মহরমের শোভাযাত্রায় ক্রেন দিয়ে শূন্যে গাড়ি তুলে বিস্ফোরণ, হাড়হিম করা ঘটনা মধ্যপ্রদেশে

Published:

Muharram Car Blast

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: মহরমের মিছিলে ক্রেনের সাহায্যে শূন্যে ঝুলিয়ে ঘটানো হয় একটি গাড়ির বিস্ফোরণ (Muharram Car Blast)। এমনকি ওই গাড়িটির উপরে দাঁড়িয়ে দু’জন যুবককে লাল পতাকা নাড়াতে দেখা যায়। আর সেখানে লেখা ছিল “আমরা আবার আসছি”। ঘটনাটি মধ্যপ্রদেশের (Madhya Pradesh)। ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক ভাইরাল হওয়ার পরপরই পুলিশ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে তিনজনকে গ্রেফতার করে ফেলেছে।

মহরমের মিছিলে হাড়হিম করা কাণ্ড

আসলে মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনী নগরে মহরমের শোভাযাত্রা চলাকালীন একদল লোক ক্রেন দিয়ে একটি টাটা ম্যাজিক গাড়িকে শূন্যে ঝুলিয়ে হঠাৎ করে তা বিস্ফোরণ ঘটায়। এ বিষয়ে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ তদন্তের দাবি তুলে স্পষ্ট জানায়, ধর্মীয় অনুষ্ঠানের নামে শক্তির এরকম বিপজ্জনক প্রদর্শন কখনও সভ্য সমাজে মেনে নেওয়া যায় না। যে ভিডিওটি ভাইরাল হয়েছে সেখানে দেখা যাচ্ছে, ক্রেন দিয়ে গাড়িটিকে আনুমানিক ৪০ ফুট উপরে তোলা হয়, এবং সেটির উপর দু’জন যুবক পতাকা নাড়ায়। তার পরপরই বিস্ফোরণের ভ্যানটি উড়ে যায়। এই ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুতর বলেই আখ্যা দেয় বিশ্ব হিন্দু পরিষদ।

এ বিষয়ে বারনগরের টিআই কমল শৃঙ্গার জানান, ২৩ জুনের মিছিল চলাকালীন ওই ভয়াবহ বিস্ফোরণটি একটি জনবহুল এলাকাতেই করা হয়েছিল। অভিযুক্তরা ওই গাড়ির ভিতরে বাজি রেখেই তা বিস্ফোরণ ঘটায়। এমনকি বাজিগুলির কারণে গাড়িটির কাঁচ ও অন্যান্য পার্টস উড়ে বেশ কিছুদূর চলে যায়। এই ঘটনা সাধারণ মানুষের জন্য ভীতি প্রদর্শন, এবং সেই সময় এলাকায় প্রচুর ভিড় ছিল। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখেই পুলিশ আদম মহল্লার বাসিন্দা গাব্বুর ছেলে শোয়েব, ভুরা খানের ছেলের জাহিদ এবং নেহেরু খানের ছেলে তাসলিমকে গ্রেফতার করেছে। এমনকি এই তিন অভিযুক্তের জন্য এলাকায় একটি মিছিল বের করা হয়। পাশাপাশি ক্রেনের মালিক গোপাল মালের বিরুদ্ধে একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: ১২০ কিমি গতিতে ছুটল ভারতের প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেন, দেখুন ভিডিও

এ বিষয়ে মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব এবং বিজেপির শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিবিদ সুনীল বানসাল রাজ্য পুলিশকে ট্যাগ করে এই ঘটনার তদন্তের দাবি জানান। বানসাল এক্স মাধ্যমে লেখেন, মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়নীতে মহরমের শোভাযাত্রা চলাকালীন ক্রেন দিয়ে একটি গাড়ি উড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুতর। দু’দিন আগে রাতের অন্ধকারে এটি কোনও সাধারণ ধর্মীয় অনুষ্ঠান ছিল না। বরং মৌলবাদীদের দ্বারা ভীতি প্রদর্শন এবং সন্ত্রাসীদের মানসিকতার নির্লজ্জ প্রকাশ ছিল। যারা ধর্মের নামে বিস্ফোরণ, ভীতি প্রদর্শনে লিপ্ত হয় তাদের বোঝা উচিত যে হিন্দুরা সন্ত্রাস এবং জিহাদি মানসিকতার সামনে কখনও মাথা নত করবে না।