ১৯৮৬ সালের ৬ ডিসেম্বর ভারতীয় বিমানবাহিনীর ফাইটার শাখায় যোগদান করেন। রিপোর্ট বলছে, ন্যাশনাল ডিফেন্স একাডেমি, ডিফেন্স সার্ভিস স্টাফ কলেজ, বাংলাদেশ এবং ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের প্রাক্তন ছাত্র দীক্ষিতের বিভিন্ন ধরনের বিমানে আনুমানিক ৩৫০০ ঘণ্টার বেশি উড়ানের অভিজ্ঞতা রয়েছে। এমনকি তিনি মিরাজ-২০০০, কিরণ, জাগুয়ার, তেজসের মতো বিভিন্ন বিমান উড়িয়েছেন।
বিমান বাহিনীর উপপ্রধান হওয়ার আগে এয়ার মার্শাল আশুতোষ দীক্ষিত ইন্ট্রিগ্রেটেড ডিফেন্স স্টাফ সদর দফতরে চিফ অফ কমিটির চেয়ারম্যানের আওতায় ইন্টিগ্রেটেড ডিফেন্স স্টাফের প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি তিনি সেন্ট্রাল এয়ার কমান্ডের এয়ার অফিসার কমান্ডিং ইন-চিফ হিসেবেও একসময় কর্মরত ছিলেন। তিনি তাঁর কর্মজীবনে পশ্চিম সেক্টরে একটি ফ্রন্টলাইন ফাইটার এয়ার স্টেশন এবং দক্ষিণ সেক্টরে একটি ফাইটার প্রশিক্ষণ স্টেশনের কমান্ড ছিলেন বলেও জানা যায়। এছাড়া কার্গিল যুদ্ধ, অপারেশন সিঁদুরসহ বিভিন্ন অভিযান ও সামরিক মহড়ায় অংশগ্রহণ করেন তিনি।
আরও পড়ুন: বারাসতে সাড়ে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, হাসপাতালে চিকিৎসায়ও দেরি
এদিকে এয়ার মার্শাল দীক্ষিত কর্মজীবনে তাঁর অবদানের জন্য অসংখ্য সামরিক পুরস্কার পেয়েছেন। তাঁকে ২০০৬ সালে বায়ুসেনা পদক, ২০১১ সালে বিশিষ্ট সেবা পদক, ২০২৩ সালে অতি বিশিষ্ট সেবা পদক এবং ২০২৬ সালের পরম বিশিষ্ট সেবা পদক প্রদান করা হয় ভারত সরকারের তরফ থেকে। তাঁর এই নিয়োগের মাধ্যমে ভারতীয় বিমানবাহিনীর যুদ্ধ সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে বলেই আশাবাদী ওয়াকিবহাল মহল। এমনকি দেশীয় বিমান নির্মাণ এবং নতুন প্রযুক্তি গ্রহণের ওপরেও দেওয়া হচ্ছে বাড়তি মনোযোগ।










